ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

ভিকারুননিসার শিক্ষক হাসনা হেনা কারাগারে

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১২-০৬ ৪:২৭:৫৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১২-০৭ ২:০৪:৪৪ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনাকে (৫১) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাঈদ শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান তালুকদার এ আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, মামলার ভিকটিম অরিত্রী অধিকারী (১৪) ভিকারুনসিনা নূন স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। আসামি হাসনা হেনা তার শ্রেণি শিক্ষক। অরিত্রী গত ২ ডিসেম্বর পরীক্ষা থাকায় প্রতিদিনের ন্যায় স্কুলে যায়। যাওয়ার সময় বাসায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরীক্ষা চলার সময়ে শিক্ষিকা আফসানা তার কাছে মোবাইল ফোন পেয়ে সেটা নিয়ে নেন এবং পরদিন তার বাবা-মাকে নিয়ে আসতে বলেন। পরীক্ষা শেষে অরিত্রী বাসায় এসে বিস্তারিত জানালে পরদিন অরিত্রীকে নিয়ে বাবা-মা সকাল ১১টায় স্কুলে যান। স্কুলে গিয়ে প্রথমে শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনার কাছে যান। শ্রেণি শিক্ষক তাদেরকে অনেক সময় ধরে বসিয়ে রাখেন। পরে আসামি সহকারী প্রধান শিক্ষক ও শাখা প্রধান জিন্নাত আরার কাছে তাদেরকে নিয়ে যান। সেখানে জিন্নাত আরা তাদের দেখে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং বাদীর মেয়েকে টিসি দেবেন বলে হুমকি দেন। তখন তারা অরিত্রীকে নিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আসামি নাজনীন ফেরদৌসের রুমে গিয়ে দেখা করেন। ওই সময় অরিত্রী তার পা ধরে ক্ষমা প্রার্থণা করেন। বাদী ও তার স্ত্রীও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ক্ষমা চান। কিন্তু আসামি কোন কর্ণপাত করেননি।

একটু পরে বাবা ও মা লক্ষ্য করেন মেয়ে অরিত্রী নেই। বাদী ও তার স্ত্রী বাইরে খোঁজা খুঁজি করে না পেয়ে বাসায় এসে অরিত্রীকে রুমে দেখতে পান। এরপর বাদী বাবা কাজে চলে যান। কিছু সময় পর বাদীর স্ত্রী মোবাইল ফোনে তাকে জানান, অরিত্রীর রুম বন্ধ, খুলছে না এবং সাড়া শব্দও পাওয়া যাচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে বাসার কেয়ারটেকার শুখদেব বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে রুমে প্রবেশ করে অরিত্রীকে ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে দেখতে পেয়ে রুম খুলে দেন। বাদীর স্ত্রীসহ আশপাশের লোকজন ধরাধরি করে নিচে নামিয়ে বেলা ৩টার দিকে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা অরিত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, উপরোক্ত ঘটনায় বাদীর স্পষ্ট ধারণা যে, স্কুলের উল্লেখিত শিক্ষকদের নির্মম আচরণে মর্মাহত হয়ে অরিত্রী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। আসামির নাম ঠিকানা যাচাই হয় নাই। জামিন দিলে পলাতক হয়ে মামলার তদন্তেÍ বিঘœ সৃষ্টি করবে। আর তাই তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন তিনি।

এদিন বেলা ৩টা ২০ মিনিটে এ আসামিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে সিএমএম আদালতে আনা হয়।

রিমান্ড আবেদন না থাকায় তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা পৌনে ৪টার দিকে আদালতে এ আসামির পক্ষে আইনজীবী সন্ত্রাসবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জামিনের আবেদন করে শুনানি করেন। তিনি বলেন, ‘২০ বছরের বেশি সময় ধরে হাসনা হেনা শিক্ষকতা করেন। এজাহার এবং প্রতিবেদনে তিনি অরিত্রীকে কোন প্রকার প্ররোচনা দিয়েছেন, বকাঝকা করেছেন এমন কোন বক্তব্য নেই। শুধু বলা হয়েছে অরিত্রী ও তার মা-বাবা আসার পর তিনি তাদের অনেকক্ষণ বসিয়ে রেখে পরে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও শাখা প্রধান জিন্নাত আরার নিকট নিয়ে যান। এর বাইরে একটি বক্তব্যও নেই। তাহলে কীভাবে তিনি প্ররোচনা দিলেন। যে শ্রেণিশিক্ষক আফসানা মোবাইল সিজ করলেন তাকেও এই মামলায় আসামি করা হয়নি। শুধু হয়রানি করার জন্য তাকে আসামি করা হয়েছে। তাই তিনি জামিন পেতে হকদার।’

ওই সময় রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ বলেন, ‘ভিকারুননিসার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা অভিভাবকসহ সকলকে নাড়া দিয়েছে। তারা শিক্ষকতার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন করেছেন। অরিত্রী যদি অন্যায় করেও থাকে তাদের উচিত ছিল তাকে কাউন্সেলিং করার ব্যবস্থা করা। তাদের জন্য একটি মেয়ে অকালে ঝরে গেল। ভিকারুননিসার পিয়ন থেকে শিক্ষকরা পর্যন্ত কোন অভিভাবকের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেন না। তাই এ আসামির জামিন মঞ্জুর করা সমিচীন হবে না।’

শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শুনানিকালে হাসনা হেনার কয়েকজন সহকর্মী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষিকা বলেন, ‘শিক্ষকদের সম্মান দিতে হবে, তা না হলে জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে।’

এর আগে বুধবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ ডিসেম্বর ২০১৮/মামুন খান/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC