ঢাকা, শুক্রবার, ৬ বৈশাখ ১৪২৬, ১৯ এপ্রিল ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

আমি কান পেতে ছিলাম || সুচন্দা

: রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৬-০৬-২৭ ৭:৩৬:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৬-০৯-০৫ ৩:০৯:২৯ এএম

আমাদের পরিচয় হয়েছিল `বেহুলা` ছবির সেটে। এটি ছিল আমার অভিনীত দ্বিতীয় ছবি। কাজ করতে গিয়ে আমরা একে অন্যের কাজের প্রতি আকৃষ্ট হই। এত ভালো কাজ করত জহির, এত সুন্দর করে ডিরেকশন দিত, সেসব দেখে আমি আকৃষ্ট না হয়ে পারিনি। এক মুহূর্তে তারও আমার প্রতি একটা ভালোলাগা এবং ভালোবাসা তৈরি হয়ে গেল। আমার কাজও হয়তো তার ভালো লেগেছিল; কতটুকু কি জানি না! তবে যতটুকু শুনেছি যে, আমার কাজ- আমার সবকিছু তার ভালো লেগেছিল। যার জন্য সেও আমাকে ভালোবেসে ফেলে।

 

যাহোক, শেষ পর্যন্ত সেই ভালোবাসা থেকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই। বিয়ে হওয়ার পর আমরা যখন সংসার শুরু করলাম, তখন সে `মনের মতো বউ` ছবিটা বানাল। আমার তো মনে হয় জহির নিজের ফিলিংস থেকেই ছবিটা বানিয়েছিল। ওই সময় ছবিটা সুপার-ডুপার হিট হয়েছিল। আর ওই ছবিটায় ব্যবহৃত ‘একি সোনার আলোয় জীবন ভরিয়ে দিলে, ওগো বন্ধু কাছে থেক, পাশে থেক’ গানটি মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল।

 

ওই সময় আরো অন্যান্য পরিচালকের ছবিতে কাজ করেছিলাম। অধিকাংশ ছবিতে রাজ্জাক ছিল হিরো, আমি হিরোইন। মানে এভাবে কাজ করছিলাম রাতে-দিনে। তখন তো এখনকার সময়ের মতো এ রকম না যে রাত ১০টা-১১টার পরে আমরা কাজ করব না। এ রকম কথা আমরা কখনো শুনিওনি, বলতেও পারিনি। আমরা ছিলাম কাজপাগল। আমরা কাজ করতে ভালোবাসতাম। চলচ্চিত্রে যারা একসঙ্গে কাজ করতাম আমাদের সম্পর্কটাই এমন ছিল যে, কখনো মনে হতো না পরিবার ছেড়ে দূরে কোথাও আছি। মনে হতো আমরা একই পরিবারের সদস্য। সে বিষয়টা অবশ্য আমরা এখন পাই না। ওই সময়ের ছবিগুলো সমৃদ্ধ হওয়ার পেছনে এটাও কিন্তু একটা কারণ ছিল। আর পরিচালকরা আমাদের কাছে ভালো কাজ আশা করতেন, আমরাও তাদের প্রত্যাশা পূরণে যথেষ্ট সচেষ্ট ছিলাম। বারবার চেষ্টা করতাম ভালোটা দেওয়ার জন্য। টাকাপয়সা, বাড়ি-গাড়ি এসবের চিন্তা আমরা মাথায় আনিনি। কাজটাকে ভালোবেসেছি। এসব  বলার কারণ হচ্ছে, কাজ নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম নতুন সংসারে দুজন দুজনকে একান্তে সময় দেওয়ার সময় পেতাম না।

 

আমাদের শিডিউল ছিল ডে-নাইট। এর ফলে জহিরের হয়তো দিনের বেলায় কাজ ছিল, সে সন্ধ্যায় ফিরছে। আর আমি তখন ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি। যতটুকু সময় দেখা হতো এককথায় বলতে গেলে শুধু হাই, হ্যালো হতো। আমি হয়তো জানতে চাইতাম, আজ কী করলে? সারা দিন তুমি বাইরে কাজ করেছো, আর আমি বাসায় ছিলাম, এখন তুমি বাসায় থাকো, ঘর পাহারা দাও। আমি কাজ করে আসি।

আমরা এ রকম মজা করে কথা বলতাম। যদিও অনেক কথা বলার সময় ছিল না আমাদের। জহির বাসায় যখন একটু ফ্রি থাকত, বই পড়ত, জার্নাল পড়ত আর অনেক সময় লোকজন ওকে একেবারে ঘিরে বসে থাকত। বাসায় অনেক বন্ধু-বান্ধব আসত ওর। ওদের আড্ডায় আমার নো এন্ট্রি অবস্থা ছিল। কেন বলছি? আমার তো জহিরের সাথে কথা বলার কোন স্কোপই থাকত না। জহিরকে চারদিকে লোক একেবারে ঘিরে বসে থাকত। সেখানে গিয়ে আমি আর কী কথা বলব!

 

এই যখন অবস্থা তখন ভালোবাসাটা চলে গিয়েছিল অন্য পর্যায়ে। আমরা কাজের ভেতর দিয়ে ভালোলাগা, ভালোবাসা, রাগ-অনুরাগ আদান-প্রদান করতাম। প্রচলিত ভালোবাসায় যে বিষয়গুলো থাকে যেমন কোথাও লুকিয়ে দেখা করা, ঘুরতে যাওয়া, ফোনে কথা বলা, রেস্টুরেন্টে যাওয়া- ও রকম  কোনো সুযোগই আসলে ছিল না। বিয়ের আগে কখনো দুজন কোথাও ঘুরতে যাইনি। আমাদের দেখা হতো শুটিং স্পটেই। আমি যখন শট দিতাম ও তখন যেভাবে দেখত, সেই ছিল চোখে চোখে কথা বলা।

 

শুটিং স্পটে অনেক মানুষ থাকত, ফলে নিরিবিলি কথা বলার সুযোগ ছিল না। কাজের কথা বলতাম। আর ও যখন ক্যামেরায় শর্ট নিত, তখন আমি সুযোগ পেলেই দেখতাম। আমি খুব খেয়াল করে দেখতাম আমি যখন শট দিতাম ও আমাকে মুগ্ধ হয়ে দেখত। সেই যে ভালোবাসা, আসলে এখন ভেবে খুবই ভালো লাগে, আমাদের ভালোবাসার প্রকাশ অন্য অনেকের চেয়ে আলাদা ছিল।

ব্যক্তি হিসেবে জহিরকে ভালোবাসিনি। চেহারা ভালো, তাকে আমার ভালো লেগেছে; আমার ক্ষেত্রে তা হয়নি। আমি কাজপাগল জহিরকে ভালোবেসেছি। জহির যখন আমাকে বিয়ে করার কথা বলেছিল, তখন আমি ওকে পরীক্ষা করার জন্য বলেছিলাম, না, এখন আমি বিয়ে করব না।

এই কথা শুনে সে বলল, তাহলে আমি আর ছবি বানাব না। আমি এই দেশেও থাকব না। আমি বিদেশে চলে যাব। তুমি কি সেটা চাও?

আমি জানতে চেয়েছিলাম, আমাকে তুমি কেন ভালোবাসলে?

সে শুধু বলল, কি জন্য ভালোবাসলাম এত কিছু বলব না। তবে আমি মনে করি তুমি অনেক মেয়ের মধ্যে অসাধারণ একটা মেয়ে। তোমার মধ্যে অসাধারণ কিছু আমি দেখেছি, আমি বুঝেছি, আমি অনুভব করেছি; তোমাকে আমার প্রয়োজন।

 

একটা কথা বলি, আমি যখন কলেজে পড়তাম তখন চিন্তা করতাম যে আমার যখন বিয়ে হবে তখন আমি শাড়ি পরব। খোঁপায় কাঁচা ফুল দেব। তাহলে আমার যে বর হবে সে আমাকে পছন্দ করবে। আমার কাছে এসে হাত ধরবে। বলবে অনেক ভালো লাগছে। চিন্তা যেহেতু ছিল বিয়ের পরের দিনগুলোতে যেদিন একটু সময় পেতাম, জহিরের যেদিন আর বাইরে কাজ থাকত না, সেদিন শাড়ি পরতাম। খোঁপা করে কাঁচা ফুল দিতাম।

সেটা দেখে জহির যেটা করত মুচকি মুচকি হাসত। কিন্তু তেমন কিছু বলত না। একটু ভিন্নভাবে দেখত। এতেই আমি বুঝে যেতাম ও খুব খুশি হয়েছে। আসলে ও কথা বলত কম। কিন্তু ওর চোখ আমাকে অনেক কথা বলত। আমি বুঝে যেতাম কী বলতে চায়, কী ওর পছন্দ হয়েছে আর কী হয়নি?

 

 বাঁয়ে সুচন্দা এখন যেমন, মাঝখানে জহির রায়হানের সঙ্গে, ডানে সুচন্দা তখন যেমন ছিলেন

 

কিন্তু একটা বিষয়ে ওর খুব জোরাজুরি ছিল। সেটা হলো, ও যখন কোনো ছবির স্ক্রিপ্ট রেডি করত তখন ওর পাশে বসতে বলত। জহির কিন্তু নিজে স্ক্রিপ্ট লিখত না। ওর যে সহকারী ছিল, তারা লিখত। জহিরের অভ্যাস ছিল খাটে বালিশের সঙ্গে হেলান দিয়ে লম্বা করে পা দিয়ে বসা। পাশে আমি বসতাম। আর সিগারেট টানতে টানতে গড়গড় করে বলে যেত দৃশ্য, সংলাপ, সঙ্গে সঙ্গে ওর সহকারী লিখে যেত। আমি প্রথম প্রথম এভাবে বলতে শুনে মনে করতাম ও বোধ হয় মুখস্থ বলছে। এত দ্রুত বলত সহকারীদের খুব তড়িঘড়ি করে লিখে যেতে হতো। একটা করে পাতা লেখা হতো আর আমাকে পড়তে দিত। আমি একটা করে পাতা পড়ে শেষ করতাম। কোনো একটা দৃশ্য যদি মনে হতো একটু বদলানো যায় তাহলে আমি ওকে বলতাম। তখন ও আমার দিকে আগে তাকিয়ে থাকত। তারপর পাতাটা হাতে নিয়ে দেখে বলত, আরে তুমি তো দেখি ভালোই বোঝ। তুমি চলচ্চিত্র পরিচালনা করো।

আমি বলতাম, আগে অভিজ্ঞতাটা সঞ্চয় করে নিই। তারপর না হয় দেব।

ও যখন ছবি সম্পাদনা করত তখন আমি ওর পাশে বসে থাকতাম। দেখতাম কীভাবে এডিট করছে। এডিটর থাকলেও অনেক সময় ও নিজেই এডিটিংয়ের কাজ করত। আমি তখনো বিভিন্ন প্রশ্ন করতাম। এই দৃশ্যের পরে কেন ওই দৃশ্য লাগালে, এটা না হয়ে ওটা হলো না কেন?

 

পরে যখন আমি চলচ্চিত্রটা আস্তে আস্তে আরো বুঝতে শুরু করলাম, তখন মনে হলো, আরে! আমার হাসবেন্ড তো অনেক জিনিয়াস।

পরবর্তীকালে আমি যখন ছবি পরিচালনা করলাম, তখন জহিরকে যেভাবে কাজ করতে দেখেছি সেভাবে করার চেষ্টা করেছি। কারণ আমি তাকে দেখে শিখেছি। সে কিন্তু আমাকে হাতে-কলমে শিখিয়ে দেয়নি।

এ সময়ে এসে আমি যখন পরিচালনায় নেমেছি এটার কারণ কিন্তু ওই সময়ে শেখা। ওই সময় একটু একটু করে স্বপ্ন বোনার কারণে আসতে পেরেছি। আমি কিন্তু বই পড়ে কোনো স্কুল-ক্লাস করে শিখিনি। পরিচালনা বলি আর অভিনয় বলি, আমাদের এখানে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শেখার সুযোগও নেই।

 

জহির রায়হানের ভালোবাসা আমার কাছে সতেজ আর সবুজ। ওর ভালোবাসা খুঁজে পেতেই ছবি পরিচালনার কাজটা করেছি। আমি চেষ্টা করেছি আমার ভালোবাসা দিয়ে শতভাগ কাজ করার জন্য। এরপর আমার আরো কিছু কাজ করার ইচ্ছা আছে যদিও বেলা শেষ হয়ে এসেছে তবুও আমি স্বপ্ন দেখছি জহির রায়হানের আর একটা গুরুত্বপূর্ণ লেখা, ‘বরফ গলা নদী’ ছবিতে রূপ দেব। মানুষের অনেকগুলো শেষ ইচ্ছা থাকে। আমার শেষ ইচ্ছার মধ্যে এইটা একটা। জানি না আমি কতটুকু পারব!

 

আসলে জহির রায়হানের লেখা আমার ভালো লাগে, কারণ ওর লেখায় নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জীবনের দুঃখকষ্ট স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ও সত্য নিয়ে সাহিত্য রচনা করে গেছে আর আমি একজন পরিচালক হিসেবে সাহিত্যভিত্তিক গল্প নিয়ে কাজ করতে বেটার ফিল করি।

আমি তো জহিরকে হারিয়ে ফেলেছি! কিন্তু জহিরকে হারিয়ে আমি বুঝতে পারিনি যে আমি জহিরকে হারিয়ে ফেললাম। মানুষ অসুখ-বিসুখ হলে যা হয়, ভালো চিকিৎসা করার সুযোগ পায়। আমি সাত দিন পর্যন্ত কান পেতে ছিলাম। ও যেভাবে সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে আসত; আমার মনে হতো এই বুঝি এলো। জহির সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে আসত। আর দরজা দিয়ে ঢুকেই আমাকে নাম ধরে ডাকত। জহির আমার জীবন থেকে চির জীবনের জন্য চলে গেছে।

 

আমি এখনো ভাবি কেন কোনো কিছু বোঝার আগেই ওকে হারিয়ে ফেললাম। একটা দুঃখ আমাকে তাড়া করে যে, আমার সন্তানেরা ওদের বাবার ডেড বডিটাও পায়নি। এমনকি ওদের বাবার নির্দিষ্ট কোনো সমাধি নেই যে সেখানে গিয়ে ওরা দুই ফোঁটা চোখের পানি ফেলবে। ওরা কখনো বলতে পারবে না যে কোন জায়গায় ওদের বাবা ঘুমিয়ে আছে বা কোথায় তাকে দাফন করা হয়েছে। আসলে ওরা তো ওদের বাবাকে ভালোমতো দেখেইনি। ওরা ওদের বাবার চেহারা কাগজে ছাড়া আর কোথাও দেখেছে বলে মনে করতে পারে না।

যাদের এই ঘটনা ঘটেছে, একমাত্র তারাই আমার ফিলিংস আমার সন্তানদের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারবে।

সত্যি কথা বলতে জহির ওর কাজের মতো সম্প্রসারিত হয়ে গেছে। কোথায় যেন কাজ করতে করতে হারিয়ে গেছে! তবে জহির রায়হান হারিয়ে গেলেও আমার মনে হয়, মানুষের মন থেকে ও কখনো হারিয়ে যাবে না, ও কখনো মুছে যাবে না। যত দিন বাংলা চলচ্চিত্র থাকবে, এই দেশ থাকবে, দেশের মানুষ আর দেশের সংস্কৃতি থাকবে, তত দিন থাকবে জহির।

কেন বলছি জানেন? শেষ যেদিন জহিরের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল ও কিন্তু বলেছিল- ফিরে আসবে। যেদিন জহির নিখোঁজ হয়ে গেল সেই দিন সকালে নাশতা শেষ করে বাইরে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল। বারবার টেলিফোন আসছিল। বিভিন্ন জন খবর দিচ্ছিল শহীদুল্লা কায়সারসহ আরো অনেকে নিখোঁজ হয়েছেন। যারা নিখোঁজ হয়েছেন তাদের অবস্থান জানা যায়নি। আবার ডেড বডিটাও পাওয়া যাচ্ছিল না। জহির তাদের খোঁজে বের হয়েছিল।

 

যদিও পত্রপত্রিকায় লেখা হয়, সে তার ভাইয়ের খোঁজে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছে। এই তথ্য সত্য নয়। সে আসলে শুধু ভাইয়ের খোঁজে বের হয়নি সেদিন। সে নিখোঁজ হওয়া সকল বুদ্ধিজীবীর খোঁজে বের হয়েছিল। যাওয়ার সময় জহির যে মোজা পরছিল আমি দেখলাম সেগুলো তার আগে পরপর দুদিন পরেছে। আরেক জোড়া মোজা এনে বললাম, আরে দাঁড়াও-দাঁড়াও। এক সেকেন্ড। এইগুলো পর।

ও ততক্ষণে একটা মোজা পরে ফেলেছে। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, আজকের মতো এই মোজাগুলো পরে যাই। আমি ফিরে আসলে তুমি ধুয়ে দিয়ো। বেডরুমের শেষ কথা বলতে জহির আমাকে এই কথায় সেদিন বলে গিয়েছিল।

 

আমরা ছিলাম যৌথ পরিবারে। আমার শাশুড়ি-ভাশুর সবাই এক বাসাতেই থাকতাম। বাসাটা ছিল দ্বিতীয় তলায়। জহির ধুপধাপ করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গেল। ও নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করত। সুতরাং গাড়ির কি লাগবে না লাগবে সেটাও ওকেই মনে রাখতে হতো। তো যাই হোক, কিছু সময় বাদে আবার ফিরে এসে বলল, সুচন্দা, আমার গাড়িতে পেট্রোল নাই। তুমি আমাকে কিছু টাকা দাও তো।

 

সে তো নিজের টাকার খোঁজও রাখত না। কোথাও চেক, কোথায় টাকা- এগুলো সব এলোমেলো হয়ে থাকত। ওর পকেটে টাকা থাকত না। আর আমারও ওর টাকা ধরার প্রয়োজন হতো না। সেদিন আমি আমার আলমারি খুলে ওকে পেট্রোলের টাকা দিলাম। টাকাটা নিয়েই আবার দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেল। সেই পায়ের আওয়াজ এখনো আমার কানে লাগে। আমি সেই শব্দ শুনি; এখনো শুনি।

 

 

 অনুলিখন : স্বরলিপি

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ জুন ২০১৬/এএন/তারা

Walton Laptop
     
Walton AC
Marcel Fridge