ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

নিরাপত্তা পরিষদে ট্রাম্পের ঘোষণার সমলোচনা করবে রাশিয়া

রাসেল পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১২-০৭ ৬:৫৬:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-০৮ ৮:৫৫:০৮ এএম
ফাইল ফটো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে শুক্রবার অনুষ্ঠেয় সভায় জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করবে রাশিয়া।

রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা আরআইএ-এর খবরে বলা হয়েছে, রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী গেনাদি গ্যাতিলোভ বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ট্রাম্পের এই স্বীকৃতির ফলে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষ আরো ত্বরাণ্বিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে ‘ভয়ানক ও নিয়ন্ত্রণহীন’ পরিণতি বয়ে আনে, এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া।

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল উভয়ের রাজধানী জেরুজালেম : ইইউ
জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্প স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি বলেছেন, শুধু ইসরায়েল নয়, ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রেরও রাজধানী হবে জেরুজালেম।

তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে ইইউর স্পষ্ট ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষের প্রকৃত সমাধান হবে শুধু দুই রাষ্ট্র নীতির ভিত্তিতে এবং জেরুজালেম হবে উভয়ের রাজধানী।’ দুই রাষ্ট্রনীতি হলো- ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিনও হবে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এই নীতি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকার রয়েছে।

শুক্রবার জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন মোগেরিনি। তিনি আরো জানিয়েছেন, তিনি ও ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে জেরুজালেম ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন।

বুধবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃত দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের বর্তমান রাজধানী তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তার এই ঘোষণার আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করলেও কারো কথায় কান না দিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন। এরপর বিশ্বজুড়ে তার বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় বইছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ঘোষণায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের শান্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিচার করে তিনি এ কাজ করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ধরনের পদক্ষেপে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা ও হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করা হলেও ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন এবং ডানপন্থি শিবিরে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমি ঘোষণা করছি।’

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়া আর ‘বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেয়ে কম বা বেশি কিছু নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটি করাই সঠিক।’

ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিরা যদি অনুমোদন করে তাহলে দীর্ঘদিনের সংঘাত অবসানে ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক’ সমাধানকে সমর্থন করবে যুক্তরাষ্ট্র। দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মূল কথা হলো- ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের জন্যও একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হবে।

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার পরপরই দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ট্রাম্পের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এক টুইটে তিনি বলেন, ‘তিন হাজার বছর ধরে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে জেরুজালেম।’

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নথির সূত্র দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পক্ষে ইসরায়েলকে গরম গরম প্রতিক্রিয়া জানাতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, এ ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চাপ বাড়তে পারে।

মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, জেরুজালেম তাদের ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী। ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘শোচনীয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর কোনোভাবেই শান্তির সাফাইকারী রইল না। এ ছাড়া গাজা উপত্যকা শাসনকারী হামাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ট্রাম্পের এই ঘোষণা ‘জাহান্নামের শতদরজা খুলে দিয়েছে’।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রসহ আরব ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্ব ট্রাম্পের এই ঘোষণার চরম নিন্দা জানিয়েছে। এরই মধ্যে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে।

সৌদি আরবের রয়্যাল কোর্ট বলেছেন, ‘শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বড় ধরনের বিপর্যয় এবং জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থানের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’

‘আমরা সবাই এর বিরোধিতা করছি, তা পরিষ্কার করতে’ বিশ্বের মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘গভীর উৎকণ্ঠার মুহূর্ত’ এটি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন তিনি। তার মতে, এর মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হলো। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, তারা এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবেন না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান কূটনীতিক ফেডেরিকা মোগেরিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৭ ডিসেম্বর ২০১৭/রাসেল পারভেজ

Walton