ঢাকা, শুক্রবার, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৪ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

কৃত্রিম চিনি সেবন বন্ধ করার কুফল

আফরিনা ফেরদৌস : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১২-০৬ ৭:৩৭:১০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৬-১২-০৬ ৭:৩৭:১০ এএম
প্রতীকী ছবি

আফরিনা ফেরদৌস : চিনি আমাদের ত্বক, দাঁত সর্বোপরি আমাদের শরীরের জন্য খুব খারাপ। অনেক রোগ এড়ানোর জন্য ডাক্তাররা মধ্য বয়স থেকেই চিনি পরিহার করতে বলে থাকেন।

 

কিন্তু মানুষ বড়ই স্বাদ প্রিয়। তাই আমাদের খাদ্য তালিকায় চিনি থাকবে না এটা যেন আমরা ভাবতেই পারি। আর সে জন্য আমরা ব্যবহার করি কৃত্রিম চিনি।

 

তবে এই কৃত্রিম চিনিও আমাদের শরীরের জন্য সবসময় ভালো কিছু বয়ে আনছে না। চিনির স্বাদ পেতে কৃত্রিম চিনির ব্যবহার করে থাকি আমরা। তবে আপনি যখন হঠাৎ করে কৃত্রিম চিনি গ্রহণ করা বন্ধ করে দেন তখন আপনার শরীরের পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করেছেন কি?

 

আসুন জেনে নেওয়া যাক, হঠাৎ করে কৃত্রিম চিনি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে।

 

ওজন কমানোর প্রবণতা

ডাক্তার ক্যারোলিন, একজন ওজন বিশেষজ্ঞ, বলেন যে, আমরা ওজন কমানোর প্রবণতা থেকে কৃত্রিম চিনি খেতে শুরু করি। কিন্তু আদৌ তা সত্যি হয় কি। বরং আমরা যখন কৃত্রিম চিনি খাওয়া বন্ধ করে দেই তখন রক্তে ইনসুলিন কমে যেতে থাকে, যার ফলে বোঝা যায় আপনার একটু হলেও চিনি খাওয়া দরকার।

 

ওজন বৃদ্ধি

কৃত্রিম চিনি সেবন বন্ধ করলে তা অনেক ক্ষেত্রে ওজন না কমিয়ে বরং বাড়িয়ে দেয়। ডাক্তার ক্যারোলিন বলেন, আমরা খালি পেটে অনেক সময় সুগার ফ্রি বেভারেজ খেয়ে থাকি এবং ভাবি এটা তো জিরো ক্যালরি। কিন্তু না, এটা বেশিরভাগ সময় আমাদের ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। কৃত্রিম চিনি এড়াতে এই পানীয় যেমন সোডা ওজন কমানোর পরিবর্তে বাড়িয়ে তোলে।

 

ডায়াবেটিস বাড়তে পারে

কৃত্রিম চিনি সেবন হঠাৎ বন্ধ করে দিলে আপনার টাইপ টু ডায়াবেটিসে প্রভাব পড়তে পারে। ২০০৯ সালে ডায়াবেটিস কেয়ারের একটি গবেষণাতে দেখানো হয়, যাদের ডায়াবেটিস আছে এবং তারা নিয়মিত ডায়েট কোলা খান তাদের মধ্যে প্রায় ৬৭ শতাংশ লোকের টাইপ টু ডায়াবেটিকস বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন ধরনের বেভারেজগুলোতে দ্রুত গ্লুকোজ বৃদ্ধিকারী উপাদান মেশানো থাকে, যা একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ভালো নয়।

 

মাথাব্যথার সম্ভাবনা

ডাক্তার ক্যারোলিন বলেন, কি হয় যখন আমরা কৃত্রিম চিনি গ্রহণ করি তারপর আবার তা বন্ধ করে দেই। অনবরত কৃত্রিম চিনিযুক্ত সোডা গ্রহণ, তারপর তা বন্ধ করার ফলে মাথাব্যথা হতে পারে। তার আরেকটি কারণ অবশ্য আমাদের মস্তিষ্কের কিছু ক্যাফেইনের দরকার হতে পারে। তাই মাঝে মাঝে সোডা থেকে মুখ ঘুরিয়ে গরম কফির দিকেও মন দেয়া উচিত।

 

অন্ত্রের স্বাস্থ্য

আমরা জানি উপকারী ব্যাকটেরিয়া আমাদের অন্ত্রে থেকে রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কৃত্রিম চিনি আমাদের অন্ত্রের প্রশস্ততা নিয়ন্ত্রণ করে। একে অনেক মোটা হওয়া থেকে রোধ করে। ২০১৩ সালে প্রাণীদের ওপর করে একটি গবেষণা থেকে বলা হয় যে, কৃত্রিম চিনি বলিষ্ঠ অন্ত্র গঠণে সাহায্য করে। তাই আপনি যখন কৃত্রিম চিনি হঠাৎ করে খাওয়া বন্ধ করে দেন তখন তা  আমাদের শরীরে অনেক রোগের সৃষ্টি করে।

 

এছাড়া কৃত্রিম চিনি সেবন হঠাৎ করে বন্ধ করার ফলে আমাদের মিষ্টান্ন খাবার, যা আসল চিনি দিয়ে তৈরি তার প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। যেমন ক্যান্ডি বা চকলেট। এক্ষেত্রে কৃত্রিম চিনি দিয়ে তৈরি মিষ্টান্ন তুলনামূলক ভালো। যা শরীরে মিষ্টি জাতীয় খাবারের চাহিদা ধরে রাখে।

 

কৃত্রিম চিনি ব্যবহার বন্ধের ফলে আরেকটি ব্যাপার লক্ষণীয়। আর তা হল, আপনার বাচ্চা যদি ছোট হয় এবং আপনি ব্রেস্ট ফিডিং মাদার হন, তাহলে এই কৃত্রিম চিনি হঠাৎ করে বন্ধ দেওয়ার ফলে আপনার দুধের স্বাদ বদলে যেতে পারে।

 

তথ্যসূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ ডিসেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

Walton
 
   
Marcel