ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ ফাল্গুন ১৪২৩, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
Risingbd
অমর একুশে
সর্বশেষ:

ত্যাগের শিক্ষায় উজ্জীবিত হোক সবাই

এনএ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১২-২৫ ৮:২৬:৫৬ এএম     ||     আপডেট: ২০১৬-১২-২৫ ৮:২৬:৫৬ এএম

ভালোবাসা, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বাণী যিনি প্রচার করেছেন তিনি যীশু খ্রিষ্ট। মানুষকে দেখিয়েছেন সত্যিকারের মুক্তির পথ। মানবজাতির ত্রাতা বা উদ্ধারকর্তা হিসেবে পৃথিবীতে আবির্ভাব হয়েছিল যার সেই যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন ২৫ ডিসেম্বর।

 

জেরুজালেমের কাছে বেথলেহেমে দুই হাজারেরও বেশি বছর আগে এদিন খ্রিষ্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিষ্ট জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মদিনটি খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের কাছে বড়দিন হিসেবে পরিচিত। তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবও এটি।

 

বর্তমান হানাহানি আর নৈতিক দৈন্যতার এই পৃথিবীতে হিংসা-দ্বেষ পরিহার করে উন্নত মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান নিয়ে আবার এসেছে সেই বড়দিন। যিশু খ্রিষ্টের জীবনের ব্রত ছিল বিশ্বে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে যিনি হযরত ঈসা (আ.) হিসেবে পরিচিত। অনাহারক্লিষ্ট দুঃখী, নির্যাতিত ও গরিব মানুষের জীবনে শান্তি স্থাপন ও বিশ্বময় শান্তিপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় চেষ্টা চালিয়ে গেছেন তিনি।

 

সাদাসিধে জীবনাচরণ, অমায়িক ব্যবহার ও অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্বের কারণে যিশু অমর হয়ে আছেন সমগ্র বিশ্বের মানুষের কাছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কাছেই তিনি মহামানব হিসেবে গভীর শ্রদ্ধার পাত্র। সংযম, ভালোবাসা ও সেবার পথ ধরে মানুষকে সত্য ও কল্যাণের পথে আনার প্রয়াসে তাকে অবর্ণনীয় নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছিল। কিন্তু কোনো কিছুই তাঁকে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। তিনি ছিলেন সংযম, সহিষ্ণুতা ও ভালোবাসার প্রতীক।

 

সারা জীবন মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করে গেছেন। সত্য ও কল্যাণের পথে অবিচল থেকেছেন। ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে চেয়েছেন মানবাত্নার শ্রেষ্ঠত্বকে। মানুষে মানুষে বাঁধতে চেয়েছেন প্রেমের বাঁধন। মানুষের কষ্ট দেখে কেঁদে উঠেছে তাঁর মহৎ অন্তঃপ্রাণ। মানুষকে তিঁনি ভালোবাসতেন নিজের সন্তানের মত করে।

 

প্রতিটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান আমাদের শিক্ষা দেয় মানবতার আর মূল্যবোধের। ধর্ম যার যার উৎসব সবার। প্রতিটি ধর্মই আমাদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষা দেয়। বিভেদ নয়, যিশুর শিক্ষা সম্প্রীতি ও ভালবাসার। সেই ভালবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধনে আমরা পরস্পরকে বেঁধে রাখব এটিই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

 

আজকের এই শুভদিনে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী শান্তিপ্রিয় সবাইকে বড়দিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা। জয় হোক বিশ্ব মানবতার, জয় হোক বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের। যিশু খ্রিষ্টের ত্যাগ ও মহিমায় সবার জীবন উজ্জ্বল হয়ে উঠুক, ত্যাগের শিক্ষা উজ্জীবিত করুক সবাইকে।

 

সব ধর্মেরই মূলকথা মানবতাবোধ। বড়দিন উপলক্ষে যে প্রেম ও আশার বাণী প্রচার করা হয়, তারও মূলে রয়েছে মানবতা। কিন্তু এই ধর্মকে কেন্দ্র করে একবিংশ শতকেও কিছু মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক মনোভাব পরিলক্ষিত হয়। বড়দিন উপলক্ষে আমাদের প্রত্যাশা সব পথভ্রষ্ট মানুষের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। প্রত্যেক মানুষকে শান্তি, প্রেম ও সম্প্রীতির শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করুক। এই বিশ্ব থেকে দূর হোক সাম্প্রদায়িকতা ও হিংসা-বিদ্বেষ।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ ডিসেম্বর ২০১৬/এনএ/শাহনেওয়াজ