ঢাকা, শুক্রবার, ৬ শ্রাবণ ১৪২৪, ২১ জুলাই ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

দোহাজারী-ঘুমধুম রেলপথ নির্মাণ শুরু মার্চে

রেজাউল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০১-১০ ১১:৫৭:১২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১৪ ৭:১২:৪২ পিএম
দোহাজারী-ঘুমদুম রেলপথের নকশা

রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজার এবং বান্দরবানের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে আগামী মার্চে শুরু হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের দোহাজারী-ঘুমধুম রেলপথ নির্মাণ কাজ।

বর্তমানে চট্টগ্রামের দোহাজারী পর্যন্ত রেল যোগাযোগ রয়েছে। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার জেলার ঘুমধুম পর্যন্ত ১২৯ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মিত হলে চট্টগ্রামের সঙ্গে পার্বত্য বান্দরবান ও কক্সবাজারের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন হবে।  এই প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা।

দোহাজারী-ঘুমধুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে উপপরিচালক মোহাম্মদ মফিজুর রহমান রাইজিংবিডিকে জানান, চলতি বছরের মার্চে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে পাঁচটি দেশের ৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে চীনের পাঁচটি এবং বাংলাদেশ, ভারত, স্পেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার একটি করে প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।

প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিগগিরই দরপত্র মূল্যায়ন শেষে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করা হবে। মার্চের আগেই এসব কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পর নির্মাণ কাজ ২০১৭ সালের মার্চ নাগাদ শুরু হবে এবং ২০২২ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। ইতিমধ্যে এডিবির একটি টিম এর সক্ষমতা যাচাই করেছে। প্রকল্পের ১২৯ কিলোমিটার লাইনের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা, কক্সবাজারের  চকরিয়া, রুমা, কক্সবাজার সদর ও উখিয়া উপজেলা এবং বান্দরবানের ঘুমদুমসহ ১১টি রেল স্টেশন থাকবে।

পাশাপাশি ৫২টি বড়, ১৯২টি ছোট রেল সেতু ও কালর্ভাট, ১১৮টি লেভেল ক্রসিং, হাতি চলাচলের জন্য দুটি আন্ডার পাস এবং পাঁচটি ওভার পাস নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় দোহাজারি থেকে রুমা পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ, রুমা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক এবং রুমা থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্রে জানা যায়, ১৮৯০ সালে ব্রিটিশ সরকার চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রথম এই রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করে। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তান সরকার এর সক্ষমতা যাচাই করে। কিন্তু এসব প্রাথমিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথের ভাগ্য থমকে থাকে।

এরপর ১৯৭১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত জাপান রেলওয়ে টেকনিক্যাল সার্ভিস আবার এই রেলপথ নির্মাণের সক্ষমতা যাচাই করে। কিন্তু নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি।

স্বাধীনতা পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে আবার এর সক্ষমতা যাচাই করে এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থির থাকে। এর ধারাবাহিকতায় এই বছরের মার্চ মাস থেকে প্রকল্পটি পুরোদমে বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে।

এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের ৬ হাজার ৩৪ কোটি টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদান করবে। বাকি ১২ হাজার কোটি টাকা ঋন হিসেবে প্রদান করবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)।



রাইজিংবিডি/চট্টগ্রাম/১০ জানুয়ারি ২০১৭/রেজাউল/উজ্জল  

 


   

Walton Laptop