ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ চৈত্র ১৪২৩, ৩১ মার্চ ২০১৭
Risingbd
মার্চ
সর্বশেষ:

নেত্রীর ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বে সব মিশন-ভিশন ওভারকাম

নৃপেন রায় : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১১-২৬ ৯:৫৯:০৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-২৯ ১:২৪:৪৭ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকৌশলী মো. আব্দুস সবুর। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক। আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিতে সহ-সম্পাদক ছিলেন।

 

আব্দুস সবুর ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ইউকসু) জেলারেল সেক্রেটারি (জিএস)নির্বাচিত হয়েছিলেন। বরিশাল বিএম কলেজে থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে পদার্পণ। ১৯৭৮-৭৯ সালে তিনি বিএম কলেজ ইন্টারমিডিয়েট মুসলিম হোস্টেলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। এরপর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বুয়েট নজরুল ইসলাম হল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পদ অলঙ্কৃত করেন। পরবর্তী সময়ে ওই হলেই তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

এরপর বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মনোনীত হন আব্দুস সবুর। পরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য মনোনীত হন। ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে গিয়ে ১৯৮৭ সালে বুয়েট থেকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার হন। বুয়েটে ফ্রিডম পার্টি ফরমেশনে বাধা প্রদানের নেতৃত্বদানে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সংঘর্ষে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবার তিনি বহিষ্কার হন। ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালনের পর পরবর্তী সময়ে কর্মজীবনেও তিনি প্রকৌশলীদের বিভিন্ন সংগঠনের গুরুপ্তপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। প্রকৌশলীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) এর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে আব্দুস সবুর আইইবিতে প্রথমবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন। এরপর ২০১১-১২ সালে আইইবির সাধারণ সম্পাদক হন। বর্তমানেও তিনি আইইবির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশের পেশাজীবী প্রকৌশলীদের নেতা হিসেবে বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সংগঠনে গুরুপ্তপূর্ণ দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

 

এসব বিষয়ে আব্দুস সবুর রাইজিংবিডির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন রাইজিংবিডির নিজস্ব প্রতিবেদক নৃপেন রায়।  ছবি তুলেছেন রাইজিংবিডির ফটোগ্রাফার শাহীন ভূইয়া।

 

রাইজিংবিডি : কেমন আছেন?

আব্দুস সবুর : ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

 

রাইজিংবিডি : জি, ভাল আছি। আপনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক পদের দায়িত্ব পেয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে এই পদপ্রাপ্তিতে রাজনৈতিক জীবনের কেমন অর্জন হিসেবে দেখছেন?

আব্দুস সবুর : আমার রাজনৈতিক জীবনে এখন পর্যন্ত এই অর্জনই শ্রেষ্ঠ অর্জন। সেজন্য আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি  জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। আর যেহেতু আমি রাজনীতি করি। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন, বড় ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন হল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমার রাজনৈতিক জীবনে আওয়ামী লীগের মতো সংগঠনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক পদপ্রাপ্তি নিঃসন্দেহে গর্বের।

 

রাইজিংবিডি : ছাত্ররাজনীতিতে আসার পেছনে আপনার অতীত অনুপ্রেরণায় উৎস ও আদর্শ কী?

আব্দস সবুর : আমার আদর্শ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনিই আমার প্রেরণার উৎস।

 

রাইজিংবিডি : আপনি তো বাংলাদেশের উত্তাল সময়ে রাজনীতি করেছেন। ওই সময়ের কোনো ঘটনা বা স্মৃতি কি আপনাকে আজকের এই অবস্থানে আসতে উৎসাহ বা প্রেরণা জুগিয়েছে?

আব্দুস সবুর : আমি বুয়েটে ঢুকি ১৯৮১ সালে। ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন হয়েছে। সেই আন্দোলনে আমরা বিভিন্ন সময়ে জয়নাল, জাফর, কাঞ্চন ও দিপালী সাহার মতো নেতৃত্বকে রাজপথে জীবন ও রক্ত দিতে দেখেছি। আমি ১৯৮২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দেখেছি। এরপরও অনেক আন্দোলন সংগ্রাম প্রত্যক্ষ করেছি। আমি রাজনৈতিক জীবনে সেলিম দেলোয়ারকে ট্রাকের নিচে রাজপথে পিষ্ট হওয়ার মতো জঘন্য ঘটনা দেখেছি। তারপর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের একজন কর্মী হিসেবে রাজনীতি করেছি। জিরো পয়েন্টে নূর হোসেনের ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। সেদিন কিন্তু নেত্রী তাকে বলছিল সরে যাওয়ার জন্য। আমি সেদিন নূর হোসেনকে গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিতে দেখেছি। আর সর্বশেষ নব্বইয়ের গণআন্দোলন। যে আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকার এরশাদের পতন হয়। ডা. মিলন মারা যাওয়ার আগে সেদিন ওটাই ছিল স্বৈরাচারবিরোধী শেষ মিছিল। সেই মিছিলে আমার বুয়েটের প্রায় ৪ হাজার ছাত্রছাত্রী অংশ নিয়েছিল। সেদিন আমরা মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করি। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে  দেখি সেখানে তেমন একটা মিছিল নেই। এরপর মিছিল নিয়ে আমরা দোয়েল চত্বর হয়ে কলাভবন পর্যন্ত তিন চারটি রাউন্ড দেই। এরপর  মসজিদের পাশ দিয়ে টিএসসি দিয়ে দোয়েল চত্বরের দিকে যাই। তখন আমাদের ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়। ওনি আমাদের মিছিল দেখে রিকশা থেকে নামেন। এরপর আমরা তাকে সালাম দিয়ে রিকশায় উঠিয়ে দিলাম। সেখানে থেকে আমরা এগিয়ে গিয়ে শুনি ডা. মিলন মারা গেছে। ওই ঘটনায় আমাদের বুয়েটের প্রায় চার পাঁচজন সিরিয়াসলি আহত হয়। পরবর্তী সময়ে আমরা আমাদের অডিটরিয়ামে কনসার্ট করে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাকা তুলে তাদেরকে থাইল্যান্ডের বামরুদনাদে পাঠাই। এগুলো একটি স্মৃতি। এরপর তো ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ইউকসু) নির্বাচন । সেই নির্বাচনে আমি জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত হই।

 

রাইজিংবিডি : ছাত্ররাজনীতির পথ পেরিয়ে এখন তো আপনি আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বপ্রাপ্ত। একজন প্রকৌশলী হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে এই দায়িত্বেও গুরুভার নিয়ে দলের জন্য কাজ করতে কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করবেন?

আব্দুস সবুর : আমি আইইবিতে বিএনপির আমলেই সহসাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি দুবার। ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছি। আর দুবার অনাররি জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়েছি। এখানে কাজ করতে গিয়ে আমি অনেক সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপ করেছি। যেটা সমসাময়িক বিষয়ের উপরে। কখনো দেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনের কী হবে? আমাদের অবকাঠামে কেমন হবে? গ্রামীণ অবকাঠামো কী হবে? কী ধরনের উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা দেশের জন্য কার্যকর হবে? আমাদের ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট কী হবে? রোড নেটওয়ার্ক কী হবে? আমাদের আইটি সেক্টরে কী হবে? এই বিষয়গুলোর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উপদেশ ও দিকনির্দেশনা নিয়ে দেশ ও দলের জন্য কাজ করব। কারণ আমি আশাবাদি, আগামী দিনে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে। এ ছাড়াও আমাদের দল ও সরকার আগামী দিনে শিল্পায়ন, আইটি সেক্টর, টেক্সটাইল সেক্টর, নেভিগেশন সেক্টর, পিপ সিপোর্ট বা টানেল নির্মাণের উদ্যোগে গ্রহণ করেছে। এসব বাস্তবায়নের মধ্যেই আগামী দিনের উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে। আর বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ উন্নয়নের কাজে আমাদের প্রকৌশলীরা জড়িত থাকে।

 

বঙ্গবন্ধু কন্যা ২০২১ ও ২০৪১ সালের মধ্যে মধ্যম এবং উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপকল্প জাতির সামনে নিয়ে এসেছেন। আমরা তার নেতৃত্বে বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। ২০৪১ সালের আগে কীভাবে উন্নত বাংলাদেশ রূপান্তরিত করা যায় সেজন্য আমাদের যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ আছে তাদের মতামত নিয়ে দলের কাছে উপস্থাপন করব। এক্ষেত্রে  আমি কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় বা জেলাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার এজেন্ডাকে প্রাধান্য দেব। (যেমন- বরেন্দ্র অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য  কী কী হতে পারে, চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য কী কী হতে পারে। রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নে কী হতে পারে? নদীপ্রবণ এলাকা বরিশালের মতো কী হতে পারে?

 

 

রাইজিংবিডি : আপনি দাবি করছেন,বাংলাদেশের উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে প্রকৌশলীরা ৯০ শতাংশ জড়িত। এই বিপুল সংখ্যক প্রকৌশলীর মধ্যে তো সবাই আওয়ামী লীগ ও প্রগতিশীল মতাদর্শের নয়। যারা আপনার দল ও মতাদর্শের বাইরে তাদেরকে নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা কী?

আব্দুস সবুর : দেখুন, মতাদর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে। কিন্তু আমি মনে করি উন্নয়নের স্বার্থে দেশের জন্য আমাদের চিন্তাভাবনা এক হওয়াই উচিত। আমাদের যারা বিশেষজ্ঞ আছে, যখন যাদের যে কাজে লাগবে তাদেরকে সেই কাজে লাগানো হবে। আর এ জায়গায় আমি এই ৮০শতাংশ প্রকৌশলীদের সহযোগিতা পাব। আমি আরও জানি, কোন সেক্টরে কারা কারা  স্পেশালিস্ট বা এক্সপার্ট। এই জায়গায় আমাদের মতাদর্শের অনেক ভালো এক্সপার্ট আছে।

 

রাইজিংবিডি : দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এই বিশাল অংশকে একই প্লাটফর্মে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে আপনার কোনো ব্যক্তিগত উদ্যোগ থাকবে কি না?

আব্দুস সবুর : এটা সব সময়ই থাকবে।

 

রাইজিংবিডি : কী উদ্যোগে কী প্রক্রিয়ায় আপনি এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন?

আব্দুস সবুর : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মী দেশ ও বিদেশের সব প্রান্তেই আছে। আমি এই জায়গায় আমাদের তৃণমূল থেকে আমার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলব। তৃণমূল পর্যায়ে আমাদের যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আছে তাদের সঙ্গে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলব। যারা থানা, উপজেলা, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে আমাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন প্রথমে তাদের সঙ্গে কানেকটিভিটি বাড়িয়ে উদ্যোগ নেব। এরপর তাদের নিজ নিজ এলাকা সংশ্লিষ্ট  উন্নয়নের জন্য তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করার পরিকল্পনা আছে।

 

রাইজিংবিডি : আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে দুটি টার্গেট নিয়ে। এগুলো হচ্ছে- ‘মিশন- আগামী জাতীয় নির্বাচন’ এবং ‘ভিশন-২০২১ বাস্তবায়ন’। এই মিশন-ভিশন বাস্তবায়নে করতে গেলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলমান গ্রুপিং, আধিপত্য বিস্তারসহ জনস্বার্থবিরোধী কাজ বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না? এ ব্যাপারে আপনার ব্যক্তিগত মতামত কী?

আব্দুস সবুর : দেখুন, আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের একটি সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। একটি পরিবারেও সকল সদস্যদের চিন্তাধারার পার্থক্য থাকে। যেহেতু আমাদের আদর্শ বঙ্গবন্ধু, আর আমাদের নেতৃত্বে আছেন তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা, তিনি যখন ডাক দেন তখন তার প্রশ্নে আমরা সবাই এক হয়ে যাই। যেটা অতীতেও হয়েছে। সুতরাং আমার বিশ্বাস জননেত্রী যেহেতু আমাদের দলের কাণ্ডারি তাই তৃণমূল পর্যন্ত সবাই আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধ। আগামীতে এটা কোনো অন্তরায় হিসেবে থাকবে না।

 

রাইজিংবিডি : দলীয় মিশন ও ভিশন বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে আপনার কোনো পরামর্শ ?

আব্দুস সবুর : জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই গতিশীল। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়েও আমরা তাকে ধরতে পারি না। তার মতো নেতৃত্বের সঙ্গে বর্তমানে যোগ হয়েছেন সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনিও কর্মীবান্ধব। আর তাদের সাথী আমরা এক ঝাঁক কর্মী আছি সারা দেশেই। আশা করি, আগামী নির্বাচনে জননেত্রীর ক্যারিশমেটিক ভিশনারি নেতৃত্বের মাধ্যমেই আমরা দলের মিশন-ভিশন ওভারকাম করতে সক্ষম হব।

 

রাইজিংবিডি : আপনাদের দলের মধ্যে একটি কথা প্রচলিত আছে, দলের উন্নয়ন বেশি অথচ প্রচার কম। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

আব্দুস সুবর : এ জায়গায় আমি আপনার সঙ্গে সহমত। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার টানা দুই মেয়াদে দেশের যে উন্নয়ন করেছে তা কল্পনাতীত। অথচ সকরকারের এত উন্নয়নের কিন্তু প্রচার কম। আশা করছি আগামী দিনে এই প্রচারটা আমরা কাভার করার চেষ্টা করব।

 

রাইজিংবিডি : আগামী জাতীয় নির্বাচনে যদি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট অংশ নেয় সেক্ষেত্রে  আপনি আপনার দল বা জোটের জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী?

আব্দুস সবুর : আমাদের আদর্শ হল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর আছেন ভিশনারি লিডার জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এখন বিশ্বমানের নেত্রী। তিনি তো দেশকে উন্নয়নের মাইলফলকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে তিনি স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। শুধু আজ স্বপ্নই নয়, তা তিনি বাস্তবায়নও ঘটিয়েছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন কল্পনা নয়, বাস্তবতা। আমার বিশ্বাস জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে আমরা এককভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয় জয়লাভ করব ইনশাল্লাহ।

 

রাইজিংবিডি : বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এককভাবে গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেনি। আপনি এখন সরকারদলীয় দলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক। আগামীতে এ ব্যাপারে আপনার ব্যক্তিগত ভূমিকা কী থাকবে?

আব্দুস সবুর : দেখুন, যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা একটি আলাদা পাঠ থাকা উচিত। আমাদের যেহেতু এত দিন অর্থনীতি ওই লেভলে ছিল না, তাই আমি আশাবাদী, আগামীতে আমাদেরকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এগিয়ে যেতে হলে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ক্ষেত্রকে ডেভেলপ করতে হবে। কেননা আমাদের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও কিন্তু আমরা কেবল গবেষণার কারণে ওয়াল্ড স্টানডার্ডে যেতে পারছি না। অথচ আমাদের মেধা আছে, টিচার আছে, ছাত্র আছে। আমাদের সবকিছুই আছে। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিন্তু কিছু দিন আগেও বলেছেন, শুধু পড়ালেখা করলেই চলবে না, গবেষণার দিকেও জোর দিতে হবে। সুতরাং আমার বিশ্বাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গবেষণার উপর জোর দিচ্ছেন।

 

রাইজিংবিডি : আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যেই আগামী জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের কাছে নিজস্ব পরিকল্পনা চেয়েছেন। সেক্ষেত্রে আপনার ভূমিকা কী থাকবে?

আব্দুস সবুর : আমি চেষ্টা করব।

 

রাইজিংবিডি : আওয়ামী লীগের অতীত-বর্তমান নিয়ে আপনার অভিমত কী?

আব্দুস সবুর : আওয়ামী লীগ সময়ের তাগিদে তার চিন্তা চেতনার পরিবর্তন এনেছে। সেই ৬৭ বছরের পুরনো জায়গায় কিন্তু থেমে থাকেনি। যখন যা দরকার হয়েছে, আওয়ামী লীগ তখন চলমান রাজনীতি, বিশ্ব রাজনীতি ও বৈশ্বিক উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছে এবং কর্মসূচি দিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই ডিজিটাল বাংলাদেশ কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সুযোগ্য সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ের চিন্তা ও উদ্যোগের ফসল। তিনিই আমাদের আগামী দিনের লিডার। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার বিশাল ভূমিকা আছে।

 

রাইজিংবিডি : তরুণ প্রজম্মের প্রতি আপনার কোনো আহ্বান বা পরামর্শ আছে কী?

আব্দুস সবুর : আগামী দিনের প্রজন্ম এবং বর্তমান প্রজন্ম আওয়ামী লীগের চিন্তা- চেতনাকে ধারণ করে আগামী দিনের উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে আসবে, এটা আমি বিশ্বাস করি। কারণ এই প্রজম্মরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে অতীতেও ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের যেহেতু ভিশনারি লিডার আছে, তাই আমি আশাবাদী এবং বিশ্বাস করি আগামী প্রজম্ম আওয়ামী লীগের মতাদর্শ ও চেতনার  সঙ্গে একাত্ম ও ঐক্যবদ্ধ থাকবে। আর আমি আগামী প্রজম্মকে বলব ছাত্রলীগের পতকাতলে আসার জন্য। কারণ ছাত্রলীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছে। আগামী দিনেও দেশের  নেতৃত্ব দিতে ছাত্রলীগকেই হাল ধরতে হবে।

 

রাইজিংবিডি : আপনাকে ধন্যবাদ।

আব্দুস সবুর : রাইজিংবিডিকেও ধন্যবাদ।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ নভেম্বর ২০১৬/সাইফুল

Walton Laptop