ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ বৈশাখ ১৪২৪, ২৮ এপ্রিল ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

মো. মামুন চৌধুরী : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১২-০৩ ৩:৪৮:১৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০২-১২ ১:১৮:০৩ পিএম
ধান কেটে বাড়ি ফিরছেন কৃষক

মো. মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ : পুরোদমে চলছে আমন ধান সংগ্রহ কার্যক্রম। কৃষকরা সকাল হলে শ্রমিক নিয়ে জমিতে ধান গাছ কর্তন করছেন। আর বিকেলে মাড়াই করছেন। এসবের মধ্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এ মৌসুমে জেলার সর্বত্র আমনের আশানুরুপ ফলনে কৃষকের মুখে এখন হাসির ঝিলিক।

 

সূত্র জানায়, এ মৌসুমে জেলার বিভিন্নস্থানে কৃষকরা প্রায় ৬৯,১৭০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ করেন। যদিও হবিগঞ্জ কৃষি বিভাগ থেকে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয় ৬৪,৫৫৩ হেক্টর জমিতে। আমন চাষাবাদে চাষিরা নিয়মিত বৃষ্টির পানি আর সুলভমূল্যে সার পেয়েছেন। তারমধ্যে আবার এ মৌসুমে পোকা মাকড়ের আক্রমণও ছিল নিয়ন্ত্রণে। সবমিলিয়ে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন ধান রোপন করেন কৃষকরা। আবার এসব জমিতে ভাল ফলনও পেয়েছেন তারা।

 

এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জের কাজীরগাঁয়ের কৃষক সবুজ মিয়া বলেন, ‘আমনের ফলন ভাল হয়েছে। ধান কাটা চলছে। মাড়াই করা ধান সিদ্ধ দিয়ে চাল করার ব্যবস্থা করছি। নতুন ধানের ভাত খেতে অনেক স্বাদ।’

 

তিনি বলেন, ‘ মেশিনের কারণে ধান মাড়াই পূর্বের চেয়ে  সহজ হয়েছে। তাই আমন ধান শুকানো ও চাল করা নিয়ে তেমন একটা ভাবতে হচ্ছে না। আর বর্তমানে বৃষ্টিপাতও হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই বাড়ির পাশে রোদে ধান শুকাতে সমস্যা হচ্ছে না।’

 

বাহুবলের হাওর এলাকার চাষি সিতার মিয়া বলেন, ‘আমন চাষে ঝুঁকি কম। এবার ভাল ফলন হয়েছে। ধান কাটা শুরু করেছি। মাড়াই করা ধান রোদে শুকিয়ে গোলায় মজুদ করে রাখছি। খাবারের জন্য কিছু ধান সিদ্ধ করে তৈরি করছি চাল।’

 

তিনি জানান, এখন ধান বিক্রি করবেন না। কারণ সঠিক মূল্য নাও পেতে পারেন। ধান শুকিয়ে গোলায় রাখছেন, পরে ভাল মূল্য দেখে বিক্রি করবেন।

 

চুনারুঘাটের উবাহাটা এলাকার কৃষক কাউছার মিয়া বলেন, ‘ফলন আশানুরুপ। ধান কাটা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে শ্রমিক সংকট রয়েছে। তারপরও শ্রমিক সংগ্রহ করে পুরোদমে ধান কেটে মাড়াই করা ধান সংরক্ষণে রাখছি।’

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন,  ‘জেলার সর্বত্র আমনের ভাল হয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগ কৃষকদের নানাভাবে সহায়তা করছে। কৃষকরা এসব পরামর্শ গ্রহণ করে আমন রোপনে ভাল ফল পাচ্ছেন। আর ভাল ফলনে কৃষকরা আনন্দিত।’

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা বশির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘কৃষিমুখী করতে চাষিদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। তাতে করে চাষিরা ধান ও সবজি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন।’

 

 

রাইজিংবিডি/হবিগঞ্জ/৩ ডিসেম্বর ২০১৬/মামুন/টিপু

Walton Laptop