ঢাকা, শনিবার, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

শেখা ও শেখানোর আগ্রহই সাফল্যের রহস্য : অধ্যক্ষ, পিসি কলেজ

: রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৬-০৬-০১ ৮:০১:৩৯ এএম     ||     আপডেট: ২০১৬-০৯-০৫ ৩:১২:১১ এএম

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত কলেজগুলোর মধ্যে সেরা ৬৭টি কলেজকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। খুলনা বিভাগের ১০টি সেরা কলেজের মধ্যে রয়েছে বাগেরহাট সরকারি পি সি কলেজ।

 

২০ মে জাতীয় জাদুঘরে কলেজ র‌্যাংকিং ২০১৫-এর অ্যাওয়ার্ড ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণ করেন পি সি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ এইচ এম এ সালেক। এ বছরই প্রথম বার কলেজ র‌্যাংকিং পদ্ধতি শুরু করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এখন থেকে প্রতিবছর কলেজ র‌্যাংকিং করা হবে। অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে পি সি কলেজের সাফল্য, সংকট, লক্ষ্য ও প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেন রাইজিংবিডির নিজস্ব প্রতিবেদক আরিফ সাওন

 

রাইজিংবিডি : খুলনা বিভাগের মধ্যে অন্যতম সেরা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে আপনার কলেজ। অনুভূতি কেমন?

এ এইচ এম এ সালেক : সেরা কলেজগুলোর তালিকায় পি সি কলেজের নাম থাকায় আমি খুবই আনন্দিত। শুধু আমি নই, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী সবাই খুশি। নানা সমস্যার মধ্যেও পি সি কলেজ যে এ তালিকায় স্থান পেয়েছে এটাই আমাদের জন্য অনেক। সত্যিই আনন্দের বিষয়।

 

রাইজিংবিডি : কলেজ সম্পর্কে কিছু বলতেন যদি।

এ এইচ এম এ সালেক : হ্যাঁ, অবশ্যই বলব। দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য বাগেরহাট সরকারি পি সি কলেজ। ১৯১৮ সালে রাসায়নবিদ আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র এ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। ১৪টি বিষয়ে অনার্স এবং ছয়টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। মাস্টার্সে আরো চারটি বিষয় অধিভুক্তির জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যলয়ে আবেদন করা হয়েছে।

 

রাইজিংবিডি : আপনি বলছিলেন নানা সমস্যার কথা। কী কী সমস্যার মুখোমুখি হন আপনারা? এ

এইচ এম এ সালেক : সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে কলেজের সমস্যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আমার কলেজের অবকাঠামো সংকট প্রকট। শিক্ষার্থীর সংখ্যার অনুপাতে শিক্ষক নেই। যা আরো বড় সমস্যা। প্রতিটি বিভাগে ১২ জন করে শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও পি সি কলেজের প্রতিটি বিভাগে শিক্ষক আছেন মাত্র চারজন করে। ভবনগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। একেবারেই জরাজীর্ণ। আর এই জরাজীর্ণ ভবনেই চলে শিক্ষাকার্যক্রম। এই দুইটি সমস্যা না থাকলে র‌্যাংকিংয়ে পিসি কলেজ অনেক এগিয়ে থাকত বলে আমি বিশ্বাস করি।

 

রাইজিংবিডি : সংকট সত্ত্বেও র‌্যাংকিংয়ে জায়গা করে নিয়েছে আপনার কলেজ। এখন তো দায়িত্ব আরো বাড়ল। এখন কী ধরনের পরিকল্পনা নিচ্ছেন?

এ এইচ এম এ সালেক : সমস্যা থাকা সত্ত্বেও আমরা আগামীতে আরো ভালো করার চেষ্টা করব। আমাদের চেষ্টা থাকবে র‌্যাংকিংয়ে খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করার।

 

 

রাইজিংবিডি : রাজনৈতিক প্রভাব আছে কি?

এ এইচ এম এ সালেক : সব জায়গাই রাজনৈতিক প্রভাব থাকে। তবে আমাদের এখানে রাজনৈতিক সংকট যেটা আছে, তা প্রকট না। কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। শিক্ষার পরিবেশ আছে।

 

রাইজিংবিডি : সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিয়ে কিছু বলতেন যদি।

এ এইচ এম এ সালেক : লেখাপড়ার পাশাপাশি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ কলেজে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল না। আমি এখানে অধ্যক্ষ হিসেবে আসার পর সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছি।

 

রাইজিংবিডি : এই যে সাফল্য পেলেন, এর পেছনের কারণ হিসেবে কোন কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন আপনি?

এ এইচ এম এ সালেক : সাফল্য আসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। আমাদের শিক্ষক কম। তবে সবাই খুবই আন্তরিক। পাঠদানে শিক্ষকদের কোনো অবহেলা নেই। তারা ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অনিয়ম করেন না। শিক্ষক সংকটের কারণে প্রত্যেক শিক্ষককে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। এ জন্য কষ্ট স্বীকার করতে হয় শিক্ষকদের। তবে বিরক্তি ভুলে শিক্ষার্থীদের জন্য পরিশ্রম করেন তারা। শিক্ষক সংকট দূর হওয়া জরুরি। তা হলে আরো ভালো করতে পারব আমরা।

 

রাইজিংবিডি : শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার বিশেষ কোনো পরামর্শ আছে কি না ।

এ এইচ এম এ সালেক : আমি আমার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলল, শ্রেণিকক্ষ কম হলেও তোমরা ক্লাসে এসো, ক্লাসমুখী হও। তা ছাড়া এ বিষয়ে আমি নিজেই নজরদারি করি। অনার্সের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসে। শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায় এক রুমে পর্যায়ক্রমে অনেকগুলো ক্লাস নেওয়া লাগে। এজন্য শিক্ষার্থীরা অপেক্ষা করে। একটি ক্লাস শেষ হলে আরেকটি শুরু হয়। এই যে শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ ও শিক্ষকদের শেখানোর আগ্রহী প্রচেষ্টা- এ দুইয়ে মিলে এসেছে আমাদের সাফল্য।  

 

রাইজিংবিডি : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এ এইচ এম এ সালেক : রাইজিংবিডিকেও আপনার আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ জুন ২০১৬/রাসেল পারভেজ

Walton Laptop