ঢাকা, সোমবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৬, ২৪ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বধূবরণে ইন্টেরিয়র

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৬-০১-০৯ ৭:৩৮:২২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০২-২৫ ৪:৩৫:৫৭ পিএম
Walton AC 10% Discount

একটা সময় ছিল, বাড়িতে বিয়ের আয়োজনে প্রথমেই ঘরবাড়ি ঠিক করা দেখেই প্রতিবেশীরা বুঝতেন সামনে আসছে শুভদিন।

বাড়ির সামনে এবং উঠোন থেকে শুরু করে সবজায়গায় মেরামত এবং রঙ করা ছিল তখনকার বিয়ে পূর্ববর্তী প্রস্তুতি। আর এখন তো ফ্লাট বাসায় তোড়জোড় চলেনা তেমন। তারপরও বিযের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে ঘরবাড়িতে একটা সুন্দর সাজানো -গোছনো ভাব এনে বিয়েতে ইন্টেরিয়র এ আনতে পারেন পরিবর্তন।

ঘরের বিভিন্ন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আলোর সমাহার ঘটিয়ে নান্দনিকতা ফুটিয়ে তুলতে পারেন সহজে। বধূবরণে একরাশ স্নিগ্ধতা যাক ছড়িয়ে।

বসার ঘর
এই ঘরটিই নজরে পড়ে সবার আগে। অতিথি-আপ্যায়নে বসার ঘরটি পরিপাটি করতে হবে সবার আগে। বসার ঘরের আলোকসজ্জা অবশ্যই হতে হবে আধুনিক ও সুন্দর। স্ট্যান্ডিং-লাইট হলে সোফার ডান বা বাম পাশে রাখুন। ঝোলানো সুন্দর বাতি হলে তা মাঝে ঝুলিয়ে তার দু বা চারপাশে সোফা রাখুন। যদি কোনাকুনি করে বাতি রাখেন তবে বসার ঘরটিকে দেখতে বড় দেখাবে। টিভি দেখার সময় অবশ্যই আলো কমিয়ে নিতে হবে। অতি উজ্জ্বল আলোতে টিভি দেখলে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে।

শোবার ঘর
নতুন দম্পতি নিজেদের প্রথম পরিচয়ের ঘর এটি। তাই ঘরবাড়ি ইন্টেরিয়রে প্রথমেই মনোযোগ দিতে হবে শোবার ঘরের দিকে। এই রুমের সাজ ও আলোকসজ্জা হবে আরামদায়ক, রোমান্টিক ও আধুনিক। বেডরুমের আকৃতি ও আসবাবপত্র বুঝে তা সঠিক জায়গায় স্থাপন করতে হবে। আসবাবপত্রে যাতে আলো বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। বেডরুমে উঁচু লাইট ব্যবহার না-করাই ভালো। নতুন দম্পতির বিছানায় ব্যবহার করতে পারেন সুন্দর উজ্জ্বল রঙা চাদর। পাশেই থাকুক ছোট্ট মোহনীয় ল্যাম্পশেড।

খাবার ঘর
এই জায়গাটিতে পরিবারের সব সদস্যরা একত্রিত হন। খাবার গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সবাই মিলে গল্প-গুজবও চলে এখানে। বাড়িতে আসা নতুন অতিথির জন্য এই ঘরটি সুন্দর করে গুছিয়ে নিতে পারেন ইচ্ছে করলেই। পাশেই রাখতে পারেন অ্যাকুরিয়ামের ব্যবস্থা। খাবার ঘরের সিলিংয়ে উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করুন। এতে ঘরটি বড় ও খোলামেলা লাগবে। খাবার ঘরটি যদি ডিজাইন করতে চান তাহলে লাইটের রঙে সামঞ্জস্য রাখতে পারেন।

বাথরুম
কথায় বলে, মানুষের রুচি বোঝা যায় বাথরুম আর রান্নাঘর করে। তাহলে আপনি কেন রুচিশীল হবেন না? মনে রাখবেন সবার আগে বাথরুম হতে হবে পরিচ্ছন্ন। টাইলসের রঙ হতে হবে হালকা। যেমন হালকা সবুজ বা হলুদ টাইলস হলে আপনার বাথরুমটি যত ছোটই হোক বা আর খোলামেলা লাগবে। বাথরুমে বেসিনের কাচে ব্যবহার করতে পারে ছোট ছোট গাছের টব। এতে করে রুচির পরিচয়-ই মিলবে।

আরো যা মনে রাখতে পারেন
• বাড়ির ড্রইংরুমটি সাধারণত ঘরের প্রধান দরজার খুব কাছাকাছি হয়ে থাকে। চেষ্টা করুন এই রুমের জানালাগুলোকে একটু গোছানোভাবে তৈরি করতে। যদি বাড়ির প্রধান দরজা আলাদা করিডোরে হয় তাহলে ড্রইংরুমটি দরজাবিহীন শুধু দেয়াল দিয়ে আলাদা করতে পারেন। এতে আলো-বাতাস বেশি আসবে।

• এখন অনেকেই বাড়িতে কাচের ব্লক ব্যবহার করেন। এতে দিনের আলোকে আপনি একটা ডাইমেনশন দিতে পারবেন। এ ধরনের ব্লক বসাতে খরচ খুব বেশি হয় না। তবে চাইলে আপনি সিলিংয়ের দিকে ব্লক বসাতে পারেন।

• ড্রইংরুমের এক-পাশের দেয়ালটুকু পুরোটা কাচ দিয়ে তৈরি করতে পারেন। ছাদের সঙ্গে খানিকটা কাত করে এই কাচের দেয়ালটি দাঁড় করিয়ে দিলে কিন্তু মন্দ হবে না।

• দেয়ালগুলো আলোকময় করতে দেয়াল ঝুলিয়ে কিছু বাতি সেট করতে পারেন। আর রুমের যেখানে বাতি আছে সেই জায়গাগুলোতেই কেবলমাত্র ছবি ঝোলান। সেক্ষেত্রে বাতি বসানোর আগেই দেখে নিন কোথায় কোথায় ছবি ঝোলাবেন।

• একটি বড় কিংবা অনেকগুলো ছোট ছোট রট-আয়রনের মোমবাতির স্ট্যান্ড রাখুন। এগুলো ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি লোডশেডিংয়েও কাজে দেবে। তবে বাতিগুলো যেন অবশ্যই দেয়াল থেকে দূরে থাকে। নইলে দেয়ালে কালি পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

• কাপড় আর বাঁশের কঞ্চি দিয়ে চমৎকার ল্যাম্প-স্ট্যান্ড বানানো যায়। এ ধরনের ল্যাম্প-স্ট্যান্ড একদিকে যেমন আপনার ঘরের শোভা বাড়াবে তেমনি নান্দনিকতাও ফুটিয়ে তুলবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ জানুয়ারি ২০১৬/ফিরোজ

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge