ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ চৈত্র ১৪২৫, ২১ মার্চ ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

নিউজিল্যান্ডে হত্যাযজ্ঞ: প্রিয় শিক্ষক হারিয়ে ছাত্রদের শোক

নজরুল মৃধা : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১৫ ৬:৪৮:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৩-১৬ ৪:০৮:৫১ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর : নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় তিন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদের একজন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. আবদুস সামাদ। অপরজন ড. ফরিদের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম।

আবদুস সামাদ ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতথ্য বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগাম অবসর নিয়ে তিনি সপরিবারে নিউজিল্যান্ড চলে যান। সেখানে তিনি লিংকন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। দুই ছেলে ও স্ত্রী তার সঙ্গে থাকতেন। এই কৃষি বিজ্ঞানির মৃত্যুতে কৃষিবিদ কর্মকর্তাদের মাঝে শোক নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম জাকির হোসেন তার প্রিয় শিক্ষককে হারিয়ে বলেন, ‘‘স্যার আমাদের সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। স্যার দুই ছেলে ও স্ত্রীসহ নিউজিল্যান্ডে থাকতেন। মাঝেমধ্যে যোগাযোগ হতো। তিনি বিদেশের মাটিতে এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন, এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।’’

আবদুস সামাদের আরেক ছাত্র রংপুর কৃষিতথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা আবু সায়েম বলেন, ‘‘আমরা একজন গুণী শিক্ষককে হারালাম। স্যার আমাদের বন্ধুর মতো ছিলেন। প্রিয় শিক্ষক সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হবেন, এটা ভাবতে পারছি না। স্যারের গ্রামের বাড়ি ছিল কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের মাথুর হাইলদা গ্রামে।’’

বাংলা একাডেমির সহকারী সম্পাদক কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না জানালেন, ‘‘১৯৯৭ সালে আমি স্যারের সরাসরি ছাত্র ছিলাম। স্যার অত্যন্ত মেধাবী ও ধার্মিক ছিলেন। খুব কম হাসতেন। তবে যখন হাসতেন, তখন প্রাণখুলে হাসতেন।’’ 

আবদুস সামাদ সকলের প্রিয় শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতা ছাড়াও তিনি ময়মনসিংহস্থ বৃহত্তর রংপুর সমিতির সভাপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সহজে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করতে পারতেন।   

আবদুস সামাদের মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে শোক বিরাজ করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রিয় মানুষের মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছেন না। নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকু জানান, তিনি গ্রামে খুব-একটা না এলেও মুরুব্বিরা তাকে চেনে। তার মৃত্যুর খবরে এলাকার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন।

নিহত ড. আবদুস সামাদের ছোট ভাই শামছুজ্জামান জানান, তাদের ১০ ভাই-বোনের মধ্যে আবদুস সামাদ সবার বড়। পাঁচ বছর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নিয়ে নিউজিল্যান্ডে যান। সেখানে দুই ছেলে ও স্ত্রীসহ বসবাস করছিলেন। বন্দুকধারীর হামলায় ভাইয়ের নিহত হওয়ার খবর শোনার পর নিউজিল্যান্ডে যোগাযোগ করে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। 

নিউজিল্যান্ডে দূতাবাসের অনারারী কনসাল শফিকুর রহমার ভুইয়া হামলায় তিন বাংলাদেশি নিহতের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এদের মধ্যে দুই জনের পরিচয় সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পেরেছেন।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি আরো জানান, আরেক জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. আবদুস সামাদের স্ত্রী, যাকে এর আগে নিখোঁজ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

তিনি বলেন, নিহতদের একজন ড. আবদুস সামাদ, যিনি স্থানীয় লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। ড. সামাদ এর আগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। নিহত অন্যজনের পরিচয় সম্পর্কে তিনি বলেন, মিসেস হোসনে আরা ফরিদ একজন গৃহবধূ ছিলেন। 

আরো পড়ুন

>> নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলায় ৩ বাংলাদেশি নিহত
>> নিউজিল্যান্ডের দুটি মসজিদে বন্দুক হামলা, নিহত ৪৯
>> নিউজিল্যান্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নিন্দা ও শোক

>> ভয়ংকর অভিজ্ঞতা : তামিম

>> আরও সিকিউরিটি চাওয়ার সময় এসেছে : পাপন

>> শনিবারই দেশে ফিরছে বাংলাদেশ দল


রাইজিংবিডি/রংপুর/১৫ মার্চ ২০১৯/নজরুল মৃধা/বকুল

Walton Laptop
 
     
Walton AC