ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ বৈশাখ ১৪২৪, ২৮ এপ্রিল ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

গাভী পালন : ভাগ্যকে বদলে ফেলেছেন শাহিনুর

বিলাস দাস : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১২-২৮ ৮:৫২:১৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-০১ ১২:০০:১৮ পিএম
নিজ খামারে শাহিনুর বেগম

বিলাস দাস, পটুয়াখালী : প্রচলিত ঋণ ব্যবস্থার বাইরে সুদমুক্ত ঋণ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেকেরই ভাগ্যে অনেকটা পরিবর্তন এনেছে। বদলে দিয়েছে জীবনমান। হয়ে উঠেছে স্বাবলম্বী।

সঠিক তদারকির মাধ্যমে ঋণের টাকার সঠিক ব্যবহারের নজরদারি এ পরিবর্তনে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ফলে এর সুফল ভোগ করছেন শাহিনুরের মতই অনেক ঋণগ্রহীতা।

জেলার কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারার রোসনাবাদ গ্রামের সোবহান হাওলাদারের স্ত্রী শাহিনুর বেগম (৩৫)। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে দিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন শাহিনুরের স্বামী সোবহান মিয়া। কাজ পেলে খাবার জুটতো। আর কাজ না পেলে অনাহারে দিন কাটাতে হতো এই পরিবারটির।

সংসারের এ দৈন্যদশা উদগ্রীব করে তোলে শাহিনুরকে। দীর্ঘদিন থেকে কিছু একটা করার ইচ্ছা থাকলেও অর্থ সংকটে তা সম্ভব  হয়ে ওঠেনি। বাড়ির অঙিনার এক টুকরো জমি নিয়ে সবজির আবাদ  শুরু করেন। কিন্তু তা দিয়ে পারিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারজাত আর সাফল্যর মুখ দেখতে পায়নি শাহিনুর।

২০১৩ সালে সঞ্চিত অর্থ দিয়ে প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটি গাভী কিনে লালন-পালন শুরু করেন। সাংসারিক কাজের পাশাপাশি গাভীটিকে লালন-পালন করেন। এরপর শহিনুর গাভীটি ভাল দামে বিক্রি করে দেন।

ফলে শাহিনুরের  প্রত্যাশা আরো বেড়ে যায়। বিক্রিত টাকা দিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই আরো দুটি বাছুর কেনেন। একইভাবে লালন-পালন করেন তিনি। এরপর শাহিনুরকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সাংসারিক কাজের পাশাপাশি গোয়ালঘরেই তার স্বপ্ন জুড়ে থাকে। আর এই স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন তার স্বামী সোবহান মিয়া।

শাহিনুরের এই উদ্যোগ দেখে তার পাশে  এগিয়ে আসেন ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) এর অর্থায়নে পরিচালিত মুসলিম এইডের একটি প্রকল্প।  শাহিনুরের সঙ্গে কথা বলে তার কাজে গতিবিধিসহ সবকিছু যাচাই করে সংস্থাটি সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে তাকে প্রথমে ১০ হাজার টাকা প্রদান করে। ওই ঋণের টাকা দিয়ে শাহিনুর বেগম আরো একটি গাভী ক্রয় করেন। ওই গাভীর দুধ বিক্রয় করেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে সক্ষম হন শাহিনুর।

শাহিনুর বেগমের লেনদেন  ভাল এবং পরিশ্রমে খুশি হয়ে সংস্থাটি তাকে পুনরায় এবং পর্যায়ক্রমে তাকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করেন। ওই ঋণ নিয়ে গাভী কিনে তৈরি করেন একটি খামার।

শাহিনুরের (গোয়ালে) খামারে এখন চারটি গাভী। আগামী বছরের শেষ দিকে তিনি খামার দ্বিগুণ করার প্রত্যাশা করছেন। শুধু খাবার নয়, তার দুই সন্তানের আজ স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। সাফল্যের প্রতীক হয়ে শাহিনুর তার এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছেন। পাশাপাশি উপজেলা পশুসম্পদ বিভাগের কাছ থেকে পরামর্শ নেন শাহিনুর।

শাহিনুর বেগম বলেন, এক সময় সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে তার হিমশিম খেতে হতো। কাজ করলে খাবার আর কাজ না করলে খাবার জুটতো না তাদের। শাহিনুর আরো জানান,  পরিবারে নিত্য চাহিদা মিটিয়ে কিছু অর্থ সঞ্চয় করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি তার দুই সন্তানকে স্থানীয় একটি স্কুলে ভর্তি করেছেন।

শাহিনুরের স্বামী সোবহান হাওলাদার জানান, বছর দুই এক আগে তাদের দিনগুলো কষ্টে যেত। কিন্তু তার স্ত্রীর প্রচেষ্টায় এখন তাদের পরিবারে সাফল্য এসেছে। তিনিও তার স্ত্রীকে সহযোগিতা করছেন। ভবিষ্যতে একটি বড় আকাড়ের গরুর খামার করার চিন্তা রয়েছে তাদের।

মুসলিম এইডের কলাপাড়া শাখা ব্যবস্থাপক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের মাঝে সুদমুক্ত ঋণ সহায়তা দিয়ে আত্মকর্মসংস্থান তৈরি এবং সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে নানা কাজে উৎসাহিত করে থাকি। পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে সমৃদ্ধ করতে সাধারণ মানুষকে কর্মমুখী করে আত্মনির্ভশীল করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতার একটি অংশ শাহিনুর বেগম। আমাদের সামান্য সহযোগিতা আর শাহিনুর বেগমের একান্ত চেষ্টায় তিনি তার ভাগ্যকে পাল্টে দিয়েছেন।

মুসলিম এইড সুদমুক্ত ঋণের পাশাপাশি দুর্যোগ প্রস্তুতি, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ইভটিজিং ইত্যাদি সামাজিক সচেতনাতামূলক বিষয়ে প্রতি সপ্তাহে উঠান বৈঠক করে থাকে।




রাইজিংবিডি/পটুয়াখালী/২৮ ডিসেম্বর ২০১৬/বিলাস দাস/রিশিত

Walton Laptop