ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ কার্তিক ১৪২৪, ২৪ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

বড়রিয়ার মেলায় কোটি টাকার মিষ্টি বিক্রি

আনোয়ার হোসেন শাহীন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-১২ ১০:৪০:০৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১২ ১০:৪০:০৮ এএম
বড়রিয়ার মেলায় আসা একজন মিষ্টি বিক্রেতা

মাগুরা প্রতিনিধি : লাখো মানুষের মিলন মেলায় মুখরিত হয়ে উঠেছে খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় মাগুরার মহম্মদপুরের বড়রিয়ার মেলা। বস্ত্র, হস্ত, চারু-কারু, মাছ ও কুটির শিল্পের নানা পণ্যের  পাশাপাশি এ মেলার অন্যতম আকর্ষণ বাহারি মিষ্টির স্টল। প্রতি বছর মেলায় সারা দেশ থেকে বিক্রির জন্য বিক্রেতারা এখানে বিপুল পরিমাণ নানা স্বাদ ও নানা বর্ণের মিষ্টি আনেন।

মেলায় আসা মিষ্টি ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন, এবার মেলায় নানা রকমের মিষ্টির আমদানি হয়েছে। ক্রেতাও মিলছে প্রচুর। সহস্রাধিক ব্যবসায়ি মেলায় কোটি টাকার মিষ্টি বিক্রি করেছেন বলে জানান।

জানা গেছে,  উপজেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে বালিদিয়ার বড়রিয়া গ্রামের এই মেলা বাংলা পৌষ মাসের ২৮ তারিখে প্রায় শত বছর ধরেই নিয়মিত। প্রায় তিন বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এখানে মেলা বসে। মেলা মূলত একদিন হলেও মেলার  এক সপ্তাহ আগ থেকেই মেলা শুরু হয়, মেলার  পরের দিন  থেকে মেলা আরো এক সপ্তাহ স্থায়ী হয়।

মেলায় বস্ত্র, হস্ত, চারু-কারু, প্রসাধনি, ফার্নিচার, খেলনা, বাসনকোসন, তৈজষ পত্র, মাছ, মিষ্টি ও কুটির শিল্পের নানা পণ্যের প্রায় দশ হাজার স্টল বসে। এ মেলার অন্যতম আকর্ষণ মিষ্টির দোকানগুলো। মেলাকে ঘিরে বড়রিয়া পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। মেলা উপলক্ষে জামাই ও মেয়েদেরকে দাওয়াত করে আনা এই এলাকার মানুষের অনেকটা রীতিতে পরিণত।

মেলায় গেলে দেখা যায়, প্রতিবারের মতো এবারো মেলায় প্রচুর মিষ্টির আমদানি হয়েছে। বিরাট এলাকা জুড়ে সহস্রাধিক স্টলে মিষ্টির পসরা সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। এরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে  মিষ্টি বিক্রির জন্য এসেছেন। তারা নানাা অঙ্গভঙ্গি করে সুর ধরে ডেকে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।


কেউ কেউ বড় আকৃতির নানা রকমের মিষ্টির পাত্র উপরে তুলে ধরে ক্রেতা ডাকছেন। মেলায় প্রচুর পরিমাণে রসগোল্লা, মোহনভোগ, কমলাভোগ, কালোজাম, খিরসাপাত, সন্দেশ, দানাদার, চমচম, ক্ষিরের সন্দেশ, রসমালাই, রসকদম ও জিলিপিসহ বিভিন্ন মিষ্টির সমাগম হয়েছে। ব্যবসায়িদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়, কে কতো বাহারি মিষ্টি মেলায় আনতে পারেন। শ্রেণিভেদে কেজিপ্রতি এসব মিষ্টির দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর। সামর্থ্য  অনুযায়ি ক্রেতারা এসব মিষ্টি কিনছেন। এলাকার জামাইরা শশুরবাড়ি যে যত বড় ও বাহারি মিষ্টি  কিনে নিয়ে যেতে পারেন তার ততো বেশি সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। আকর্ষণীয় মিষ্টি কেনার জন্য বড়রিয়া মেলাই সবচেয়ে উত্তম জায়গা।

মাগুরা সদরের আরমান হক প্রতি বছর এ মেলায় আসেন মিষ্টি কেনার জন্য। এবার তিনি সাত কেজি বিভিন্ন মিষ্টি কিনেছেন। আরমান বললেন, ‘টাকা হলেও সব সময় এমন মিষ্টি মেলে না।’

নড়াইলের মিষ্টি ব্যবসায়ি তারাপদ সিকদার এ মেলার পরিচিত মুখ। প্রতিবছরই নানা জাতের মিস্টি নিয়ে মেলায় আসেন। তারা এক সঙ্গে চারজন এসেছেন মেলায় মিষ্টি বিক্রির জন্য। জানালেন, দরদাম করেই এখানে মিষ্টি বিক্রি হয়। আর এখানে মিষ্টি বিক্রির জন্য বছর জুড়েই প্রস্তুতি থাকে তাদের।

ফরিদপুরের বোয়ালমারি থেকে মিষ্টি বিক্রি করতে এসেছেন আলতাফ মিয়া। তিনি প্রায় একলাখ টাকার মিষ্টি বিক্রি করেছেন এবার। তবে মেলায় এবার মাত্রাতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বড়রিয়া এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুর রহমান মোল্যা (৭২) বলেন, ‘মিষ্টির  জন্য বড়রিয়া মেলা বিখ্যাত।  মেলায় আর যাই কিনি না কেন, মিষ্টি না কিনলেই নয়। মাটির হাড়িতে মিষ্টি নিয়ে বাড়ি ফেরা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।

বড়রিয়া মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি মহম্মদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খাঁন জাহাঙ্গীর আলম বাচ্চু  বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারের মেলাও জমজমাট। প্রতিটি স্টলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়িদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা নানা পদক্ষেপ নিয়েছি।’

 

 

রাইজিংবিডি/মাগুরা/১২ জানুয়ারি ২০১৭/ আনোয়ার হোসেন শাহীন/টিপু

Walton