ঢাকা, বুধবার, ১২ মাঘ ১৪২৩, ২৫ জানুয়ারি ২০১৭
Risingbd
 
সর্বশেষ:

সংঘাত-উত্তেজনা এড়াতে চায় বিএনপি

এস কে রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-০৪ ৭:২৩:৫০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-০৫ ১০:৩৯:২৭ পিএম

এস কে রেজা পারভেজ : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় বর্ষপূর্তির দিনে বিএনপির ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ এর কর্মসূচিকে ঘিরে ক্ষমতাসীনদের হুমকি যেমন আমলে নিচ্ছে না বিএনপি, তেমনি উত্তেজনা-সংঘাতও এড়াতে চাইছে দলটি।

 

একটি ‘মধ্যপন্থি গণতান্ত্রিক দল’ হিসেবে বিএনপির কর্মসূচি করার অধিকার রয়েছে জানিয়ে দলটির নেতারা বলছেন, শান্তিপূর্ণভাবেই  তাদের কর্মসূচি শেষ হবে। কর্মসূচিতে বাধা না দিতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানান তারা। কর্মসূচি পালন করতে না দিলে জনগণ এসব কর্মকাণ্ডের একদিন বিচার করবে বলেও মনে করেন বিএনপি নেতারা।

 

দলটির নীতি-নির্ধারক স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বিএনপিকে কর্মসূচি পালন করতে বাধা দেওয়ার বিষয়টি সরকারের কাছে যেমন নতুন নয়, তেমনি জনগণের কাছেও নয়। গত ৫ জানুয়ারির পর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কারণ বিনা ভোটে তাদের যেসব সাংসদ হয়েছেন ৫ জানুয়ারি কর্মসূচি পালন করলে সেটি মনে করিয়ে দেওয়া হয়। এজন্য তাদের গায়ে লাগে।’

 

তিনি বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) অধিকার হরণ করতে চায়। তবে সরকার কর্মসূচি পালন করতে না দিলে বিএনপির উদ্দেশ্য ব্যহত হবে না, বরং জনগণ বিক্ষুদ্ধ ও আহত হবে। জনগণ এটি আরো ব্যাপকহারে গ্রহণ করবে।’

 

বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরকার অব্যাহতভাবে বাধা দিতে থাকলে একদিন জনগণই এর বিচার করবে বলে মন্তব্য করে খন্দকার মোশাররফ।

 

৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এদিন আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালনের জন্য রাজধানীর দুটি স্থানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। আর তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ অভিহিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

 

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ৫ জানুয়ারি ঢাকায় দুটি সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের আয়োজনে ধানমন্ডির রাসেল স্কয়ারে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে এ সমাবেশ করবে। এদিকে দিনটিতে কেন্দ্র করে সারা দেশে মহানগর ও জেলায় কালো পতাকা মিছিল ও কালো ব্যাজ ধারণ এবং ৭ জানুয়ারি ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।

 

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে এই দিনকে ঘিরে রাজনীতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নেয়। যদিও এবার কর্মসূচিতে ঘিরে উত্তেজনা থাকলেও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং রাজনীতিতে স্বাভাবিক পরিবেশ সংঘাতের মতো কোনো ঘটনা ঘটবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, ৫ জানুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাজিরা দিতে আদালতে যাবেন। এ জন্যই দলটি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’-এ সমাবেশের তারিখ দুই দিন পিছিয়ে ৭ জানুয়ারি করেছে। আর আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারিতেই রাজধানীতে দুটি সমাবেশ করবে। এতে সমাবেশ ঘিরে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হতো তা এড়ানো গেছে। গত বছরও দুটি দলই এই দিনকে কেন্দ্র করে পৃথকভাবে শান্তিপূর্ণভাবেই সমাবেশ করেছিল।

 

‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি সব ধরনের হুমকি উপেক্ষা করে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ উপলক্ষে ৭ জানুয়ারি পূর্বঘোষিত সমাবেশের জন্য বিএনপি অনুমতি পাবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

 

রিজভী বলেন, ‘৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস। এদিনে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে জনগণকে করা হয়েছে পরাধীন। স্বাধীনভাবে ভোট প্রদানের অধিকার ও ইচ্ছাকে ধ্বংস করা হয়েছে। আর এটি করার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের যে সবচেয়ে বড় আকাঙ্খা গণতন্ত্র সেটিকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে।’

 

রিজভী বলেন, দেশ দৃশ্যমান পুলিশী রাষ্ট্র। পুলিশী রাষ্ট্র না হলে সরকার পুলিশকে সমাবেশের অনুমতি দিতে বলবে। সমাবেশের প্রস্তুতি নিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে বলেই বিএনপির কর্মসূচি পালনের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

তিনি বলেন, ‘ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। জনগণ ভোটাধিকার হরণের দিবস হিসেবে ৫ জানুয়ারিকে জানে। এদিন গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। জনগণ যেন এর প্রতিবাদ করতে না পারে সেজন্য কর্মসূচি বাধা দেওয়ার কথা বলছে।’

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ জানুয়ারি ২০১৭/রেজা/সাইফ