ঢাকা, শনিবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
Risingbd
অমর একুশে
সর্বশেষ:

নীলফামারীতে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্যে মুগ্ধ মানুষ

ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১২-১৪ ৯:২৪:২৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৬-১২-১৪ ১০:২২:০৫ এএম
নীলফামারী থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা

ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন, নীলফামারী : পুরো নীলফামারীতেই এখন শীতের আবহ। এখানের মেঘমুক্ত নীলাভ আকাশে জ্বলজ্বল করছে সূর্যকিরণ। স্বচ্ছ আকাশে আকাশে দৃশ্যমান হালকা সাদা মেঘের ভেলা। এ সময় পঞ্চগড় ও নীলফামারীর বিভিন্ন স্থান থেকে উত্তরের দিকে তাকালে সহজেই দেখা মিলছে হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়ার অপরূপ দৃশ্য।

 

কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়ার দৃশ্যে মুগ্ধ এখন পঞ্চগড় ও নীলফামারীর মানুষ। আর এ দৃশ্য দেখার জন্য এ দুই জেলার মানুষ ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ ভিড় জমাচ্ছে সীমান্তবর্তী খোলা উঁচু স্থানে।

 

স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েক বছর ভালোভাবে দেখা না মিললেও এবার খালি চোখেই দেখা মিলছে সেই হিমালয় পর্বতের কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়ার।

 

আগে হিমালয় পর্বতের কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় যেতে হতো। কিন্তু এখন নীলফামারীর চিলাহাটি, ডিমলার তিস্তা নদী ও নীলফামারী সদরের ইটাখোলার ফাঁকা স্থানে দাঁড়ালেই কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফশুভ্র গায়ে সূর্য কিরণে চকচকে উজ্জ্বল পাহাড়ের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এ জন্য বাইনোকুলারের প্রয়োজন পড়ছে না। তাই মোহনীয় এই দৃশ্য উপভোগ করছেন সাধারণ মানুষজনও।

 

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপরীগঞ্জ ইউনিয়নের খারিজা ভাজনী এলাকার বাসিন্দা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মো: একরামুল হক (৫৮) জানান, অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের ২য় সপ্তাহ পর্যন্ত আকাশে যখন মেঘ থাকে না, আবার কুয়াশাও পড়া শুরু হয়না- শুধুমাত্র তখনই আমাদের এলাকা থেকে দেখা যায় বরফে ঢাকা ধবল পাহাড়ের চূড়া দার্জিলিংয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা।

পঞ্চগড়ের শহরের দোকড়া পাড়া এলাকার হাসানুজ্জামান (৩৮) ও সজিব আহসান (৩২) জানান, সকাল ৮টা থেকে সূর্যকিরণ যখন উঠতে থাকে তখন ¯পষ্ট হয়ে ধরা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। সকাল ১০টা পর্যন্ত দেখা যায় এ শৃঙ্ঘটি। তারপর আস্তে আস্তে ঝাপসা হতে থাকে কাঞ্চনজঙ্ঘা। শেষ বিকেলে সূর্যকিরণ আবার যখন তির্যক হয়ে পড়ে বরফ পাহাড়ে, তখন আবারও অন্য এক মহিমায় দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা চুড়াটি।

 

নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি সীমান্ত এলাকার আঁখি আক্তার (২৪), ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ (৪৫), ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদী এলাকার মো. মমিনুর রহমান (৩০) ও নীলফামারীর সদরের ইটাখোলা এলাকার মো. ফারুক (৩৮) জানান, এর আগে এতো পরিস্কার ভাবে হিমালয় দেখা যায়নি। এবার মেঘমুক্ত নীল আকাশের সূর্য্যের আলোয় উত্তর প্রান্তে তাকালেই খালি চোখে দেখা যাচ্ছে হিমালয় পর্বত। 

 

ডোমার পৌর এলাকার শিক্ষক তুর্য বসুনিয়া, সরিফুল ইসলাম মানিক, আমিনুল ইসলাম বাবু জানান, সীমান্তবর্তী চিলাহাটি থেকে দার্জিলিয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাওয়ায় আমরা বেশ কিছু শিক্ষক মিলে এখানে এসেছি। এখান থেকে খালি চোখেই আমরা কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছি। 

 

ডোমার উপজেলার চিকনমাটি এলাকার রওশন রশীদ বলেন, প্রায় আট বছর আগে আমার ভাইকে চিকিৎসার জন্য দার্জিলিং নিয়ে যাই। ওই সময়ে সেখানে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখি। আর এখন আমাদের এলাকার ৩/৪ তলা বিল্ডিংয়ের ছাদের উপর হতে দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা।

 

 

রাইজিংবিডি/নীলফামারী/১৪ ডিসেম্বর ২০১৬/সিথুন/টিপু