ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

‘হাত দেখা ও ভাগ্য গণনা নিছক বিনোদন’

আমিনুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১১-২৬ ৮:৪৬:৫৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-১০ ১:২৩:২৩ পিএম

আমিনুল ইসলাম : ভাগ্য অদৃশ্য জগতের একটি ব্যাপার। আমরা আমাদের অতীতকে দেখতে পাই। কিন্তু ভবিষ্যৎকে দেখতে পাই না। ভবিষ্যতে কী হবে তাও কেউ জানি না। তাই আমাদের ভাগ্য জানার আগ্রহ খুবই তীব্র। সুপ্রাচীন কাল থেকেই মানুষ তার ভাগ্য জানার চেষ্টা করে আসছে।

সেজন্য ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ জানার নানা ধরনের উপায়ও বের হয়েছে। গেল কয়েক শতকে জ্যোতিষীকে দিয়ে হাত দেখা ও ভাগ্য গণনার বিষয়টি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যদিও সমাজবিজ্ঞানী ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন- বাস্তবতাবিমুখ, হতাশাগ্রস্ত, মানসিক রোগে আক্রান্ত এবং নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস না থাকা মানুষগুলো জ্যোতিষীদের কাছে ছুটেন। যদিও জ্যোতিষ শাস্ত্র বিজ্ঞানভিত্তিক একটি বিষয়, কিন্তু এর সঙ্গে মানুষের ভাগ্যের কোনো সম্পর্ক নেই।

তারপরও জীবনে কখনো জ্যোতিষীকে দিয়ে হাত দেখাননি এমন মানুষের সংখ্যা কম হবে বৈকি। সাধারণ পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষিত অনেকেই জ্যোতিষীর দ্বারস্থ হয়েছেন এবং হচ্ছেন। ঢাকা শহরের খ্যাতিমান জ্যোতিষীদের বাড়ি ও চেম্বারে ভাগ্য জানতে চাওয়া সব শ্রেণির মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

যাদের অর্থকড়ি কম তাদের ভরসা ফুটপাতের হস্ত ও ভাগ্য গণনাকারী। যিনি খামে ভরা ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে লেখা মনোমুগ্ধকর কিছু কথার চিরকুট টিয়ে পাখির ঠোঁটে তুলে এনে পিপাসু মানুষকে তৃপ্ত করেন। ঢাকা শহরের ব্যস্ততম জায়গাগুলোতে এমন অনেক অখ্যাত জ্যোতিষীকে টিয়ে পাখি ও রঙ-বেরঙের সাজানো খাম নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। তেমন একজন গুলিস্তানের আব্দুর রহমান। গেল ২৬ বছর ধরে তিনি গুলিস্তান এলাকায় হাত দেখা ও ভাগ্য গণনা করছেন। তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়। রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য সেগুলো তুলে ধরা হলো।

আমিনুল ইসলাম : নাম কী আপনার?
জ্যোতিষী : আব্দুর রহমান

আমিনুল ইসলাম : কত বছর ধরে আপনি হাত দেখা ও ভাগ্য গণনার কাজ করছেন?
জ্যোতিষী : বহু বছর ধরে। এখানেই কাজ করছি ২৬ বছর ধরে। এই এলাকার সবগুলো পরিবর্তনের সাক্ষী আমি। এখানে কতকিছু দেখেছি গেল ২৬ বছরে।

আমিনুল ইসলাম : আর দশটা পেশায় না গিয়ে এই পেশায় কেন?
জ্যোতিষী :
বাধ্য হয়ে। সুযোগ থাকলে তো অন্য পেশায় যেতাম। ছোটবেলা থেকে এই কাজে জড়িয়ে পড়েছি। অনেকবার ফিরতে চেয়েছি। ফেরার আর পথ পাইনি। তাই এই পেশায়ই থেকে গিয়েছি।

আমিনুল ইসলাম : একটি সত্যি কথা বলবেন, হাত দেখা ও ভাগ্য গণনার বিষয়টি আপনি নিজে কতটুকু বিশ্বাস করেন?
জ্যোতিষী : আমি কতটুকু বিশ্বাস করি সেটা জানতে চেয়ে লাভ নেই। এটা আমার পেশা। নিজ পেশাকে কখনো ছোট করে দেখতে নেই। তবে আমি আপনাকে একটা কথাই বলব- ‘হাত দেখা ও ভাগ্য গণনা নিছক বিনোদন ছাড়া আর কিছু নয়।’

আমিনুল ইসলাম : তার মানে হাত দেখা ও ভাগ্য গণনার বিষয়টি ভিত্তিহীন একটি ব্যাপার, তাইতো?
জ্যোতিষি : অনেকটা তাই। তারপরও মানুষ আমাদের কাছে আসছে। আমরা খেয়ে-পরে বেঁচে আছি। ভবিষ্যতেও আসবে।

আমিনুল ইসলাম : আপনার পরিবারে কে কে আছেন?
জ্যোতিষী : আমার স্ত্রী ও তিন মেয়ে।

আমিনুল ইসলাম : আপনার স্ত্রী কখনো এই পেশা থেকে সরে আসতে বলেননি?
জ্যোতিষী : বলেছে। কিন্তু আমি তো চুরি করছি না। হাত দেখা ও ভাগ্য গণনা আমার মতে বিনোদন। মানুষ যদি সার্কাস দেখে পয়সা দিতে পারে তাহলে হাত দেখিয়ে পয়সা দিতে সমস্যা কোথায়?

আমিনুল ইসলাম : হাত দেখে ও ভাগ্য গণনা করে আপনারা যা বলেন তাতো অধিকাংশ মিথ্যে। মিথ্যে বলে কাউকে খুশি করে টাকা উপার্জন করাটা কি হালাল?
জ্যোতিষী : হালাল-হারাম বুঝি না। তাছাড়া এই শহরে কয়জন লোক হালাল উপার্জন করে। চুরিও তো একটি পেশা। যারা মানুষকে বিনোদন দেয় সেখানেও তো সত্য বলে কিছু থাকে না। যেমন সিনেমা বা নাটকে। তারপরও তো মানুষ টাকা দিয়ে সেগুলো দেখে।

আমিনুল ইসলাম : মেয়েরা বড় হয়েছে নিশ্চয়ই। তাদের বিয়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে এই পেশা সমস্যা হয়ে দাঁড়ালে?
জ্যোতিষী : সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে না আশা করি। যাদের আমার সঙ্গে আত্মীয়তা করতে ইচ্ছা হবে না, তাদের সঙ্গে আত্মীয়তা করব না। এমনও তো অনেক মানুষ আছেন যারা আমাদের পছন্দ করেন।

আমিনুল ইসলাম : এই পেশা থেকে কেমন আয় হয়? সংসার চলে?
জ্যোতিষী : আলহামদুলিল্লাহ, চলে। সকাল থেকে সন্ধ্যা হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ জন লোক পাই। হাত দেখা ১০ টাকা। হাত দেখা ও ভাগ্য গণনা ২০ টাকা। আয় না হলে তো ২৬ বছর ধরে এই পেশায় থাকতে পারতাম না।

আমিনুল ইসলাম : আপনার নিশ্চয়ই একজন গুরু ছিলেন। সেক্ষেত্রে এখন যদি কেউ আপনার শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে চায় তাদে দিক্ষা দেবেন?
জ্যোতিষী : নাহ।

আমিনুল ইসলাম : কেন দেবেন না?
জ্যোতিষী : আমি চাই না কেউ এ পেশায় আসুক। দেশে তো হাজার রকম পেশা আছে। এই পেশায় না আসাই ভালো। তাছাড়া আমি কাউকে দীক্ষা দিতে রাজি নই। যদিও এই পেশার বাজার কখনো ফুরিয়ে যাবে না। মানুষ যতই শিক্ষিত হোক, যতই সচেতন হোক, ভাগ্য জানার আকাঙ্ক্ষা তার কখনো শেষ হবে না। তারা আমাদের কাছে আসবেই।

আমিনুল ইসলাম : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
জ্যোতিষী : জি, আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ নভেম্বর ২০১৬/আমিনুল/মুশফিক

Walton
 
   
Marcel