ঢাকা, রবিবার, ১২ আষাঢ় ১৪২৪, ২৫ জুন ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের শপথ বুধবার

এনআর : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-১০ ১১:০৫:৪৪ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১০ ১১:০৫:৪৪ এএম

নৃপেন রায় : জেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী চেয়ারম্যানদের শপথ বুধবার অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

শপথ গ্রহণে চেয়ারম্যানদের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শপথ গ্রহণে আমন্ত্রিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পাবনা জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল রহিম লাল রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আগামীকাল আমাকে শপথ গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শাপলা হলে শপথ গ্রহণ হবে। আমি ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’

রাজশাহী জেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারও শপথ গ্রহণের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত চেয়ারম্যান। আগামীকাল আমাদের শপথ গ্রহণ হবে।’ তিনি রাজশাহীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মাহবুব জামান ভুলুকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন।

গত ২৮ ডিসেম্বর বুধবার দেশের ৬১টি জেলা পরিষদের ভোট গ্রহণ হয়। তার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ভোট স্থগিত আছে বগুড়া ও কুষ্টিয়ায়। তবে সেখানে সদস্য পদে ভোট হয়েছে। এর আগে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ২১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। ফলে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ব্যক্তিরা জয়ী হয়েছেন ২৫ জেলায়। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চেয়ারম্যান হয়েছেন ৪৬ জন। অন্য ১২ জন আওয়ামী লীগের প্রাক্তন ও বর্তমান নেতা। বিএনপিসহ বড় দলগুলো এই জেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ নির্বাচন হওয়ার ফলে ৩০ জেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর বাইরেও ৫০ জন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন।

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে জেলা পরিষদ নির্বাচন হলেও এখন পর্যন্ত চেয়াম্যানদের যথাযোগ্য মর্যাদা নির্ধারণ কি হবে, তা চূড়ান্ত হয়নি। কারণ,বিগত সময়ে এই পদে থাকা জেলা পরিষদ প্রশাসকরা তাদের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি সরকার। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দুই দফা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে এ বিষয়ে পত্র পাঠিয়েও কোনো জবাব মেলেনি। এ ছাড়া বিদ্যমান জেলা পরিষদ আইনেও সুস্পষ্ট করে এ বিষয়ে কিছু বলা নেই। তাই জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহণের পরও তাদের পদমর্যাদা পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে।

স্থানীয় মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মর্যাদা নির্ধারণ করা আছে। একটি উপজেলার সীমানা একটি ইউনিয়নের চেয়ে বেশি। আবার একটি সিটি করপোরেশনের সীমানা একটি পৌরসভার চেয়ে বড়। আর যেহেতু একটি জেলার আয়তন সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় সরকারের যেকোনো স্তরের চেয়ে বেশি, তাই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের মর্যাদা সবচেয়ে বেশি থাকাই যুক্তিযুক্ত। আর এমনটি থাকলে তারা সেভাবেই জেলায় উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকিতে গুরুত্ব পেতে পারেন।

এর আগে তিনটি পার্বত্য জেলা বাদে বাকি ৬১ জেলা পরিষদে ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রশাসক নিয়োগ করে সরকার। নির্বাচন না হওয়ায় অনির্বাচিত ব্যক্তিরাই প্রশাসক হিসেবে কাজ করায় অনেক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা কমে যায়। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করেই সরকার দ্রুত জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়।

বিদ্যমান জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ অনুযায়ীই জেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যানের পাশাপাশি ১৫ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত পাঁচজন নারী সদস্যও নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত হয়।

 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ জানুয়ারি ২০১৭/এনআর/সাইফুল

Walton Laptop