ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ ফাল্গুন ১৪২৩, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
Risingbd
অমর একুশে
সর্বশেষ:

আলুর দরপতনে কৃষক দিশেহারা

তানভীর হাসান তানু : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-০৭ ৩:০৯:২৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-০৭ ৩:০৯:২৯ পিএম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : লাভের আশায় আগাম জাতের আলু চাষ করেও লোকসান গুনতে হচ্ছে ঠাকুরগাঁয়ের আলু চাষিদের। মৌসুমের শুরুতে কিছুটা দাম থাকলেও এখন প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪-৫ টাকা কেজি দরে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন আলু চাষিরা।
 
কৃষি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছর ঠাকুরগাঁও জেলায় ২১,৮০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় এবং ২৩,৪১৫ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়।

বিশেষ করে সদর উপজেলার নারগুন, বেগুনবাড়ি, কহরপাড়া ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দোগাছি, মধুপুর সহ ৫/৭টি গ্রামে আগাম জাতের আলু চাষ করা হয়। আলুর আবাদও হয়েছে ভাল। মৌসুমের শুরুতে বাজারে প্রতিকেজি আলু ৩০-৩২ টাকা দরে বিক্রি হয়। ক্রমান্বয়ে আলুর দাম কমতে কমতে ১৫-২০ টাকায় পৌঁছায়। এদিকে গত এক সপ্তাহ থেকে সে দাম আরো কমে গিয়ে ৪-৫ টাকায় এসে পৌঁছেছে।

সদর উপজেলা পটুয়া গ্রামের কৃষক সাদেকুল ইসলাম জানান, তিনি এবার এনজিও থেকে বেশি সুদে ঋণ নিয়ে ২ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেন। উৎপাদনও হয়েছে বেশ ভাল। কিন্তু আলু হতে দেরী হওয়ায় তিনি এখন মহাবিপদে পড়েছেন। বাজারে আলুর দাম না থাকায় না পারছেন এনজিওর ঋণের কিস্তি দিতে না পারছেন আলু মজুদ করতে।

সদর উপজেলার নারগুন এলাকার আলু চাষি নজরুল ইসলাম জানান, তার দুই বিঘা জমিতে আলুর ফলন হয়েছে বেশ ভাল। বস্তা করা পর্যন্ত মোট খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজার মূল্য হিসেবে আলুর দাম ২৬ হাজার টাকা। এ অবস্থায় মোটা অংকের টাকা লোকসান দিচ্ছেন তিনি।


বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মধুপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ জানান, প্রতিকেজি আলু উৎপাদনে তার খরচ হয়েছে ৭-৮ টাকা। অথচ সেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতি কেজি ৪-৫ টাকা দরে। প্রতি কেজিতে ২-৩ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

জেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা জাহেরুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলার নারগুন, বেগুনবাড়ি সহ কয়েকটি গ্রামে আগাম জাতের আলুর চাষ হয়েছে বেশ। কিন্তু  বর্তমানে বাজারে দাম না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। এভাবে চলতে থাকলে জেলায় কৃষকদের আলু চাষের উৎসাহ কমে যাবে।    

 

 

 

রাইজিংবিডি/ ঠাকুরগাঁও/৭ জানুয়ারি ২০১৭/তানভীর হাসান তানু/টিপু