ঢাকা, শনিবার, ৫ কার্তিক ১৪২৪, ২১ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

স্বাস্থ্যকর মনে হলেও যেসব অভ্যাস স্বাস্থ্যকর নয়

আফরিনা ফেরদৌস : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১২-৩০ ৮:০৯:১৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১১ ১২:০৭:৫৬ পিএম
প্রতীকী ছবি

আফরিনা ফেরদৌস : আমাদের সবারই এমন অনেকগুলো অভ্যাস আছে যেগুলোকে আমরা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বলে দাবি করি। যা আদৌ স্বাস্থ্যকর নয়।

 

এই অভ্যাসগুলো তৈরি হয়েছে হয়তো কোনো বন্ধুর কাছে শুনে অথবা কোনো পোর্টালে পড়ে বা কোনো খবরে শুনে। তাই আমরা যতই সেই অভ্যাসটিকে ঘৃণা করি না কেন যেহেতু সেটা স্বাস্থ্যকর তাই তা আমাদের মেনে চলতে হবে এমন ধারণা আছে অনেকের মধ্যে।

 

এসবের বেড়াজালে অভ্যাসটি ত্যাগ করা সম্ভব হচ্ছে না কিন্তু গভীরভাবে ভেবে দেখেছেন কি, আপনি যেটা করছেন সেটা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী।

 

আসুন জেনে নিই সেসব স্বাস্থ্যকর অভ্যাস সম্পর্কে যেগুলো আমাদের ভালোর থেকে খারাপ বেশি করছে।

 

দাঁড়িয়ে কাজ করা

অনেককেই দেখা যায় উঁচু টেবিল ব্যবহার করতে যেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়। ৪০০০ প্রাপ্ত বয়স্ক আমেরিকানের ওপর করা একটি দীর্ঘ মেয়াদী গবেষণা থেকে বলা হয়, দাঁড়িয়ে কাজ করার মধ্যে তেমন কোনো উপকারিতা নেই বরং এটি মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। দাঁড়িয়ে কাজ করতে থাকলে ক্যালরি ক্ষয় হতে থাকে এবং ওজন কমতে থাকে যা শরীরের জন্য ভালো নয়।

 

লো ফ্যাট খাবার খাওয়া

নব্বইয়ের দশকে ইউএসডিএর করা গবেষণা থেকে বলা হয়, আমেরিকার প্রায় মিলিয়ন খানেক মানুষ ওজন কমানোর জন্য কম ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার খেতে থাকেন। যাতে তারা নিয়মিত খাবারের তালিকাগুলো ভরে ফেলেন কম ফ্যাটযুক্ত খাবারে। তবে এর ফল ভালো হয়নি।

 

প্রায় ৫০ হাজার মহিলার ওপর আট বছর ধরে করা একটি গবেষণা থেকে বলা হয়, লো ফ্যাট যুক্ত খাবার খেলেও মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যানসার, কোলেস্টেরল ক্যানসার এবং হার্ট সংক্রান্ত সমস্যা কমে যায়নি বরং বেড়েছে। কিছু কিছু ফ্যাট যেমন বাদাম এবং মাছের ফ্যাট শরীরের জন্য বেশ ভালো।

 

ওজনের ওপর স্বাস্থ্য নির্ভর

অনেক ডাক্তার বলেন যে, আপনার উচ্চতা অনুযায়ী যদি ওজন ঠিক থাকে তাহলে আপনার স্বাস্থ্য ভালো আছে। তারপর তারা আপনাকে একটি রঙিন খাদ্য তালিকা ধরিয়ে দেন।

 

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি ভুল ধারণা। কারণ অনেক সময় ওজন ঠিক থাকলেও শরীরে ফ্যাট থাকতে পারে অনেক। যা ওজনের সঙ্গে তারতম্য ঠিক রাখে কিন্তু সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে সমতা বজায় রাখে না। এতে করে টাইপ টু ডায়াবেটিকস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

শুষ্ক খাবার এড়িয়ে চলা

অনেকে মনে করেন শুকনা খাবার যেমন আটা বা ময়দার তৈরি পাউরুটি বা অন্যান্য বেকারি খাবার খেলে ওজন বেড়ে যায়। তাই তারা এই ধরনের খাবার এড়িয়ে চলেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই খাবারগুলো খেলে ওজনের খুব বেশি তারতম্য হয় না। বরং এটিতে ফাইবার বেশি থাকে, যা হালকা ক্ষুধায় অন্যান্য ফাস্ট ফুড খাবারের তুলনায় বেশ ভালো।

 

বাদাম দুধ

কয়েক বছর ধরে দুধের বিকল্প হিসেবে অ্যালমন্ড দুধ (যা অ্যালমন্ড বাদাম দিয়ে তৈরি) বেশ বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। অ্যালমন্ডে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। কিন্তু এক গ্লাস অ্যালমন্ড দুধে মাত্র ২ শতাংশ অ্যালমন্ড থাকে যাতে প্রোটিনের আশা করাটা বোকামি। আর অন্যান্য ভিটামিন কৃত্রিমভাবে সংযোজন করা হয়। তাই বলা চলে দুধের বিকল্প ননি মুক্ত দুধ হতে পারে, কোনো বাদামের দুধ নয়।

 

তথ্যসূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ ডিসেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

Walton
 
   
Marcel