ঢাকা, শনিবার, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

নোয়াখালীতে অর্ধলক্ষ হেক্টর রোপাআমন পানিতে

মাওলা সুজন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১১-০৯ ৩:৪৩:৩৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৬-১১-০৯ ৩:৪৩:৩৬ পিএম
পানিতে নিমজ্জিত রোপাআমনের খেত

মাওলা সুজন, নোয়াখালী : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ নাডা চলে গেলেও রেখে গেছে অনেক ক্ষয়ক্ষতির ছাপ। নাডার প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও ভারি বাতাসে নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় ৪৭ হাজার ৮৪৫ হেক্টর রোপা আমন নুয়ে পড়ে পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। ফলে আমন ধানের আশানুরূপ ফলন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে কৃষক।

 

নোয়াখালী জেলার সদর, সুবর্ণচর ও কবিরহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় প্রায় সব ধানক্ষেতের রোপা আমন বাতাসের কবলে পড়ে পানিতে লেপ্টে আছে। দেখা গেছে প্রায় ধান গাছেই থোড় এসেছে। কিছুতে ফুল ও দুধ অবস্থায় রয়েছে। কৃষকরা বলছে, গত শুক্রবার দুপুর থেকে আকাশে মেঘ দেখা যায়। বিকেল থেকে শুরু হয় হালকা থেকে দমকা হাওয়া। মধ্যরাতের দিকে বাতাসের সাথে বৃষ্টি শুরু হলেই ধানগাছগুলো নুয়ে পড়ে। গত শনিবার থেকে রোববার রাত পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে যায়। এতে বাতাসে নুয়েপড়া রোপাআমন পানিতে নিমজ্জিত হয়।

 

নোয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলায় এক লাখ ৫৬ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ করা হয়। এর মধ্যে নোয়াখালী সদরে ১৭৯১০, বেগমগঞ্জে ২৩০, সেনবাগে ৪১৪৫, চাটখিলে ২০, কোম্পানীগঞ্জে ২২২৮০, হাতিয়ায় ৬৪৭০০, সোনাইমুড়িতে ১৮, সুবর্ণচরে ৩৭৭০০ ও কবিরহাট উপজেলায় ৯২০০ হেক্টর জমিতে রোপাআমন আবাদ করা হয়। কিন্তু ৬টি উপজেলায় ৪৭ হাজার ৮৪৫ হেক্টর রোপাআমন নুয়ে পড়ে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ৪৪৭৭, সেনবাগে ৪১৬, কোম্পানীগঞ্জে ৬৬৮৪, হাতিয়ায় ২২৯৪৮, সুবর্ণচরে ১১০০০ ও কবিরহাট উপজেলায় ২৩২০ হেক্টর জমির রোপাআমন বাতাসে নুয়ে পড়ে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

 

সুবর্ণচর উপজেলার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সাগরিকা’র কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শিবভ্রত ভৌমিক জানান, গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তিনি উপজেলার চরজব্বার, চরজুবলি, চরবাটা ও চর ওয়াপদা ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন। দেখা গেছে উঁচু এলাকার জমিগুলোর রোপাআমন এখনও কিছুটা দাঁড়িয়ে আছে। পরিদর্শনকৃত এলাকার প্রায় ৫৫-৬০ শতাংশ রোপা আমন বাতাসে নুয়ে পড়ে পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। সৃষ্ট এ জলাবদ্ধতা যদি আরো ২-৩দিনও থাকে তাহলে পানিতে পড়ে থাকা ধানগুলোর প্রায়সবগুলোই পচে যাবে।

 

চরবাটা ইউনিয়নের কৃষক সিরাজ মিয়া জানান, এ বছর তিনি বর্গা নিয়ে প্রায় ৫ কানি জমিতে রোপাআমন আবাদ করেছেন। বর্তমানে ধানে পাক ধরেছে। বাংলা আশ্বিন মাসে আবাদ করা এ ধান চলতি (কার্তিক) মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঘরে তোলার স্বপ্ন ছিল। ঋণ ও ধানের উপর (সুদে) টাকা নিয়ে আবাদ করেছেন। দুর্যোগের কবলে পড়ে এখন তিনি প্রায় সর্বশান্ত।

 

এ কৃষক আরো জানান, দুর্যোগের কবলে না পড়লে এবছর অন্তত: ৪০০ মণ আমন ধান ঘরে তুলতেন তিনি। এখন যদি দ্রুত পানি সরে তাহলে হয়তো প্রতি কানিতে ৩৪ থেকে ৪০ মণ করে ধান তুলতে পারবেন। আবার যা ঘরে তুলবেন এর মধ্যেও অনেক ধান মরা পড়বে। আবাদে ৮০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এ অবস্থায় কিভাবে ঋণের টাকা শোধ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তিনি।

 

শুধু সিরাজ নয়, কথা হয় চর জব্বারের রবি, চরজুবলির খায়রুল আলম, সেলিম সর্দার ও চর ওয়াপদার রবিউল আলম, আবুল খায়ের এবং ছিদ্দিকের সাথে। তাদের প্রত্যেকেরই একই অবস্থা।

 

নোয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রণব ভট্টাচার্য্য বলেন, বাতাসে ধানগুলো হেলে পড়েছে। পুরো জেলার মধ্যে হাতিয়া ও সুবর্ণচরে একটু বেশি হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় ৩১ শতাংশ রোপা আমন, বিশেষ করে স্থানীয় জাত আক্রান্ত হয়েছে। তবে পানি সরে গেলে হয়তো অতটা সমস্যা থাকবে না।

 

 

রাইজিংবিডি/নোয়াখালী/৯ নভেম্বর ২০১৬/সুজন/টিপু

Walton
 
   
Marcel