ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ মাঘ ১৪২৩, ১৭ জানুয়ারি ২০১৭
Risingbd
 
সর্বশেষ:

বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয় হবে ২০১৭

ফজলে আজিম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-০১ ৮:১০:৩৬ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-০৮ ৫:০৯:৫৬ পিএম

প্রাচ্য জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী এ বছর বৃহস্পতি গ্রহ কন্যা ও তুলা রাশিতে অবস্থান করবে। শনি অবস্থান করবে বৃশ্চিক ও ধনু রাশিতে। রাহু সিংহ রাশি থেকে কর্কট রাশিতে প্রবেশ করবে। বছরজুড়ে মঙ্গল গ্রহ মীন থেকে তুলা রাশিতে পরিভ্রমণ করবে।

 

এ বছর মঙ্গলগ্রহ বক্রি হচ্ছে না। অন্যান্য সার্বিক গ্রহাবস্থান থেকে ধারণা করা হচ্ছে ২০১৭ সাল বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে।

 

এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক কেমন যেতে পারে ২০১৭ সাল

দেশের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ণ বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক ধরনের নীরব বিপ্লব দেখা যাবে। প্রশাসনিক কাজকর্মের গতি আগের চেয়ে বাড়বে। তবে কর্মক্ষেত্রে সনাতন ধারণার পেশাজীবীদের সঙ্গে সাধারণের মতৈক্য দেখা যেতে পারে। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহিতা বাড়তে পারে।

 

রাজনীতি : সরকারের বেশ কিছু উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিরোধীদলের সমর্থন থাকবে। বিরোধীদলের উর্ধ্বতন নেতাকর্মীর সঙ্গে দলীয় বৈঠক ফলপ্রসু হতে পারে। রাজনৈতিক আলোচনায় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব ও উসকানিমূলক কথাবার্তার ফলে জনসাধারণের মাঝে বিভিন্ন ধরনের মতবাদ তৈরি হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সরকারকে নিজ অবস্থানে কঠোর ও যোগাযোগে দক্ষতার প্রমাণ দিতে হতে পারে।

 

সরকারের বিপক্ষে বিরোধী দলের নীরব আন্দোলন ও জনসংযোগ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তবে তাতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের পেশাগত পদোন্নতি ও সুযোগসুবিধা বৃদ্ধির ফলে আন্দোলন খুব বেশি জমে উঠবে না। সরকারি চাকুরির নিয়োগে কিছু অসৎ লোকের দুর্নীতি সরকারের ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

 

পররাষ্ট্র : বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক ভালো যাবে। এছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। শিল্প ও প্রযুক্তিতে অগ্রসর অনেক দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করতে পারে। এক বা একাধিক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে। পারস্পরিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন আর্থিক ও উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

 

জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারিভাবে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিদেশ থেকে প্রাপ্ত রেমিটেন্স ও রাজস্ব আদায়ে বছরটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।  আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে জটিলতা আগের চেয়ে কমতে পারে। বিশেষ করে বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়তে পারে।

 

 

যোগাযোগ : দেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে উন্নত হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নে চলমান অনেক কাজ এ বছরের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ কার্যকর না হলে বাংলাদেশ বিমানের লোকসানের পাল্লা ভারী হতে থাকবে। এভিয়েশন খাতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের সংকট দেখা যেতে পারে।

 

শিক্ষা : শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের বাজেট বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ কোনো নীতিমালা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতে পারে। উচ্চশিক্ষার্থে শিক্ষার্থীদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বাড়বে।

 

সীমান্ত পথে অপরাধ প্রবণতা : বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয় ও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ নিয়ে সরকারকে আরো সতর্ক অবস্থানে থাকার প্রয়োজনিয়তা দেখা দেবে। সীমান্তপথে গোপনে অবৈধ পণ্যের বাণিজ্য বেড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের অবাধ প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তরক্ষীদের আরো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার প্রয়োজন হবে।

 

জীবনমান : বিভিন্ন শ্রেণীর পেশাজীবীদের জন্য বছরটি হবে প্রত্যাশা পূরণের বছর। সবশ্রেণীর মানুষেরই কমবেশি উপার্জন বাড়বে। উচ্চশিক্ষার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি বেকারত্বের হার কমবে। জীবনমান আগের চেয়ে উন্নত হবে। ভোজনরসিক মানুষদের চাহিদা মেটাতে রেস্টুরেন্ট ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবসা জমজমাট হবে।

 

ক্রীড়া : ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা মোটামুটি ভালো অবস্থানে থাকবে। অতীত কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন দলে লক্ষ্যণীয় সংযোজন ও বিয়োজন হতে পারে।

 

অপশক্তির সক্রিয়তা : অগ্নি রাশি মেষে ইউরেনাস প্রবেশের ফলে অপশক্তি উত্থানের চেষ্টা করতে পারে। বায়ু রাশি কুম্ভে নেপচুন ও কেতুর অবস্থান ও শনির দৃষ্টি বিনিময় সম্পর্ক তথ্যপ্রবাহে নিত্যনতুন কৌশলের সূচনা করতে পারে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বছরের শুরু থেকেই সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকার প্রয়োজন হবে।

 

আইনশৃঙ্খলা : দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা মোটামুটি ভালো। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের আশংকা রয়েছে। এতে জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে শংকা দেখা দিতে পারে। গোপন শত্রুতার জের ধরে গুপ্ত হত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। প্রেম ও পরকীয়ার জের ধরে নানা ঘটনার ফলে প্রায়ই সংবাদমাধ্যম সরগরম থাকবে।

 

চিকিৎসা : চিকিৎসাখাতে সরকারকে আরো কঠোর নজরদারি আরোপ করার প্রয়োজনিয়তা দেখা দেবে। ভুল চিকিৎসা, দায়িত্বে অবহেলা, কমিশন বাণিজ্য এসব নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়তে পারে। চিকিৎসক সংকট ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবে অঞ্চলভেদে চিকিৎসা বিভ্রাটের  আশংকা রয়েছে। সরকারের প্রজ্ঞাপূর্ণ নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অধিকাংশ সমস্যারই উত্তোরণ ঘটবে বলে আশা করা যায়।

 

সবমিলিয়ে ২০১৭ সাল বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন কারণে স্মরণীয় বছর হয়ে থাকবে।

 

লেখক : অ্যাস্ট্রলজার অ্যান্ড সাইকিক কনসালটেন্ট। কার্যনির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রলজার্স সোসাইটি, ঢাকা।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ জানুয়ারি ২০১৭/ফিরোজ