ঢাকা, শনিবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

সাইকেলের চাকায় অ্যানিমেশন উদ্ভাবন সিলেটের রাজু মিয়ার

স্বপ্নীল মাহফুজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-০৮ ২:০৭:৫৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-০৮ ২:০৭:৫৬ পিএম
প্রতীকী ছবি

স্বপ্নীল মাহফুজ : ধরুন আপনি রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালাচ্ছেন আর আপনার সাইকেলের চাকায় জ্বলজ্বল করছে আপনার নাম কিংবা কোনো কিছু। অবাক করা বিষয় তাই না! সাইকেলের চাকায় এবার এ ধরনের অ্যানিমেশন ব্যবহার করা যাবে।

এখন শুধু এটার যথার্থ পৃষ্ঠপোষকতা পেলেই হয়তো পুরোপুরি আলোর মুখ দেখবে এই প্রযুক্তি। আর এমনটি সম্ভব হবে ‘বাইক স্পোক এলইডি ডিসপ্লে’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

বাইক স্পোক এলইডি ডিসপ্লে হচ্ছে, একটি ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস। এই ডিভাইসটি সাইকেলে লাগানো হয়ে থাকে। এটির মাধ্যমে সাইকেলের চাকায় ভার্চুয়াল একটা ডিসপ্লে তৈরি করা যায়, এটা ঠিক একটা মুভিং ডিসপ্লের মতো কাজ করে। এটির সাহায্যে বাই সাইকেলের চাকায় বিভিন্ন ধরনের অ্যানিমেশন, ইংরেজি বর্ণমালা প্রদর্শন করানো যায়। এছাড়াও এ ডিভাইসটিতে ইংরেজি বর্ণমালা দিয়ে ইচ্ছেমতো নিজের নাম কিংবা অন্যকোনো শব্দ লেখা যায়।

ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে এ ডিভাইসের সঙ্গে একটি রিমোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, রিমোটের সাহায্যে ব্যবহারকারী অ্যানিমেশন কিংবা নাম পরিবর্তন করতে পারবে। এ ডিভাইসটি সাইকেলের চাকায় বর্তমান তাপমাত্রা এবং বর্তমান সময় প্রদর্শন করবে। ডিভাইসটি ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে বর্ণমালা কিংবা লেখা প্রদর্শন করে।

ডিভাইসটি অনেক সহজেই ব্যবহার করা যায়। এ ডিভাইসে যে ব্যাটারি লাগানো থাকে তা দিয়ে ব্যবহারকারী ১ মাস ডিভাইসটি চালাতে পারবে। এ ধরনের ডিসপ্লে বাংলাদেশে প্রথম, যেটা সাইকেলের চাকায় অ্যানিমেশন ও বর্ণমালা প্রদর্শন করে।

ডিভাইসটি যেভাবে কাজ করে 
ডিভাইসটি মূলত নির্দিষ্ট সূত্র মেনে কাজ করে। এ ডিভাইসকে কাজ করাতে হলে সাইকেলের চাকার স্পোকে লাগিয়ে চাকা ঘুরাতে হয়। আমরা জানি যে, মানুষ কোনো বস্তু দেখলে বা চোখের সামনে পড়লে ওই বস্তুটির চিত্র মানুষের মস্তিষ্কে ১/১০ সেকেন্ড স্থায়ী থাকে, এ সময় পরে মানুষের মস্তিষ্ক থেকে বস্তুটির চিত্র মুছে যায়।

এ ডিভাইসটি যা প্রদর্শন করে তার সময়কাল ১/১০ সেকেন্ডের মধ্যে, যার ফলে আমরা এলইডি বা লাইটের পার্থক্য বুঝতে পারি না। এ ডিভাইসটি ৮*৮ মেট্রিক্স অনুসরণ করে অ্যানিমেশন কিংবা বর্ণমালা তৈরি করে। এ ডিভাইসে ৮টি এলইডি বা ছোট বাল্ব লাগানো আছে, যার সাহায্যে শত শত পিক্সেল বা ডট বা বিন্দু তৈরি করা যায়।

যেহেতু এ ডিভাইসটি সাইকেলের চাকার মুল বিন্দু বরাবর ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে, সেহেতু প্রতি ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ছোট বাল্ব বা পিক্সেলগুলো ১/১০ সেকেন্ডের মধ্যে জ্বালিয়ে-নিভিয়ে অ্যানিমেশন বা বর্ণমালা তৈরি হয়।

উদ্ভাবক :
সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ছাত্র ও ঐশী ইলেক্ট্রনিক্সের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার মো. রাজু মিয়া এটি তৈরি করেছেন। প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি এ ডিভাইস নিয়ে কাজ করেছেন, ডিভাইসটির কাজ কিছুদিন আগে শেষ হয়েছে। এখন শুধু পৃষ্ঠপোষকতা এবং মার্কেটে ছাড়ার অপেক্ষা। এ ডিভাইসটি হয়তো মানুষের তেমন কোনো উপকারে আসবে না, তবে মানুষকে আনন্দ দিতে পারবে এ ডিভাইসটি।

 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ জানুয়ারি ২০১৭/ফিরোজ

Walton Laptop