ঢাকা, শনিবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৬ মে ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

উৎফুল্ল এরশাদ, হাওলাদারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ

নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-০৩ ৭:১১:৪৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-০৮ ৫:৫১:০৮ পিএম

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউন করতে পেরে খোশ মেজাজে আছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

 

এজন্য তিনি সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিলেন দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদারকে। নেতাদের ডেকে মহাসচিবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সাবেক এ রাষ্ট্রপতি। একইসঙ্গে সমাবেশের জন্য যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন সেসব নেতাদেরও বাহবা জানিয়েছেন।

 

দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ১ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ব্যাপক লোকসমাগম ও মহাসমাবেশ সফল হওয়ায় উৎফুল্ল এরশাদ। কর্মসূচির পর থেকেই জাতীয় পার্টিকে নিয়ে উজ্জীবিত তিনি। প্রতি মুহূর্ত দলীয় কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর নিচ্ছেন। এমনকি বহুদিন পর তার আশা পুরণ হয়েছে, ঘনিষ্ঠজনদের কাছে এমন প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছেন সাবেক এ রাষ্ট্রপতি। মহাসমাবেশ সফলে খুশি এরশাদ নেতা-কর্মীদের দলকে সুসংগঠিত করে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছেন। ১ জানুয়ারির মহাসমাবেশে লোকসমাগম দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে এরশাদ বলেছিলেন, ‘অনেক মহাসমাবেশ দেখেছি, কিন্তু জীবনে এতবড় মহাসমাবেশ দেখিনি।’

 

দলের প্রভাবশালী এক ভাইস চেয়ারম্যান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘মহাসমাবেশের পর থেকে পার্টির চেয়ারম্যানের মুখ মলিন হতে দেখিনি। আসলে স্যার খুব খুশি। নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলছেন খোশমেজাজে। পার্টিকে নিয়ে তাকে বেশ আশাবাদী মনে হয়েছে।’

 

সূত্র আরো জানায়, পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ মহাসমাবেশের প্রতিক্রিয়া জানতে হুট করে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্মমহাসচিবদের ডাকেন। সোমবার রাতে ফোন করে নেতাদের মঙ্গলবার সকালে তার বনানী কার্যালয়ে আসতে বলা হয়। তার ডাকে সাড়া দিয়ে প্রায় ১২-১৩ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের যুগ্মমহাসচিব যথা সময়ে বনানী অফিসে উপস্থিত হন।

 

মহাসমাবেশ সফল করায় নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে এরশাদ বলেন, ‘আমার অনেক দিনের আশা পুরণ হয়েছে। মহাসমাবেশ সফল হয়েছে। এর সব কৃতিত্বই মহাসচিবের। তার অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে সম্ভব হয়েছে।’

 

এ সময় তিনি মহাসচিবের প্রশংসা করেন। তবে বড় কর্মসূচিতে আরো শৃঙ্খলা বজায় রাখার তাগিদ দেন তিনি।

 

নেতাদের উদ্দেশ্যে সাবেক রাষ্টপতি বলেন, মহাসমাবেশে কিছু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের ছোট বিশৃঙ্খলা আমাদের সব অর্জন শেষ করে দিতে পারে। তাই তিনি নেতাদের ভবিষ্যতে আরো সতর্কদৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান।

 

বৈঠকে জাতীয় পার্টির প্রাক্তন মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে নিয়েও আলোচনা হয়। 

 

নেতাদের এরশাদ বলেন, ‘আনিস-বাবলুকে নেতা-কর্মীরা ভালো চোখে দেখে না। তোমরা দেখনি! মহাসমাবেশে বক্তব্য দিতে দেওয়ায় আনিসের ওপর নেতা-কর্মীরা কীভাবে চটেছে? এ অবস্থায় বাবলুকে বক্তব্য দিতে দেই কী করে? তাকে বক্তব্য দিতে দিলে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি তৈরি হতো’।

 

বৈঠকে ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্মমহাসচিবদের সাংগঠনিক কাজে লাগানোর কথা জানান এরশাদ। তিন বলেন, এখন থেকে তোমরা মহাসচিবের সঙ্গে সবকাজ করবে। অফিসে তাদের বসার ব্যবস্থা করবেন বলেও আশ্বাস দেন সাবেক এ রাষ্ট্রপতি।

 

দলের নেতারা জানান, ২০১৫ সালে ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ ডেকেছিলেন পার্টির চেয়ারম্যান। সে সময় কর্মসূচির সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন প্রাক্তন মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দীতে সেই সমাবেশ চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। মহাসমাবেশে মাত্র ১০ হাজার লোক হয়। এনিয়ে পার্টির চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ হন এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। যার কারণে তাকে দলের মহাসচিবের পদ থেকে সরে যেতে হয়েছে। আর একই জায়গায় মহাসমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগম করে বর্তমান মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার সফল।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ জানুয়ারি ২০১৭/নঈমুদ্দীন/সাইফ

Walton Laptop
 
   
Walton AC