ঢাকা, শনিবার, ৮ মাঘ ১৪২৩, ২১ জানুয়ারি ২০১৭
Risingbd
 
সর্বশেষ:

হতাশা ও প্রত্যাশার কপ-২২

খান মো. শাহনেওয়াজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১১-২১ ৮:৩৯:৫০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৬-১১-২১ ৮:৩৯:৫০ এএম

খান মো. শাহনেওয়াজ : জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অগ্রাধিকার দেওয়ার আহবান জানানোর মধ্য দিয়ে মরক্কোর মারাকেশে শেষ হয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন। এতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণ এবং স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলোর দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়ন বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বিশ্বকে বাসযোগ্য রাখার অঙ্গীকার করে প্রকাশ করা হয়েছে মারাকেশ ঘোষণা।

 

বিশ্বের তাপমাত্রা এই শতাব্দীতে যাতে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না বাড়ে, সে জন্য কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সবুজ জলবায়ু তহবিলে ২০২০ সালের মধ্যে এক হাজার কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

২২তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন বা কপ- ২২ সম্মেলনে ১৯৩টি দেশ প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে। তারা বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তরিকভাবে কার্বন নিঃসরণ কমানোর চেষ্টা করবে। অভিযোজনের জন্য সবাই অর্থিক সহায়তা দেবে। প্যারিস চুক্তি কী উপায়ে বাস্তবায়ন করা হবে তার রূপরেখা তৈরিতে ধীরগতি নিয়ে দেশগুলোর পরিবেশবাদী সংগঠন হতাশা প্রকাশ করেছে।

 

প্যারিস চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন ২০২০ সালের আগে শুরু হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে বিভিন্ন জলবায়ু সংগঠনের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, রাষ্ট্রগুলো আগামী দুবছরে আলোচনা করে যেসব বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে চুক্তি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ শুরু হবে। মুলত এই দুই বছর দেশগুলোর নেতারা জলবায়ু সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতায় আসার চেষ্টা করবেন। প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে সময়  যাতে না গড়ায়, সেই চেষ্টা করা হবে।

 

মরক্কোয় ১৮ নভেম্বর শেষ হয় ১১ দিনব্যাপী এই আয়োজনের। হতাশা ও প্রত্যাশা- দুইয়েরই প্রতিফলন ঘটেছে সম্মেলনে। বিশ্বের ৫৪টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং ১২০টি দেশের মন্ত্রী ও মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এতে বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বক্তব্য রেখেছেন। তিনি সম্মেলনে বাংলাদেশের ৫৮ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে পানি বিষয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বৈশ্বিক তহবিল গড়ে তোলা এবং ওই অর্থ দিয়ে পানি বিষয়ে টেকসই উন্নয়ন অর্জনে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর করার সুপারিশ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতদের চ্যালেঞ্জের বিষয়টিকে সঠিকভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। সহজ শর্তে সবুজ জলবায়ু তহবিল থেকে সরাসরি অর্থ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশ চায় প্যারিস চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন।

 

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সন্মুখীণ হবে যেসব দেশ তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ভুগতে শুরু করেছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সমূদ্র উপকূলীয় এলাকায় লবনাক্ত পানি এসে গেছে। সেখানে কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে। সেখানকার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে দেশের অন্য জায়গায় গিয়ে বসতি গড়ছে। বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে চায় বিশ্বের তাপমাত্রা এই শতাব্দীর মধ্যে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি যাতে না বাড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার সঙ্গে সঙ্গে সবুজ বনায়নের মাধ্যমে অভিযোজনের ওপর গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড নামে নিজস্ব অর্থে ৪০ কোটি ডলারের তহবিল গঠন করা হয়েছে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে অনুসমর্থন ও স্বাক্ষর দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রথম সারিতে রয়েছে ।

 

কিন্তু মারাকেশে কপ-২২ সম্মেলনে কী প্রাপ্তি ঘটলো বাংলাদেশের ? প্রতিনিধিরা বলেছেন, বাংলাদেশ তার বক্তব্য সম্মেলনে বিশ্ব নেতাদের সামনে তুলে ধরতে পেরেছে- এটাই অনেক বড় প্রাপ্তি। এছাড়া, অভিযোজন খাতে তহবিলের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।

 

মারাকেশে আটটি শিল্পোন্নত দেশ জলবায়ু প্রযুক্তি খাতে ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার তহবিল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই তহবিল থেকে মূলত স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষি খাত যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে সে লক্ষ্যে সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক তার বিনিয়োগ দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে। এসব তহবিলের সুফল বাংলাদেশও পেতে পারে।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ নভেম্বর ২০১৬/শাহনেওয়াজ