ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ আষাঢ় ১৪২৬, ২৭ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মিরিকিনিকথা || শাকুর মজিদ

: রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৫-০৭-১১ ১২:২৬:০৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৬-০৯-০৫ ৩:০৯:০৫ এএম
Walton AC 10% Discount

বছর তিরিশ আগের কথা।
বাড়ির পাশে ধানখেতে নাড়া বিছানো মাঠে জাম্বুরা দিয়ে ফুটবল বানানো হয়েছে এবং সেই ফুটবল লাথি দিয়ে নাড়ার দুই ঢিবির মাঝখানে ফেলার জন্য দৌড়াদৌড়ি করছি আমরা ক’জন। এমন সময়, বাড়ির পেছন দিকে আমাদের সবার চোখ গেল। চারজন লোক দুটো লাঠির মতো জিনিসের মধ্যে কয়েকটা স্যুটকেস নিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছে। তাদের মাঝখানে কালো জোব্বা (পরে শুনেছি, ওটাকে স্যুট বলে) পরা এক লোক। লোকটি একা নয়, তার সাথে গ্রামের আরো ৫-৭ জন, অনেকটা মিছিলের মতো করে নিয়ে যাচ্ছে।

খানিক পরে শুনলাম বলাবলি হচ্ছে, ‘মিরিকিনি’ বাড়ি এসেছেন। আমরা জাম্বুরার বল মাঠে ফেলে রেখে দৌড় দিলাম ‘মিরিকিনি’কে দেখার জন্য। বাড়ি গিয়ে দেখি, তিনি কাঠের চেয়ারের ওপর গেঞ্জি পরে বসে আছেন। দুইজন লোক হাতপাখা দিয়ে তাকে বাতাস করছে।
আমরা ধীরে ধীরে তার কাছে ঘেঁষার চেষ্টা করলাম। তাঁর কাপড়-চোপড় থেকে কি এক ধরনের ঘ্রাণ বেরুচ্ছিল। মানুষের শরীর ও কাপড়ে এতো ঘ্রাণ হতে পারে আমার তখন ধারণা ছিল না।

এ কথা বলছিলাম আমাদের মতিন চাচাকে নিয়ে। আমাদের বাড়ি থেকে এক বাড়ি পরে মতিন চাচার বাড়ি। আমার বাবা যখন জাহাজ থেকে আসতেন-মতিন চাচা একবার দেশে ছিলেন। বাবা এবং মতিন চাচাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমাদের ঘরে বসে আড্ডা মারতে দেখেছি। মা তাদের জন্য সন্দেশ বানিয়ে দিতেন। বাবা এবং মতিন চাচা একসময় স্কুলে সহপাঠী ছিলেন। সেই ছিল তাদের সম্বন্ধ।
আমাদের গ্রামে সে-সময় দু’জন লোক আমেরিকায় ছিলেন। একজনের বাড়ি আমার নানাবাড়ি। তিনি সম্পর্কে আমার মায়ের দাদা ছিলেন। তিনি মারা গেছেন আমেরিকাতেই। তার স্ত্রীর কাছ থেকে আমার আমেরিকা দেশের নাম শোনা। অপরজন ছিলেন মতিন চাচা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম থেকে, কি-না জানি না। প্রথম নাকি ‘আমেরিকান’ থেকে ‘ম্যারিকান’ থেকে বিবর্তিত হয়ে মিরিকিনি নাম হয়েছিল, তার সঠিক ব্যাখ্যা আমি দিতে পারব না। কিন্তু আমেরিকানদের বলা হতো ‘মিরিকিনি’।

ফর্সা ধবধবে শরীর, লুঙ্গির সাথে চকচকে জুতা পরে মতিন চাচা গ্রামের রাস্তা দিয়ে যখন হাঁটতেন তখন পথগুলোও খুশবুতে ভরে যেতো। মতিন চাচা দেশে এসে কিছুদিন থাকতেন, আবার চলে যেতেন আমেরিকায়। মতিন চাচার সে-সময় পর্যন্ত তিন ছেলে দুই মেয়ে ছিল। বড়ো দুই ছেলে পড়তো আমাদের থেকে ৩-৪ ক্লাস উপরে। ছোট ছেলে ঝুনু আমার দুই ক্লাস নিচে। তার দুটো মেয়ে ছিল। ক্লাস ফোরে ওরা আমাদের ক্লাসে পড়তো, ছোটটি- সালমা, বড়োটি- নাজমা।

সালমা নাজমা দু’জন স্কুলে আমেরিকান ফ্রক পরে আসতো। আমরা হাত দিয়ে দেখতাম। কেমন যেনো পরীর মতো পোশাক। আমাদের দুই বাড়ির মাঝখানে একটা মাত্র মাঠ। মাঝে মাঝে আমরা ছেলেরা-মেয়েরা মিলে গোল্লাদৌড় খেলতাম। সালমা দৌড়ে খুব ভালো ছিল। ওকে ছোঁয়া যেতো না। আমরা যখন ক্লাস ফাইভে উঠলাম, মতিন চাচা সিলেট শহরে বাড়ি বানিয়ে চলে গেলেন। সে এক ইতিহাস। গ্রামের কেউ সিলেট গেলে মতিন চাচার বাড়ি ছিল সবার হোটেল। বিয়ানীবাজার থেকে সিলেটের দূরত্ব ২৭ মাইল। কিন্তু দিনে গিয়ে দিনে ফেরা যেতো না। থাকতে হতো হোটেলে। কেউ পাসপোর্ট বানাতে যাবে, কেউ ফটো তুলতে যাবে, কেউ বড়ো ডাক্তার দেখাবে, যাবে সিলেট। দিনের বেলা হয়তো দু’ঘণ্টা কোথাও বিশ্রাম নেবার দরকার, থাকবে মতিন চাচার বাসায়। মতিন চাচার টিনের ঘর সিলেটের দরগা মহল্লায়। বৃত্তি পরীক্ষা দেবার সময় আমিও একবেলা ঐ বাসায় দুপুরে খেয়ে এসেছি। মতিন চাচা আমেরিকায় থাকেন। তার ছেলে-মেয়েগুলো শহরের স্কুলে পড়ে। তারা আমাদের মতো কাঁচা সিলেটি বলে না। তারা কথা বলে, আমরা মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি। কেমন আচানক লাগে।

এর মধ্যে অনেক বছর পার হয়ে যায়। ১৯৭৮ সালে আমি চলে যাই ক্যাডেট কলেজে। গ্রামের লোকজনের সাথে সেভাবে যোগাযোগ থাকে না। মতিন চাচার বড়ো ছেলে ‘তারা ভাই’ ভিজিটে চলে আসেন আমেরিকায়। বিয়ে করে সেটেল করেন। মেজো ছেলে চুন্নু ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন, সেখান থেকে এক লন্ডনি মেয়েকে বিয়ে করে চলে যান লন্ডন। এর মধ্যে মতিন চাচার পুরো ফ্যামিলি আমেরিকায় চলে এসেছে। তাদের কারো সাথে আমার আর দেখা হয় না।

হলিউড লেখা পাহাড়ের সামনে লেখক

নানি
ফেরদৌসীর সাথে আমার খুব ভাব ছিল। সম্পর্কে ও আমার নানি। আমার নানা বাড়িতেই ওর বাড়ি। আমার মার ফুফু হয় ফেরদৌসী। কিন্তু ভাবের মূল কারণ একটাই। তা হলো আমার আর ফেরদৌসীর জন্ম হয়েছিল একই দিনে। ঠিক দিনে নয়, রাতে। আমার জন্ম রাত ১০টায় ওর ১২টায়। বয়সে আমি ওর দু’ঘণ্টার বড়ো। এই একটি বিষয় ছাড়া ফেরদৌসীর সাথে আমার আর কোনো যোগসূত্র ছিল না। একটু বড়ো হবার পর থেকে ও চলে যায় ওর নানার বাড়ি। আমি নানার বাড়ি গেলে ওকে দেখতাম না। আমাদের প্রাইমারি স্কুল ছেড়ে যখন ও নানার বাড়ির স্কুলে গিয়ে ভর্তি হলো তখন সে আরো এক ক্লাস ডিঙিয়ে ভর্তি হয়ে গেলো। আমি পড়ি ফোরে, ও ফাইভে। ফেরদৌসী আমার সিনিয়র হয়ে যায়। আমি ওকে নানি ডাকি, ও আমাকে নানা ডাকে। মাঝে মাঝে ছুটি-ছাঁটায় দেখা হলে আমরা একজন অপরজনকে লুকিয়ে যেতাম। আমার মা মাঝে মাঝে ফেরদৌসীদের ঘরে যেতেন। আমি যেতে সাহস পেতাম না। আমার খুব লজ্জা হতো। এ লজ্জার কি কারণ ছিল, এতো বছর পর আমি আজও বের করতে পারি নি। ফেরদৌসীরা দুই বোন দুই ভাই। বড়ো ভাই নুরুজ্জামান, ছোট ভাই ফখরুজ্জামান। ফেরদৌসী সবার বড়ো, ওর ছোটটার নাম মমতাজ।

গ্রামের আর সব ছেলে-মেয়েদের তুলনায় এই চার ভাই-বোন ছিল সবার থেকে আলাদা। তারা নিয়ম মেনে পড়তে বসতো, খেলতো এবং নিজের ঘর ও বাড়ি ছাড়া তাদেরকে বাইরে বেরুতে দেয়া হতো না। নানার বাড়িতে গেলে কখনো-সখনো আমি আমার অন্য খালাদের নিয়ে ফেরদৌসী, মমতা, নুরুজ্জামানের সাথে খেলেছি। ফেরদৌসীদের এই অতি নিয়মতান্ত্রিক চলন-বলনের পেছনে ছিলেন তাদের মা। ফেরদৌসীর মাকে আমি কখনো হাসতে দেখি নি। তিনি সব সময় শাদা শাড়ি পরে ঘরের ভেতর থাকতেন। গ্রামের যেকোনো লোকের সাথে কথা বলতেন ঘরের ভেতর থেকে।

বাড়িতে ওদের ঘরের মতো একই ডিজাইনে পূর্বে-পশ্চিমে দুটো জমজ ঘর। অপর ঘরটি তছির আলী মেম্বারের। মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত অত্যন্ত দাপটের সাথে তার অবস্থান ছিল গ্রামে। তিনিও একজন আমেরিকান। তার সন্তানসন্ততিরা সবাই আমেরিকায় থাকে। তখন আমেরিকায় থাকার কথা ছিল ফেরদৌসীদেরও। ফেরদৌসীর বাবা প্রথমে আমেরিকায় গিয়ে ওঠেন জাহাজ থেকে। পরে ভাই তছির আলীকে নিয়ে যান। কিন্তু একসময় তিনি আমেরিকাতেই মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর শোকে শোকাতুর বিধবা তাই নিজেকে সব সময় লোকচক্ষুর আড়াল করে রাখতেন।

১৯৮৫ সালে যখন আমার বাবা মারা গেলেন, একদিন হুট করে, যা কখনো ঘটে নি, ফেরদৌসীর মা আমাদের বাড়িতে এসে পড়লেন। আমি বড়ো ছেলে, ছোট ছোট পাঁচ ভাইবোন। আমার মাথায় হাত দিয়ে বললেন, আমার ছেলে-মেয়েরাও এতিম, আজ থেকে তুমিও এতিম হলে। আল্লাকে স্মরণ করিও, নিজের জন্য চিন্তা করিও না। ফেরদৌসীদের নিয়ে আর বেশি কিছু আমার মনে নেই। ওদের সবচেয়ে ছোট ভাই ফখরুজ্জামান তখন ক্লাস সিক্স বা সেভেনে পড়তো। ক্লাসে ভালো ছাত্র ছিল সে। পরীক্ষায় ফার্স্ট হতো। আমি বুয়েট থেকে একদিন বাড়ি গিয়ে শুনি ফেরদৌসীরা সবাই আমেরিকায় চলে গেছে।

শিকাগোতে যাবো মূলত সিয়ার্স টাওয়ার আর ফ্ল্যাংক লয়েড রাইটের বাড়ি দেখতে। ডেট্রোয়েট থেকে শিকাগোর দূরত্ব ২৮৮ মাইল। দিনে দিনে ফিরে আসা যায়। ঠিক হলো সকাল ৮টায় আমাদের ভাড়া করা ভ্যান ছুটবে শিকাগোর পথে। বেলা ১টার মধ্যে আমরা পৌঁছে যাব। ৫-৬ ঘণ্টা শিকাগো ঘুরে সন্ধ্যা ৭টায় রওনা দিয়ে রাত ১১টার দিকে ডেট্রোয়েট ফিরব। আমার জন্য গাড়ি ভাড়া করে রেখেছে আমার ছোট বোন নুরু। গাড়িতে ১০ জন অনায়াসে বসে-শুয়ে যেতে পারে। আমি বলি এতো বড় গাড়ি কেন? যাব আমরা তিনজন।

নুরুও বলে, আমিও যাব। মমতার সাথে কথা হয়েছে। সে তোমাকে দেখতে চায়।
মমতা? আমি অবাক হই। কোন মমতা- নানা বাড়ির?
নুরু হাসে।
এর মধ্যে খাবার-দাবার বাক্স-পেটরা গুছিয়ে আমরা রওয়ানা হই শিকাগোর পথে। শিকাগো দেখা হয়ে গেল। সিয়ার্স টাওয়ার দিনে দেখলাম। আইআইটি গেলাম। সেখান থেকে আধাঘণ্টার দূরত্বে ওক পার্ক। ফ্র্যাংক লয়েডের বাড়ি, স্টুডিও আর সেই সব রবি হাউসগুলো। সেখান থেকে ফিরে আমি বায়না ধরলাম ১০৭ তলার উপর থেকে রাতের শিকাগো দেখতে চাই। নুরুর আপত্তি। সন্ধ্যা তখন সাড়ে ৭টা। আমি বলি থাক, মমতাকে বুঝিয়ে বলো আরেকবার আমেরিকা এলে ওকে দেখে যাবো।

এতে নুরু মুখ গোমড়া করে ফেলে। রাত সাড়ে ৮টায় আমরা রওয়ানা দিলাম মমতার বাড়ির দিকে। সুন্দর ছিমছাম এ্যাপার্টমেন্ট। আমি মমতাকে দেখি, মমতা আমাকে। আমরা কেউ কাউকে মনে করতে পারি না। তবুও অতি পরিচিতের মতো কথা বলি। মমতার ডাইনিং টেবিলে খাবার সাজানো। অনেক কিছু রান্না করা হয়েছে। সাতকরা দিয়ে গরুর মাংসও। মমতার স্বামী একটা স্কুলে পড়ান। বাচ্চারা কম্পিউটার নিয়ে খেলায় ব্যস্ত। মা বার বার ডেকে আনেন বাংলাদেশ থেকে আসা এক মামাকে দেখার জন্য। বাচ্চারা এসে একঝলক তাকিয়ে আবার চলে যায় কম্পিউটার নিয়ে খেলতে।

মমতার কাছে শুনি ফেরদৌসীও থাকে শিকাগোতে। তবে আরেকটা শহরে। বেশি দূরে নয়, কাছেই, ৪০-৫০ মাইল পথ। মমতার ঘর থেকে বেরিয়েছি, রাত তখন ১১টা বাজে। এখন রওয়ানা দিলে ভোর হবে ডেট্রোয়েট পৌঁছোতে। কাল সকালে অনেকের কাজ। আমি আমাদের ড্রাইভারকে বলি- ফেরদৌসীর বাসার দিকে চলো। ওকে দেখব।

বেভারলি হিলসে পপশিল্পী ম্যাডোনার বাড়ি


ফেরদৌসীর ঘর। ফেরদৌসীর স্বামী তাবলীগ করেন। তিনি এখনও মসজিদে। দুটো বাচ্চাকে নিয়ে ফেরদৌসীর সংসার। ওর একটা মেয়ে, কিশোরী। অনেকটা ছোটবেলার ওর মতো। আমি অনেক চেষ্টা করি ওর মার ছাঁচে তাকে ফেলতে, কিন্তু পারি না। ফেরদৌসীর ছোটবেলার মুখ আমি স্মরণ করতে পারছি না। আমার পাঁচ মিনিট থাকার সময় অতিক্রম হয়ে যায়। নিচে গাড়িতে বসে থাকা অপর সহযাত্রীদেরও উঠে আসতে হয় উপরে। ফেরদৌসী পীড়াপীড়ি করে। রাতটা সবাই মিলে ওদের ঘরে থেকে যেতে। ৪-৫ ঘণ্টা পরেই ভোর হবে। একটা রাত না হয় সবাই মিলে গল্প করে কাটিয়ে দেই। আমার একবার ইচ্ছা হয়, থেকে গেলেই কি? আমেরিকায় এসে আমার জন্য ডেট্রোয়েট যা শিকাগোও তা। কিন্তু হয়ে ওঠে না। আমার সহযাত্রীদের দু’জন কাল দুপুর থেকে কাজে যাবে। আমাদের ছুটতে হয় মিশিগানের পথে।
ফেরদৌসীর কাছে জানলাম ওর মা দু’ছেলে নিয়ে থাকেন লস এঞ্জেলেস। আমার ক্যালিফোর্নিয়া যাবার সম্ভাবনা আছে। আমি ওখানে গেলে ওদের মাকে দেখে আসব। ফেরদৌসীর মাকে আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করে।

বেঙ্গল টাইগার
ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির টেমেকুলা সাব-আরভ এলাকায় আমি আছি লাভলিদের বাড়িতে। লসএঞ্জেলেস আর সান দিয়াগোর মাঝামাঝি এই এলাকাটি থাকার জন্য খুব আরামের। সারি সারি দোতলা বাড়ি। একই ডিজাইনের, একই প্যাটার্নের। এদের একটি নিয়ে থাকেন লুৎফর আর লাভলি। কাল সারাদিন থেকে এ দু’জনই আমার সাথী। এর মধ্যে সালমার ফোন। আমি অবাক। নাম্বার পেলো কোথায়? বলে, নুরু আমাকে ফোন করে বলেছে, তুমি এখানে আছো। কাল লোক পাঠাব। তুমি তৈরি থেকো। টিটো নামের এক তরুণ এসেছে আমাকে নিতে। টেমেকুলা থেকে হলিউড ১০০ মাইল পথ। ঘণ্টা সোয়াঘণ্টা সময় লাগে ওখানে যেতে। আমাকে নিতে সালমা পাঠিয়েছে টিটোকে। টিটো সালমাদের পরিচিত। নিজের রেস্টুরেন্ট আছে লসএঞ্জেলেসে। মাঝপথে এসে টিটোর মোবাইলে ফখরুজ্জামানের ফোন।

‘না, না, কোনো কথা নেই, তুমি আমাদের এখানে আগে আসো, আমি পরে তোমাকে সব জায়গায় নিয়ে যাব।’ গাড়ি সালমার বাসা পাশে ফেলে চলে গেলাম নুরুজ্জামানের বাড়িতে। রাত তখন ১টা বাজে। নুরুজ্জামান রেগে আছে। হলিউড শহরেই তার বাড়ি। বিঘাখানেক জায়গার উপর ঢালু ছাদের একতলা ঘর। পেছন দিকে লনের মতো সেখানে লেবু জাতীয় ফলের গাছ। আমেরিকান সিম আর ডালিমও। রাতের অন্ধকার আলোকিত হতে সময় লাগে না। নুরুজ্জামানের বৌ ডাইনিং টেবিলে খাবার বেড়েছে। নুরুজ্জামান নিয়ে এসেছে লনে। রাত বাজে দেড়টার মতো। এমনিতে টেমেকুলা থেকে খেয়ে বেরিয়েছি ১০টায়। খেতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু ডাইনিং টেবিলের আয়োজনের কাছে আমার ইচ্ছা হার মানল।

নুরুজ্জামানকে বলি ঠিক আছে, চলো খাই, কাল সকালেই ইউনিভার্সাল স্টুডিওতে যাব। সকাল সকাল উঠতে হবে।
নুরুজ্জামান বলে, একটু অপেক্ষা করো না, ফোন করে দিয়েছি, আম্মা আসছেন। একসাথে খাব। আমরা কেউই এখনও খাই নি। তোমার জন্য অপেক্ষা।
নুরুজ্জামান আমেরিকা এসে পড়াশোনা করছে একাউন্টিং নিয়ে। মাস্টার্স শেষ করে এখন হলিউডের এক টেকনিক্যাল সাপোর্টিং হাউজে কাজ করে। ওদের কোম্পানি ফিল্ম ইউনিটগুলোকে লাইট সাপ্লাই দেয়। সেই কোম্পানির একজন হিসাবরক্ষক নুরুজ্জামান।

ফখরুজ্জামান সস্ত্রীক থাকে ১০ মিনিট দূরে আরেকটি বাড়িতে। সেই বাড়িতে থাকেন মা। মা’র অবশ্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই, কখন কার কাছে থাকবেন। যখন যে ছেলের কাছে থাকতে ইচ্ছা হয়, তিনি থাকেন। দুই বাড়িতেই তার জন্য আলাদা ঘর রাখা হয়েছে।

বাইরের লনে রাতের বেলা হাঁটাহাঁটি করতে বেশ ভালো লাগছিল। দু’দিন আগে ছিলাম মিশিগান। ওখানে কমপক্ষে তিন স্তরের কাপড় ছাড়া বাইরে বেরুনো যেতো না। হাতের আঙুল আর মুখের নাক-গালে যে পরিমাণ শীতল বাতাস বইতো তাতে মনে হতো ডিপ ফ্রিজের তলা থেকে বাতাস বেরিয়ে আসছে। ফারেনহাইটের টেম্পারেচার হিসাব করে সেন্টিগ্রেটে নিয়ে দেখতাম তাপমাত্রা শূন্যের নিচে। কখনো মাইনাস টু, মাইনাস ফাইভ। কিন্তু চার ঘণ্টার বিমান ভ্রমণ শেষে লসএঞ্জেলেসে এসে বেশ ফুরফুরে মনে হচ্ছিল। এখানে নির্দ্বিধায় ওভারকোট ফেলে রেখে হাঁটাচলা যায়। এর মধ্যে একখানা চাঁদও উঠে গেছে আকাশে। আমেরিকার আকাশে চাঁদ এর আগে দেখা হয় নি। ঠাণ্ডায় জমে থাকার পর আকাশের চাঁদ দেখতে আর ইচ্ছা করতো না। এখন দেখি, সেই চাঁদ। বাংলাদেশ থেকে যে রকম দেখেছিলাম, সে রকমই। চাঁদের কোনো পরিবর্তন নেই। কিন্তু আমরা এখানে এসে সবাই ধীরে ধীরে খানিকটা করে পরিবর্তিত হতে থাকি।

গাড়ির শব্দ শুনে নুরুজ্জামান বলে, মা এসেছেন। সেই মাকে দেখি। প্রায় ১৪ বছর পর। শরীরে বার্ধক্যের ছাপ এসেছে খানিকটা। কথা বলার সময় বুঝতে পারি, সব দাঁত আর সজাগ নেই এখন। তিনি আমার কাছে আসেন এবং মাথায় হাত রাখেন। তিনি কি যেন খোঁজার চেষ্টা করেন। আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারি না। বলেন, কেমন যেন স্বপ্ন স্বপ্ন মনে হচ্ছে। তোমাকে এখানে দেখব, এমনটি চিন্তাও করি নি কখনো। নুরুজ্জামানের মাকে নিয়ে এসেছে ছোটভাই ফখরুজ্জামান। ওকে দেখেছি খুব ছোট। আমার দিকে ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে আছে। শুধু হাসে। বলি, আমাকে চিনেছো?
বলে, না।

তবে নাম মনে আছে। চেহারা মনে নেই। আমার যে চেহারা মনে ছিল ফখরুজ্জামানের, সেই চেহারার সাথে এই যুবকটির চেহারার কোনো মিল দেখি না। ফখরুজ্জামান এখানে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মাস্টার্স করেছে। একটা ডাকসাইটে ইলেকট্রনিক কোম্পানিতে ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করে। চারশ’ আমেরিকান তার অধীনে কাজ করে। তার কথাবার্তা আর উচ্চারণ সবই এদেশি ধাঁচের। বাংলাদেশে একবার গিয়েছিল বছর চারেক আগে। ওখানে এখন তাদের এমন কেউ নেই। ২৫ বছর বয়সে বিধবা হওয়া মা অনেক যত্নে অনেক কষ্টে তাদের লালন করেছেন দেশে। এখানে আমেরিকাতেও এসে ছেলেদেরকে প্রথমেই হোটেল রেস্তরাঁ বা ফ্যাক্টরিতে কাজে না ঢুকিয়ে, ঢুকিয়েছেন স্কুল-কলেজে। আর আজ তার ফসল ফলেছে। এতো ফসল বুকে নিয়ে আজ তিনি গর্বিত জননী।

ফখরুজ্জামানের কাছে বাংলাদেশের বড়ো কোনো স্মৃতি মনে নেই। সে যতোটা বাংলাদেশি, তার চেয়েও অনেক বেশি আমেরিকান। কিন্তু খটকা লাগল ওর ই-মেইল এড্রেস টুকে নিতে। ফখরুজ্জামান তার ব্যবসায়িক কার্ড আমার কাছে দিয়ে বলে, আমাকে মেইল করবেন-এই ঠিকানায়। বলে লিখল ‘দি বেঙ্গল টাইগার এট ইয়াহুডট কম’।
আমি বলি, তোমার লগিন নেম এটা কেন?
ফখরুজ্জামান বলে, উই আর হেয়ার ইন এ্যামেরিকা, সারভাইভিং এ্যাজ আ টাইগার। বলে তাকায় আমার দিকে।

ডগস ক্লাব


হলিউডের সালমা
রাতে দেরিতে ঘুমের কারণে কি-না, আজ ঘুম ভাঙতে অনেক দেরি হয়ে যায়। আমেরিকায় কখনোই সকাল ৬টার পর ঘুমাতে পারতাম না। শরীরের ভেতর যে ঘড়িটুকু লাগানো তার চক্র ভেঙে গেছে এই ১০ দিনে। তারপরও সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠে মনে হয় এইটা আমাদের বিকেল। সুতরাং ঘুম আমার থাকে না।

হাতঘড়িতে এখন ১০টা বাজে। নুরুজ্জামান আজ কাজে যাবে না। আমি এসেছি জেনে সকালবেলা অফিসে ফোন করে বিনা বেতনের ছুটি নিয়ে রেখেছে। কিন্তু তার ছুটি ঠিক কাজে লাগল না। ড্রয়িংরুমে মেহমানদের জোরেশোরে কথা শোনা গেল। সামনে তাকাতেই স্কার্ফ দিয়ে মাথা মোড়ানো এক মাঝবয়েসী তরুণী আমার একান্ত ডাকনামটি ধরে ডেকে বলে, বল আমি কে?
আমি তাকে কখনো দেখেছি বলে মনে হলো না। কিন্তু হিসেব কষে তার পরিচয় বের করতে আমার সময় লাগল না। সালমা এসেছে তার স্বামী আর দু’বাচ্চাকে নিয়ে। বাচ্চা দুটোর জন্ম আমেরিকাতেই। তারা এক দু’বার গিয়েছে দেশে। বড়ো ছেলে এইটথ গ্রেডে পড়ে। একবার হলিউডের এক সিনেমায় এশিয়ান একটি ছেলের একটি মাত্র শটের দৃশ্যে অভিনয় করে দু’শ ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছে। বড় হয়ে সে ফিল্মের কাজ করবে এমন একটা ছোট্ট ইচ্ছা তার আছে। আমি জিজ্ঞেস করি ‘তোমার দেশ কোনটা?’

ছেলেটি মার দিকে তাকায়। সালমা ইংরেজিতে ছেলেকে প্রশ্নটা বুঝিয়ে দেয়। ছেলের জবাব-আমেরিকা।
বাবা পাশে বসে ছিলেন। তিনি ছেলেকে শেখান, ‘বলো, আমার জন্ম আমেরিকায়, আমার বাবা-মার জন্ম বাংলাদেশে, আমরা বাংলাদেশী আমেরিকান’।
ছেলেটি বাবার কথায় খুব খুশি হলো বলে মনে হলো না। সে মাথা নাড়তে নাড়তেই বলে, ‘নো, আই এ্যাম ম্যারিকান’।

সালমারা বিস্তার ঘটাচ্ছে এখন আমেরিকায়। ওদের সবচেয়ে বড়ো ভাই তারা থাকেন নিউ জার্সিতে। ওর বড়ো নাজমা থাকে মিশিগানে। মিশিগানে ওদের বাড়িতে একবেলা যেতে হয়েছিল আমাকে। তখন মাত্র কাজ থেকে ফিরে এসেছে নাজমা। ওর স্বামী কাজ করেন রেস্টুরেন্টে, সে করে ফ্যাক্টরিতে। ওর এক ছেলে এক মেয়ে। দু’জনই কৈশোর উত্তীর্ণ হয় হয় এমন। নাজমার মেয়ে সামনের বছর কলেজে উঠবে। তার ইচ্ছা সে ডাক্তার হবে। এখানে এই নর্থ হলিউড শহরে সালমার স্বামী কাজ করেন ম্যারিয়ট হোটেলে। বেভারলি হিলসে তার হোটেল। ম্যানেজার পদে তার চাকরি।

নুরুজ্জামানের বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে এসেছি সালমার গাড়িতে। নুরুজ্জামানের কাছ থেকে অনেকটা ছিনিয়ে নিয়ে এলো সালমা। ওদের কথা আজ ওর স্বামীর ডে-অফ। আজ সারাদিন আমাকে নিয়ে তারা হলিউড ঘুরে দেখাবে।
আমাদের গাড়ি ছুটে চলে হলিউড লেখা পাহাড়ের দিকে। উঁচু পাহাড়ের গায়ে বড়ো বড়ো হরফে লেখা রয়েছে হলিউড। যাবার পথে একটা সাইনবোর্ড চোখে পড়ল। তীর চিহ্ন দিয়ে লেখা ‘বেভারলি হিলস’। আমি বলি ‘ওদিকে যাব’। শুনেছি আমেরিকার ধনকুবের আর বড়ো বড়ো ফিল্মস্টাররা বাড়ি করে থাকেন এই অঞ্চলে। আমেরিকার সবচেয়ে দামি আবাসিক এলাকা।

বেভারলি হিলসে ঢুকেই ওর রাস্তাঘাট আর রাস্তার পাশের গাছগুলোই আমার নজর কাড়ল বেশি। এমনিই আমেরিকার কোনো সড়কে কেউ হাত মুছে টিস্যু পেপারটি পর্যন্ত ফেলে না। কিন্তু বেভারলি হিলের রাস্তাগুলোকে মনে হলো কার্পেট দিয়ে মোড়ানো। রাস্তার পাশের যে সারি-সারি বৃক্ষরাজি তাদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- প্রতি ইন্টারসেকশন পর্যন্ত একই পদের গাছ। কিছুদূর পরপর গাছের ডিজাইন বদলে যাচ্ছে। কোনোটি সরু কোনোটির পাতা চ্যাপ্টা, কোনোটির পাতা চিকন, এসব। এসব গাছের নাম আমি জানি না। আমাদের গাঁও-গেরামে বা শহরতলিতে এতো বিচিত্র গাছপালা আমি দেখি নি। তাছাড়া বনজঙ্গলের সাথেও আমার খুব যোগাযোগ নেই। আমাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এই তারকা, ঐ তারকার বাড়ি দেখানো হয়। এটা ম্যাডোনার ছিল, বিক্রি করে দিয়েছে, ওটা জুলিয়া রবার্টসের বয় ফ্রেন্ডের বাসা, মাইকেল জ্যাকসন বছরে দুইদিন এ বাড়িতে এসে থাকে- এসব। ঘরবাড়ির ভেতরে যাবার সুযোগ নেই। আহামরি ইচ্ছাও হচ্ছে না। কিন্তু বাইরে থেকে এই মাল্টিবিলিয়ন ডলারের বাড়িগুলোকে আহামরি কিছু মনে হলো না।

আমার গাইড হচ্ছে এখানে সালমা আর তার স্বামী। তার স্বামী যতো জানে, সালমা এসবের নাড়ি-নক্ষত্রের খোঁজ জানে আরো বেশি। মনে হলো আমাদের পাড়ার এঘর-ওঘরের খবরের মতো। সালমা বুঝে ফেলেছে আমি এসবে খুব উৎসাহ পাচ্ছি না। তার স্বামীকে বলে, ‘ওজে সিম্পসন যে বাড়িতে ওর বৌকে মেরেছে ওটা দেখাও’।
এবার আমি খানিকটা উৎসাহী হয়ে পড়ি। আমার মনে আছে সিএনএন-এ খবরে একসময় ওজে সিম্পসনের ঘটনাটার লাইভ দেখাচ্ছিল। ওজে পালাচ্ছে, আর হেলিকপ্টার দিয়ে ক্যামেরা তাকে খোঁজ করছে। এক জায়গায় এসে গাড়ি থামল। ওর স্বামী বললেন, এখানে একটু নামেন।
আমি নামলাম। সালমার স্বামী বললেন, এখানে আর কিছুক্ষণ দাঁড়ালেই পুলিশ এসে পড়বে। ঐ দেখেন সব লাইটপোস্টের সাথে ক্যামেরা লাগানো। আমি গাড়িতে উঠতে যাব, এমন সময় তিনি পুনরায় বললেন, আপনি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, ঠিক ওখান থেকেই ওজে সিম্পসনকে পুলিশ খোঁজা শুরু করে। এই তার গেট।

এর মধ্যে একটা ট্যুরিস্ট গাড়ি আমাদের পিছু এসে দাঁড়িয়েছে। অনেকগুলো শুধু বুড়োবুড়ি নামছে গাড়ি থেকে। আমি বলি, ওরা এখানে নামছে কেন? এটা কি ট্যুরিস্ট স্পট? সালমা বলে, হ্যাঁ। এটাও। আমেরিকার বুদ্ধি তুমি দেখো নাই। তিলের মতো যদি কোনো জিনিস তাদের থাকে, তবে তালের মতো বানিয়ে ঝুলিয়ে রাখবে। তুমি মনে করবে তাল দেখছো, আসলে তিল।

ইউনিভার্সেল স্টুডিওর সামনে লেখক


হলিউড লেখা পাহাড় থেকে নেমে যাচ্ছি, এমন সময় সালমা তার স্বামীকে বলল, গাড়ি থামাও। গাড়ি থামলে সালমা নামে। আমাকে ইশারায় নামিয়ে বলে ঐ দেখো। আমি অনেক নিচের দিকে একটা ফুটবল মাঠের মতো জায়গার দিকে তাকাই। কতগুলো কুকুর ছাড়া আর কিছু চোখে পড়ে না। সালমা বলে, এটা হচ্ছে ডগস ক্লাব। প্রতিদিন এখানে কয়েক শ’ কুকুর আর তাদের মনিবরা আসে। তবে সব কুকুর আসতে পারে না। যাদের মেম্বারশিপ আছে কেবল তারাই। আর ঐ গোলপোস্ট দেখছো, ওটা হচ্ছে আসলেই ফুটবলের পোস্ট। কিন্তু মানুষ খেলতে পারে না। খেলেও না। এখানে খেলা হয় কুকুরে কুকুরে কিংবা মানুষে কুকুরে। কুকুর গোলপোস্টে দাঁড়ায়, বয়েরা বল ছুড়ে মারে। কুকুর গোলকিপারের মতো বল ধরে। এ ক্লাবে আছে কুকুরদের নানারকমের এক্সারসাইজের ব্যবস্থা। তারা ব্যায়াম করে, মিঠাপানিতে খানিক গা ভেজানোর জন্য একটা বাঁধানো ডোবা। আক্ষরিক অর্থেই সেটা সুইমিংপুল। আর ঐ পাশে, ছোট ছোট ঘরগুলো দেখছো, ওগুলো হচ্ছে কুকুরদের ফাস্ট এইড ক্যাম্প আর ডাক্তারখানা। খেলাধুলা করতে এসে যদি কেউ আছাড়-বিছাড় খেয়ে ঠ্যাং-ঠ্যুং ভাঙে, তাদের জন্য এ আয়োজন।

হলিউড হিলের নিচে দাঁড়িয়ে আরো নিচে থাকা এই ডগ ক্লাবের দিকে তাকিয়ে আমার যা মনে হয়েছিল তা না লেখাই ভালো। ছোটবেলা ‘পণ্ডিত মশাই’ নামক একটা অসাধারণ গল্প পড়েছিলাম কোনো বইতে। পণ্ডিত মশাই তার ছাত্রদের একটি তিন ঠ্যাংওয়ালা ল্যাংড়া কুকুর দেখিয়ে বলেছিলেন- ওর পেছনে যদি মাসে ৭৫ টাকা খরচ হয় তবে ওর এক ঠ্যাং এর জন্য গড়পড়তা খরচ হয় ২৫ টাকা। অথচ আমার দুটো ঠ্যাং, আমি দুই ঠ্যাং নিয়েও মাসে বেতন পাই ২০ টাকা। এরকম কিছু। অনেক বছর পর গল্পের কথাগুলো পুরো মনে আর নেই এখন।

সালমাকে বলি, তোমাদের হলিউডের কুকুরের জন্য বেশ ভালো ব্যবস্থা। এ জন্যই তোমরা দেশ ছেড়ে চলে আসতে পেরেছো। আমাদের গাড়ি পাহাড়ের ঢালু বেয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। আমরা অনেকক্ষণ কেউ কারো সাথে কোনো কথা বলি না।





রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ জুলাই ২০১৫/তাপস রায়

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge