ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

মাদক রোধ করতে হবে কঠোরভাবে

: রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৫-১০-৩১ ১২:৩৮:১৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৫-১০-৩১ ১:৩০:২২ পিএম

সরকার আগামী পয়লা জানুয়ারি থেকে সারা দেশে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযান চলবে এক মাস।

আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু গত বুধবার সচিবালয়ে কমিটির বৈঠক শেষে জানান, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থানে। মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে মাদকবিরোধী নিয়মিত অভিযান চলছে। জানুয়ারিতে মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান চলবে।

মাদকাসক্তি নিয়ে দেশে যে সংকট, তা ভয়াবহ। এটা সামাজিক সংকট। যুবক ও তরুণরা এই নিষিদ্ধ জিনিসটির প্রতি আসক্ত হচ্ছে। এ কারণে তারা স্বাধীনতার মূল্যবোধ এবং সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনের সংস্কৃতি থেকে ছিটকে পড়ছে। আর এর মধ্য দিয়ে মাদকের থাবা আরো বড় হচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম নিয়ে পরিবার ও সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে হতাশা।

নগরায়ণ ও যান্ত্রিকতার সঙ্গে সঙ্গে কিশোর-যুবকদের বিনোদনের সুযোগ ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসছে। তাদের অঙ্গন হয়ে উঠেছে চার দেয়ালের কুঠরি। নগর ও শহরে খেলাধুলার সুযোগ নেই বললেই চলে। চার দেয়ালের ভেতরে থাকতে থাকতে তারা মাদক সেবনে উত্সাহী হয়ে পড়ে। মাদকাসক্ত কিশোর-যুবকরা অর্থের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং জড়িয়ে পড়ে নানা অপরাধমূলক কাজে।

অথচ আমাদের যুবসমাজই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। একসময় পাটকে বলা হতো সোনালি আঁশ। আর আজ মানবসম্পদ রপ্তানি করে বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স আসছে দেশে। আমাদের অতি মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে মানুষ। এর মহামূল্যবান অংশ হচ্ছে যুবসমাজ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জন্মহার কম থাকায় সেসব দেশে কর্মক্ষম জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব দেশকে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে জনবল আমদানি করতেই হবে। আর জনবল সমৃদ্ধ দেশগুলোর অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশ।

কিন্তু মাদকের কারণে দেশের কিশোর ও যুবসমাজ প্রায় পঙ্গু হতে বসেছে। জাতিসংঘের এক জরিপ অনুযায়ী ২০০৯ সালে বাংলাদেশে মোট মাদকাসক্তের সংখ্যা ছিল ৬৫ লাখ। এর মধ্যে দেড় লাখ ছিল নারী, যাদের বেশির ভাগই তরুণী। বর্তমানে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ পুরুষ ও ২০ শতাংশ নারী। এদের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর। প্রায় ৬৫ শতাংশ মাদকাসক্ত অবিবাহিত এবং ৫৬ শতাংশ বেকার অথবা শিক্ষার্থী। এরা প্রতিদিন মাদকদ্রব্য কিনতে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয় করে। সে হিসাবে বছরে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা মাদকের পেছনে ব্যয় হয়।

মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে গত পাঁচ বছরে ইয়াবার ব্যবহার বেড়েছে ৭ গুণ। গাঁজা, হেরোইন, চরস ও মারিজুয়ানার ব্যবহারও বেড়েছে । মাদকাসক্তদের একটি বড় অংশ এখন সেবন করে ইয়াবা। গাঁজা, ফেনসিডিল, চরস ও হেরোইনের চেয়ে তাদের কাছে ইয়াবাই বেশি প্রিয়। মাদকদ্রব্য যেমন জীবনকে ধ্বংস করে, তেমনি উত্পাদনমুখী কাজকে বাধাগ্রস্ত করে। তাদের কারণে পরিবার ও দেশ বিরাট অঙ্কের আর্থিক লোকসান গোনে। অথচ তরুণরা কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে উপার্জন করতে পারে। সুতরাং মাদকের কালো থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতেই হবে।

সরকার প্রতিবছরই মাদক রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এতে কিছু কাজ যে একেবারে হয় না, তা নয়। কিন্তু এই বিশেষ অভিযান শেষে তো মাদকদ্রব্যের প্রতাপ আবার শুরু হয়ে যায়। যুবশক্তিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সরকারকে কঠোর হতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক হতে হবে। মাদকবিরোধী ভূমিকায় পরিবার ও সমাজকে সোচ্চার হতে হবে। এটাকে প্রতিহত করতে হবে সামাজিকভাবে এবং আইনগতভাবে। আমরা মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্য কামনা করি।

 

 

 

রাইজিংডিবি/ঢাকা/৩১ অক্টোবর ২০১৫/শাহনেওয়াজ/এএন

Walton
 
   
Marcel