ঢাকা, রবিবার, ৮ মাঘ ১৪২৩, ২২ জানুয়ারি ২০১৭
Risingbd
 
সর্বশেষ:

লালচান্দ বাগানের ১৫০০ বৃক্ষ কর্তনে উদ্বেগ

মামুন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১২-১১ ৩:৩৯:০৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৬-১২-১১ ৩:৩৯:০৮ পিএম

মো. মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ : লালচান্দ চা-বাগান। বাগানটি চুনারুঘাট উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায়। রঘুনন্দন পাহাড়ঘেরা এ বাগানটি ধরে রেখেছে এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। এ বাগানের ১৫০০ বৃক্ষ কর্তনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবিদগণ।

 

বাগানের ভেতরে রয়েছে বেশ কয়েকটি লেক। এসব লেকে পাখির কলরব লেগেই থাকে। বাগানের চারদিকে সবুজ আর সবুজ। এ সবুজ প্রকৃতিতে কর্মকর্তাদের উপদেশ মেনে শ্রমিকরা বাগানের উন্নয়নে কাজ করছেন। প্রতিবছর কর্তৃপক্ষ চা-পাতা উৎপাদন করে আর্থিকভাবে যেমনটা লাভবান হচ্ছেন, চা-পাতা রপ্তানী করেও দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন।

 

প্রতি বছরই চা-গাছের মাঝে মাঝে রোপণ করা হচ্ছে ছায়াদানকারী বৃক্ষ। টিলা আর পতিত জমি দেখে লাগানো হয়ে আসছে নানা প্রজাতির বৃক্ষ। এসব বৃক্ষে বাসা বাঁধছে পাখিরা। স্বাধীন মনে পাাখিরা বসবাস করছে। সকাল-বিকেল আর সন্ধ্যায় যেন পাখিদের কলরবটা বেড়ে যায়। এ এক নান্দনিক দৃশ্য।

 

এরই মধ্যে কর্তৃপক্ষ বাগান এলাকার পরিবেশ বান্ধব বৃক্ষ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। নিলামে প্রায় ১৫০০টি বৃক্ষ বিক্রয় করা হয়। ক্রয়কারীরা দ্রুত গাছগুলো কেটে গন্তব্যে নিয়ে যেতে হাতি ব্যবহার করছেন। কিছু দিন ধরে বাগানজুড়ে গাছগুলোর গোড়ায় করাত দিয়ে কাটার পর হাতি দিয়ে সরানো হচ্ছে। এতে করে পাখিগুলো তার আশ্রয়স্থল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছে। এমনভাবে গাছ কাটায় পরিবেশ যেন ভারসাম্য হারাচ্ছে। হ্রাস পাচ্ছে সবুজ প্রকৃতি।

 

স্থানটি পরিদর্শন কালে দেখা যায়, মহালদারদের নিয়োগপ্রাপ্ত শ্রমিকরা প্রথমে গাছের ডালপালা দা দিয়ে কর্তন করছেন।

 

পরে এ গাছের গোড়ায় করাত ব্যবহার করে গাছ কেটে মাটিতে ফেলছেন। তাৎক্ষণিক হাতি এসে গাছগুলো টেনে নিয়ে সুবিধাজনকস্থানে একত্র করে রাখছে। সেখানে শ্রমিকরা বিভিন্ন সাইজ করে গাছের টুকরোগুলো গাড়িতে উঠিয়ে দিচ্ছেন।

 

 

এ ব্যাপারে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, একসাথে এত গাছ কাটায় পরিবেশের উপর প্রভাব পড়তে পারে। যদিও গাছগুলো অনেক পুরনো। তবে একসাথে না কেটে বছরে বছরে কিছু কিছু করে কাটা হলে ভাল হতো। তারা জানান, এ বাগানে বড় বড় বৃক্ষ ছিল বলেই নানা প্রজাতির পাখিরা বসবাস করতো। এখন এসব গাছ কাটায় পাখিদের বসবাসের পথ কঠিন হলো।

 

হবিগঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এজেডএম হাছানুর রহমান জানান, কিছু দিন পূর্বে বাগান কর্তৃপক্ষ প্রায় ৩৮ হাজার ঘনফুট (সিএফটি) কাঠের গাছ কাটার অনুমতি নিয়েছে। আর বিষয়টি দেখভাল করেছেন শাহপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা হাফেজ আহমদ।

 

শাহপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা হাফেজ আহমদ জানান, লালচান্দ বাগানে ৩৮-৪০ হাজার ঘনফুট প্রাপ্তবয়স্ক গাছ কাটার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাগান কর্তৃপক্ষ পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন।

 

বাগান ব্যবস্থাপক ইসকান্দর হাসান চৌধুরী বলেন ‘সংশ্লিষ্ট সবার অনুমতি নিয়েই বাগানের নিজস্ব রোপনকৃত ১৫০০ গাছ নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। নিলামে পেয়ে মহালদাররা গাছ কর্তন করছেন। এরস্থলে নতুন গাছ রোপণ করা হবে।’

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘বর্তমান সরকার  রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যাপকভাবে  বৃক্ষ রোপণের প্রতি জোর দিয়েছে। আর এদিকে লালচান্দ চা-বাগানে একসাথে বিপুল পরিমাণ বৃক্ষ কাটা হচ্ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। এসব গাছে পাখিদের বাসা ছিল। এখন এ পাখিরা কোথায় যাবে?’

 

তিনি বলেন, ‘এভাবে একসাথে এত গাছ টাকা পরিবেশের জন্য হুমকী হয়ে দাঁড়াতে পারে। পরিবেশের বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে গাছ কর্তন করা উচিৎ।’
 

 

রাইজিংবিডি/হবিগঞ্জ/১১ ডিসেম্বর ২০১৬/মামুন/টিপু