ঢাকা, রবিবার, ৩ পৌষ ১৪২৪, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

কমিশন নিয়ে প্রতিযোগিতাই বীমা খাতে অন্তরায়

রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-০৯-২৭ ৮:০৭:১২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-০৯ ৪:৫৪:১৫ পিএম

এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) ইমাম শাহিন। ১৭ বছর ধরে তিনি বীমা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি অভিমত প্রকাশ করেছেন, দেশে বীমা খাতের অপার সম্ভাবনা থাকা স্বত্ত্বেও এখানে ‘কমিশন’ নিয়ে যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তা হতে পারে এই খাতের অগ্রগতির অন্তরায়। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় বীমা কোম্পানিগুলোর অবিলম্বে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের কার্যালয়ে রাইজিংবিডির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিমত প্রকাশ করেন। তিনি বীমা খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা, অগ্রগতি, পরামর্শ, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাইজিংবিডির সিনিয়র রিপোর্টার এস কে রেজা পারভেজ

রাইজিংবিডি : বীমা খাতের বর্তমান পরিস্থিতি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ইমাম শাহিন :
এখন পর্যন্ত এই খাতে মোটামুটি ভালোই উন্নতি হয়েছে। এই খাতে বিরাট একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে এবং অনেক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বীমা বাজারে বিশেষ করে নন লাইফ ইন্স্যুরেন্স-এর ক্ষেত্রে বীমা বাজারের পরিধির চেয়ে কোম্পানির সংখ্যা বেশি হচ্ছে। যে কারণে বীমার ব্যবসা সংগ্রহের জন্য বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অনেকটা অসুস্থ ও অশুভ প্রতিযোগিতা বিদ্যমান।

কমিশনের বিষয়টি এমন এক পর্যায়ে চলে গেছে যে, ব্যবসা পাওয়ার জন্য এবং কোম্পানির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য আমরা কিছুটা আত্মঘাতী পদক্ষেপের দিকে যাচ্ছি। বিশেষ করে কমিশন পেমেন্টের ক্ষেত্রে যেটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কারণ হচ্ছে আমাদের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া অভাব।

ধরুন, একটি ব্যবসায় আমি যদি ১৫% অফার করি, তাহলে আমাকে ব্যবসাটি দেবেন না। দেখা গেছে, অন্য একটি প্রতিষ্ঠান এর চেয়ে বেশি কমিশন অফার করে ব্যবসা নিয়ে যাচ্ছে। এই যে একটি বোঝাপড়ার অভাব বা সুশাসনের ঘাটতি কিংবা যে মনিটরিং দরকার ছিলো তার অনুপস্থিতি।

রাইজিংবিডি : কমিশন নিয়ে প্রতিযোগিতা বলছিলেন, একটু ব্যাখ্যা করে বলবেন কি?
ইমাম শাহিন : পৃথিবীর কোথাও কোনো পণ্য পাবেন না যে পণ্যের মুল্যের চেয়ে ডিসকাউন্ট দ্বিগুন বেশি। আমাদের এখানে দেখা যায়, অরিজিনাল প্রিমিয়ামের যে মূল্য, তার চেয়ে ডিসকাউন্টের পরিমান দ্বিগুন বেশি। এমন মার্কেটিং বা এমন সার্ভিস বা পণ্য পৃথিবীর কোথাও নেই। কাজেই এভাবে চলতে থাকলে বীমা কোম্পানিগুলো বেকায়দায় পড়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত অগ্রগতি ধরে রাখতে পারবে না। যারা এই কমিশন নিচ্ছেন সেই মধ্যস্বত্ত্ব¡ভোগীরা কিন্তু আমাদের বিরাট ক্ষতি করে দেবেন।

অনেক বীমা গ্রহীতা আগে প্রশ্ন করেন, কমিশন কত দেবেন? কিন্তু ক্লেইম কিভাবে দেবেন, এই প্রশ্নটি করেন না। উনাদের বোঝা উচিত, আমি যদি ৬০%-৭০% কমিশন নিয়ে যাই তাহলে ক্লেইম হওয়ার পরে সেটি কিভাবে দেবেন? এই জিনিসগুলো আমাদের বীমা গ্রহীতারা বুঝতে চান না। তারা নগদ লাভের চিন্তা করেন। তখন যদি তারা বুঝতেন যে, আমার সিকিউরিটির জন্য ইন্স্যুরেন্স করছি, সেটি তো দিতে পারবে না বীমা কোম্পানি। কারণ, তারা যা দিচ্ছে তার চেয়ে বেশি নিচ্ছে।

তবে ব্যতিক্রম আছে। অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের বীমা কোম্পানিগুলো বেশি কমিশন অফার করলে তখন তারা তাদের ব্যবসা দিচ্ছে না। কারণ, তারা জানে, বীমা করার মাধ্যমে তারা সিকিউরিটি নিচ্ছে। দুর্ঘটনা হলে তারা সিকিউরিটি দেবেন। কিন্তু আপনি যদি এই পরিমান কমিশন দেন, তাহলে আপনার ক্লেইম দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে না। তবে এই সংখ্যা কম। কারণ সবাই শুধু নগদ লাভটি চিন্তা করেন।

রাইজিংবিডি : বীমা খাতের ব্যবসায় এতো বছরেও কমিশন নৈরাজ্যের বিষয়টির সমধান হয়নি কেন? বীমা সংগঠনগুলোর দায়িত্বশীলদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিলো বলে মনে করেন কি?
ইমাম শাহিন : অতীতে যারা এই খাতে দায়িত্বশীল ছিলেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি- ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে এই খাতটিতে আরো ভালো করতে ওইভাবে প্রত্যয় নিয়ে তারা কাজ করেননি। ওনারা ওনাদের সময়কে প্রধান্য দিয়ে চলেছেন। নিজেদের সময়ের চিন্তা না করে ওনারা যদি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য চিন্তা করতেন এবং এই শিল্পকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করতেন; তাহলে এখন যেসব সংকট এসে দাঁড়াচ্ছে সেগুলো থাকতো না।

এখন থেকে বীমা কোম্পানিগুলো সিইও নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক যাচাই বাছাই করছে। যদিও এই ধরনের সিইও’র সংকট বাজারে আছে। তবে আশা করছি, ভবিষ্যতে থাকবে না। যোগ্যরা নিয়োগপ্রাপ্ত হলে, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এলে এবং সর্বোপরি যোগ্যদের সংখ্যা বাড়লে সেই সমস্যাগুলো থাকবে না।

 

রাইজিংবিডি : কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে কমিশনের বিষয়ে এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার লাগাম টেনে ধরা যেতে পারে বলে মনে করেন?
ইমাম শাহিন : ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সিইও, মালিক পক্ষ, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এবং ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের একটি জায়গায় এসে একমত হতে হবে। এভাবে যদি কমিশন দেওয়া হয় এবং নেওয়া হয়, তাহলে এই শিল্প টিকবে না। এটা বুঝতে হবে।

প্রতিটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি চাইছে কমিশন নৈরাজ্য থেকে বেরিয়ে আসতে। কারণ, তারা আর পারছে না। আল্টিমেটলি সবার ক্ষতি হচ্ছে। সবাই এটি অনুভবও করছে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে একটি নতুন পথ বের করতে হবে। এই ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী মহল যারা আছেন বিশেষ করে ব্যাংক মহলের আন্তরিক সহযোগিতা দরকার। উনারা যখন বুঝবেন যে, এভাবে হলে হয়তো নগদ কিছু কমিশন পাচ্ছি কিন্তু ভবিষ্যতে ক্লেইম পাবো না।

এখন ইন্স্যুরেন্সের অনেকগুলো সংগঠন আছে। এসব সংগঠনের মাঝে পারস্পরিক বোঝাপড়া ভালো হচ্ছে, বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এবং একে অপরের সঙ্গে যে রিলেশন সেটির উন্নতি হচ্ছে। যে কারণে আমার মনে হয়, একটি পরিক্রমায় বীমা কোম্পানির যে সমস্যাগুলো রয়েছে তা ঠিক হয়ে যাবে।

রাইজিংবিডি : অনেকদিন ধরেই বীমা কোম্পানিগুলোর একটি অভিযোগ রয়েছে যে, ৫৮ সালের বীমা বিধিতে যে ব্যবস্থাপনা ব্যয়সীমা রয়েছে তা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কি?
ইমাম শাহিন : এটি অন্যতম একটি বড় সমস্যা। ১৯৫৮ সালের বীমা বিধিতে ব্যয়সীমার যে কথা বলা ছিলো, সেই ব্যয়সীমা দ্বারা বর্তমানে খরচ সমন্বয় করা সম্ভব নয়। কারণ, যেভাবে খরচ বেড়েছে তাতে বীমা ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ওই বিধিমালা দ্বারা আমরা পারছিলাম না। এইজন্য ব্যয়সীমা বৃদ্ধি করার দাবি  দীর্ঘদিন ধরেই বীমা শিল্পের রয়েছে।

বহুদিন পরে হলেও এটা আসছে, তবে আমার মনে হয় এতে কিছুুটা ত্রুটি রয়ে গেছে। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক ও ব্যাংকিং বিভাগ, বীমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ইন্স্যুরেন্স একাডেমিসহ সংশ্লিষ্টদের যৌথভাবে যে সুপারিশ বা সিদ্ধান্ত ছিলো সেভাবে না এসে একটু ত্রুটিপূর্ণভাবে ব্যয়সীমা আসছে এবং গেজেটও হয়েছে।

দেখা গেছে যে, ৫৮ সালের যে বিধিমালা ছিলো তার চেয়ে ৯% থেকে ২৫ % কমে আসছে। যদিও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রনের চেয়ারম্যান সাহেব বলেছেন যে, একটু ভুল হয়েছে। এটি পরিবর্তনের জন্য তিনি উদ্যোগ গ্রহন করবেন। যদি ব্যয়সীমাটা একটু বাড়ে তাহলে আমরা চেষ্টা করবো সবাই এই সীমার মধ্যে থাকার জন্য। অন্যথায় কোনো অবস্থায়ই ৫৮ সালের বিধিমালা অনুসরন করে আমরা পারবো না।

রাইজিংবিডি : অনেক প্রতিষ্ঠান বীমা বিধিতে অনুমোদিত ব্যয়সীমা অতিক্রম করে- এমন নেতিবাচক প্রচারণা আছে। বিষয়টিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন ?
ইমাম শাহিন : ব্যয়সীমা অতিক্রম করা নিয়ে অনেকে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করছেন। বলছেন যে, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো আত্মসাৎ করছে। আসলে এটির ব্যাখ্যা হয়েছে ভুলভাবে। অনেক মিডিয়াতে বিষয়টি এসেছে। কিন্তু ঘটনাগুলো এ রকম নয়। ধরুন ৫৮ সালে যে ধরনের বিধিমালা ছিলো বা যে খরচ ছিলো অনেকক্ষেত্রে দেখা গেছে তা ১৩৩% বেড়েছে। আবার কোনো কোনো খরচ ৫৮ সালের পরে এই পর্যায়ে অনেক বেশি বেড়েছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা ব্যয়সীমা আগের মতোই রয়ে গেছে। কাজেই এই সীমা দিয়ে আমি ম্যানেজমেন্ট কস্ট (ব্যবস্থাপনা ব্যয়) এডজাস্ট (সমন্বয়) করতে পারবো না। পরিচালনা ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে, সীমা অতিক্রম করতে বাধ্য। ব্যয়সীমা নিয়ে যে গেজেট হয়েছে তা একটু সংশোধিত আকারে পেতে হবে, যেন আমরা মেনে নিতে পারি।

রাইজিংবিডি : কমিশনের বিষয়টি সংস্কার আর ব্যবস্থাপনা ব্যয় নীতি সংশোধন করলেই কি এই খাত আরো অগ্রসরমান খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে মনে করেন?
ইমাম শাহিন : বীমা খাতের বাজার যেহেতু ছোট ও কোম্পানির সংখ্যা বেশি এবং পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস-আস্থার অভাব রয়েছে; সুতরাং নিজে টিকে থাকার জন্য আমরা ব্যবসা সংগ্রহ করছি। এটাকে যদি একটি জায়গায় আনা যায়, কমিশনকে সহনীয় মাত্রায় আনা যায়; তাহলে আমি বিশ্বস করি বীমা শিল্প অন্যান্য যে কোনো সেক্টরের চেয়ে আরো ভাইব্রেন্ট (আশাবাদী) সেক্টর হবে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। একই সঙ্গে অনেক মেধাবী ও শিক্ষিত ছেলেরা এই খাতে আকৃষ্ট হবে।

রাইজিংবিডি : বীমা খাতের এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতি তাতে আপনি সস্তুষ্ট কি না?
ইমাম শাহিন : অবশ্যই সন্তষ্ট। কারণ, বাংলাদেশের সব জায়গায়ই লাইফ ইন্স্যুরেন্স-এর কর্মকা- চলছে। যদিও জেনারেল ইন্স্যুরেন্স- এর কার্যক্রম দেশের আনাচে-কানাচে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই আবার এখনই যাওয়ার দরকারও নেই। যেহেতু আমরা এখনো নির্দিষ্ট কিছু প্রোডাক্টের ওপর কাজ করি অর্থাৎ ননলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো। নন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ক্লায়েন্ট হচ্ছে মুলত: তিন ধরনের। একটি হচ্ছে যারা ব্যাংক থেকে প্রোপার্টির বিপক্ষে লোন নিচ্ছেন। ইমপোর্ট ও এক্সপোর্ট ক্ষেত্রে এবং মোটর গাড়ির ইন্স্যুরেন্স। কাজেই আমাদের সিলেক্টেড ক্লায়েন্ট। আর লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তো কোনো সিলেক্টেড নাই। তারা যে কাউকে ইন্স্যুরেন্স করার জন্য বলতে পারে।

 

রাইজিংবিডি : বীমা খাতকে আরো বেশি জনপ্রিয় করার জন্য কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন ?
ইমাম শাহিন : বাজার বড় করার ক্ষেত্রটি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। নন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কারণে বাজার যতটুকু আছে, আমরা এর মধ্যেই সবাই দৌড়াদৌড়ি করছি। লাইফ ইন্স্যুরেন্স-এর ক্ষেত্রে অনেক কোম্পানি আসছে। তারা আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তবে লাইফ ইন্স্যুরেন্সে যেসব প্রতিষ্ঠান আসছে তাদের কাছে একটি অনুরোধ থাকবে, বিক্রয়কর্মী হিসেবে যারা নিয়োগ পাবেন তারা যেন সত্যিকার অর্থে মেধাবী হন, ভালো মানুষ হন এবং সামাজিকভাবে ভালো অবস্থানে থাকেন। এমন লোক যদি ইন্স্যুরেন্স পলিসির জন্য চেষ্টা করেন তাহলে সামাজিক ক্ষেত্রে বীমা খাতের ব্যাপারে একটু আধটু নেতিবাচক যে ধারণা মানুষের মনে আছে, সেটি থাকবে না।

রাইজিংবিডি : ব্যাংকিং খাতের ‘অস্থিরতার’ কারণে বীমা খাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি?
ইমাম শাহিন : অবশ্যই বীমা খাতে প্রভাব পড়েছে। ব্যাকিং খাতের সঙ্গে ননলাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবসার উত্থান-পতন নির্ভর করে। যদি ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমান বাড়ে, তাহলে তো তার যে ফ্যাক্টরি বা ইন্ডাষ্ট্রি আছে, তখন যদি এটার ইন্স্যুরেন্স না হয় এবং  লোন ইনস্টলমেন্ট না করতে পারে শেষ পর্যন্ত ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়ামও দিতে পারবে না। সেক্ষেত্রে আমার ব্যবসা থাকবে না প্রিমিয়ামও কমে যাবে।

রাইজিংবিডি : অভিযোগ আছে, অনেক ক্ষেত্রে বীমা কোম্পানিগুলো শেয়ার হোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষন করে না। কি বলবেন ?
ইমাম শাহিন : বিষয়টি ঠিক নয়। বীমা কোম্পানিগুলো তাদের ফিনান্সিয়াল ক্যাপাসিটি অনুসারে, তাদের গ্রোথ অনুসারে সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ দেখছে।

রাইজিংবিডি : দেশের সব সেক্টরে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এক্ষেত্রে বীমা খাতে প্রযুক্তি নির্ভর সেবা কতটা এগিয়েছে ?
ইমাম শাহিন : আপনি জেনে খুশি হবেন, অনেকগুলো কোম্পানি এখন অনলাইনে এসেছে। আমাদের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সারাদেশে যে ব্রাঞ্চ আছে, সেগুলোকে অনলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা পলিসি ইস্যু করছি। হেড অফিসে বসে থেকে বুঝতে পারছি কোন ব্রাঞ্চটি কোন পলিসি করছে, প্রিমিয়াম পেয়েছে কী পায়নি। সেগুলো এখান থেকে নিয়ন্ত্রন করার ব্যবস্থা রয়েছে। ভবিষ্যতে এর ব্যবহার আরো বাড়বে।

রাইজিংবিডি : বীমা ব্যবসায় এশিয়ান ইন্স্যুরেন্সের অবস্থান মূল্যায়ন করুন।
ইমাম শাহিন : এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ২০০০ সালে যাত্রা শুরু করে।  প্রায় ১৬ বছর হলো কোম্পানির পথচলা। ১৬ বছরের তুলনায় এই কোম্পানির যে অগ্রগতি সেটি রিমার্কেবল। কারণ, যদি বাংলাদেশের ৪৫টি নন লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বার্ষিক রিপোর্ট বিবেচনায় আনা হয়, তাহলে সহজেই এর মধ্যে এশিয়া ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে ৭-৮ এর মধ্যে ফেলতে হবে। টপ ৮টি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মধ্যে এশিয়ার অবস্থান থাকবে। ইন রেসপেক্ট অব ফিনান্সিয়াল ক্যাপাসিটি, অ্যাসেটস, লায়বিলিটি, এফডিআর এবং বাজারে আমাদের যে সুনাম; সবকিছু মিলিয়ে এশিয়াকে টপ ৮ এর মধ্যে বিবেচনা করতে পারবেন। আমরা গত ৪ বছর যাবত এ প্লাস ক্রেডিটিং মেইনটেইন করতে পারছি। আমরা আশা করছি, এ বছর আরো আপগ্রেডেড রেট পাবো। কারণ, গত বছর আমাদের ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে, এফডিআরের পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে।  সম্পদের পরিমানও বেড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

এশিয়া ইন্সুরেন্স কোম্পানির যে বোর্ড অব ডিরেক্টর্স রয়েছে সেটিও ইউনিক। বাংলাদেশের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বোর্ড অব ডিরেক্টরদের যে প্রোফাইল রয়েছে সেগুলো বিচেনায় আনলে এশিয়ার বোর্ড সত্যিই ইউনিক বোর্ড। আই এম সো হ্যাপি অব দেম। আশা করছি এই বিজ্ঞ পরিচালকদের নেতৃত্বে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।

রাইজিংবিডি : একজন বীমা ব্যবসায়ী হিসেবে আগামী ১০ বছর পর এই শিল্পকে কোন পর্যায়ে দেখতে চান ?
ইমাম শাহিন : সব থেকে আগে বীমা সেক্টরে প্রতিটি জায়গায় যোগ্য লোকের অবস্থান নিশ্চিত হোক সেটি চাই। এখন যারা আছেন তারা অবশ্যই যোগ্য। তবে এর চেয়ে যোগ্য-দক্ষ লোক দরকার। কারণ, এর সংকট রয়েছে। বীমা কোম্পানি বা মালিক বা এসোসিয়েশনে ঠিক জায়গায় ঠিক লোক এলে আগামী দশ বছর পর এই সেক্টর অনেক সেক্টরের চেয়ে উপরে থাকবে।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬/রেজা/শাহনেওয়াজ

Walton
 
   
Marcel