ঢাকা, শনিবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
Risingbd
অমর একুশে
সর্বশেষ:

খালেদা-তারেককে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-১২ ৫:০১:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১২ ৫:০১:১১ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জামিনে থাকা চার আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির তারিখ আগামি ২৬ জানুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত।

ওইদিন সব আসামিকে আদালতে হাজির থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশিবাজার কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের আদালত এ আদেশ দেন।

এ মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটার দিকে তিনি আদালতে এসে হাজির হন। তবে তিনি আদালতে হাজির হওয়ার আগেই অরফানেজ মামলায় ৩২তম ও শেষ সাক্ষী মামলার অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন পরিচালক নূর আহমেদেরে জবানবন্দি শেষে জেরা শুরু হয়। প্রথমে খালেদা জিয়ার পক্ষে রেজা করেন তার আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান। জেরায় আব্দুর রেজ্জাক খান সাক্ষী নূর আহমেদের কাছে প্রশ্ন করেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্টের বিরুদ্ধে করা প্রাথমিক অভিযোগের অনুসন্ধান করে আপনি কী পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিয়েছিলেন? জবাবে নূর আহমেদ বলেন-না। রিপোর্টে অভিযুক্তদের নামের তালিকায় খালেদা জিয়ার নাম ছিল? জবাবে তিনি বলেন না। অভিযোগের বিবরণীতেও খালেদা জিয়ার নাম ছিল না? জবাবে ছিল না বলে জানান তিনি।

খালেদা জিয়ার পক্ষে জেরার শেষে তারেক রহমানসহ অপর আসামিদের পক্ষে নূর আহমেদকে জেরা শেষ করেন বোরহান উদ্দিন, মিজানুর রহমান, শরফুদ্দিন আহমেদ ও মুনিরুল হুদা।

আর দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল।

এর আগে এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন আরো ৩১ জন সাক্ষী। গত ৫ জানুয়ারি আসামিপক্ষের আইনজীবীরা নূর আহমেদকে সাক্ষ্য দেওয়ার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় প্রধান আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ শুনানিতে অসমাপ্ত বক্তব্যের তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৬ জানুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত।

প্রসঙ্গত, এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে জিয়া অরফানেজ মামলাটি দায়ের করে দুদক। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

২০০৯ সালের ৫ আগস্ট দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলাটিতে খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিচারক বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করেন।

অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়।

আসামি তারেক রহমান সরকারের নির্বাহী আদেশে দেশের বাইরে আছেন। মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনে আছেন। ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু হতেই পলাতক।

 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ জানুয়ারি ২০১৭/এমএ খান/সাইফ