ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

গ্রন্থমেলায় তাঁদের প্রথম বই

: রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-০২-২৪ ৮:১৩:৫৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৬-০৯-০৫ ৩:০৯:৩৪ এএম

অলাত এহ্সান : ফাগুনের আগমনী দিনে শুরু হয় অমর একুশে গ্রন্থমেলা। প্রকৃতির মতো গ্রন্থমেলা যেন সাহিত্যে বসন্তের আগমন। নতুন বইয়ের মতো মেলাকে কেন্দ্র করেই অভিষেক হয় তরুণ লেখকের। আশা করা যায়, পরবর্তীতে তারা বাংলা সাহিত্যের বসন্ত সুসংহত করবেন। নতুন লেখকরাই মেলার অন্যতম প্রাণ। তাদের বই প্রকাশ ও অংশগ্রহণেই মেলা অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়ে থাকে। প্রথম বই হলেও নদীর জলের নিচের চোরা স্রোতের মতো তাদের প্রস্তুতি ও প্রবাহমানতা অনেক দিনের। তাই প্রথম বই মোটেই প্রথম লেখা নয়। তাদের বই পড়লেই বোঝা যায় প্রস্তুতি ও সাহিত্য নিষ্ঠা। পরবর্তীতে তারাই সাহিত্য সম্ভারে গুরুত্বপূর্ণ সব বই দিয়ে থাকেন। এবারও মেলায় প্রথম বই বের করেছেন এমন লেখক কম নন। এদের অধিকাংশই অপেক্ষাকৃত তরুণ। অনেককে আবার নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছুই নেই। বিষয় ভাবনা ও সাহিত্য সাধনায় কেউ কেউ হয়তো সাহিত্যমানের মার্গ স্পর্শ করেছেন। তার কারণ দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও একাগ্রতা। মেলার প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত আসে তাদের বইগুলো। এবারের নতুন কেতন উড়িয়ে প্রথম বই প্রকাশ করেছেন এমন বই ও সাহিত্যিক নিয়ে লিখছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহ্সান।

 

শাহিদ হাসান : অনার্যের ঐকিক বেদনা

প্রায় দুই যুগের কাব্য পরিক্রমায় এসেছে শাহিদ হাসানের কাব্যগ্রন্থ ‘অনার্যের ঐকিক বেদনা’। বইটি প্রকাশ করেছে ‘শাঁখ প্রকাশনী’। প্রচ্ছদ এঁকেছেন জাকির হোসেন। ব্যক্তিগতভাবে নিভৃতচারণেরই ফসল তার কবিতা। কাব্যজগতের সাম্প্রতিক হল্লা দূরে ঠেলে তিনি নিভৃতে আছেন নব্বই দশক থেকে। কবিতার স্বাভাবিক সৌন্দর্য, নিজস্ব দর্শন, স্বর ও ইঙ্গিতময়তার প্রকাশ করেছেন তিনি। উপস্থাপন, শব্দচয়ন ও ফেনিল মেদ ঝড়ানো তার কবিতার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। কবিতায় দেশিয় পরিসরের সঙ্গে আন্তর্জাতিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন মানবতা ও মননের কথা বলতে গিয়ে। চিন্তা ও চেতনার বহুরৈখিক স্বরায়ন ও ঐতিহ্যের বিনির্মাণ তার কবিতা। ভাটির চিরায়ত একটা টান আছে তার কবিতায়। তিনি লিখেছেন- ‘তখন হয়েছে মনে হেমন্তের উজাড় বাগানে/হয়তোবা আমি কোনো/নব-বসন্তের এক শাহিদ হাসান।’

 

খুরশিদ আল হাসান : ত্রিমাত্রিক শব্দছন্দ

কবিতা লেখার পাশাপাশি কবিতা সূত্র সন্ধানের গূঢ় পথে এগিয়েছেন খুরশিদ আল হাসান। শৈশবে আবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত থাকার ফলে তার এই আগ্রহ। তিনি মূলত অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও ছন্দবৃত্ত নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমাদের দেশে প্রধানত এই তিনটি ছন্দেই অধিকাংশ কবিতা রচিত হয়। তিনি মনে করেন, কবিতার ছন্দের সঙ্গে অধুনিক ভাবনার সম্মিলন ঘটলেই বিশ্বকবিতার জন্ম। শুধু কবি ও ছান্দসিকের জন্য নয়, কবিতার ছন্দ জানা থাকলে কবিতার রস আস্বাদন করা যায়। তেমনি একটি গ্রন্থ খুরশিদ আল হাসানের ‘ত্রিমাত্রিক শব্দছন্দ’। শব্দশৈলী প্রকাশনীতে প্রকাশিত বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন নাসিম আহমেদ। মূল্য ২৫০ টাকা।

 

সাদত আল মাহমুদ : চিতার আগুনে

দীর্ঘদিন নাটক লেখালেখির সঙ্গে জড়িত। যে কারণে উপন্যাস তেমন একটা লেখা হয়নি। ‘চিতার আগুনে’ উপন্যাসটি সাদত আল মাহমুদের প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ। নিয়মিত উপন্যাস লেখার অদম্য ইচ্ছা তার। উপন্যাসের পাশাপাশি ছোটগল্প, রম্যরচনা, প্রবন্ধ ও ভৌতিক গল্প লিখেন। সময়টা স্বাধীনতা যুদ্ধের কয়েক বছর পূর্বের। বলতে গেলে পাকিস্তান আমলের শেষ দিকের কথা। ঢাকার অদূরে বিক্রমপুর মহকুমার পালগাঁও গ্রামে নন্দিনি বাবা-মাসহ বসবাস করে। ষোড়শী কন্যার খোলস থেকে সতেরো বছরের কুমারী কন্যার খাতায় সবেমাত্র নন্দিনি। উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র নন্দিনির ওপর নানান জুলুম অত্যাচার, নির্যাতনের কথা এখানে ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস হয়েছে। সতেরো বছরের মহিমা বোঝার পূর্বেই তালুকদারের চিকন জালের ফাঁদে পা দেয় নন্দিনি। ফলে তালুকদার কর্তৃক অবৈধ সন্তানও গর্ভে ধারণ করে। নন্দিনি গর্ভবতী হওয়া থেকে শুরু করে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর পর্যন্ত তথাকথিত ‘অবৈধ সন্তান’কে নিয়ে অমানবিক জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। এই নিয়ে রচিত এ উপন্যাস। একজন নারীর প্রতীক্ষা, প্রতিজ্ঞা আর সংগ্রামের গল্প এটি। বইটি প্রকাশ করেছে অ্যাডর্ন পাবলিকেশন।

 

জোহরা বেগম : আমি ছবি আঁকি

বই প্রকাশনায় ও বিপণনে প্রায় দুই দশক ধরে যুক্ত জোহরা বেগম। ‘আমি ছবি আঁকি’ বইতে বিচিত্র সব ছবির সংযোজন করে শিশুরা নিজেই এঁকে গল্পটিকে করে তুলেবে আকর্ষণীয়। তিনি বইমেলায় এবং বই নিয়ে নানা আয়োজনে শিশুদের সাথে কথা বলতে বলতে, হাসতে হাসতে, খেলতে খেলতে বুঝেছেন শিশুরা বড় হতে হতে বই ও আঁকা-আঁকির প্রতি তীব্র আকর্ষণ অনুভব করে। দেখতে দেখতে, আঁকতে আঁকতে নিজের মধ্যে গড়ে তোলে সুন্দর এক ছবি। ছোট শিশুদের হাতে তুলে দেওয়ার আগে শিশুদের এই বইগুলো দেওয়া যেতে পারে। এতে বইয়ের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি হবে। শিশুরা ছবি আঁকতে ও গল্প শুনতে আনন্দ পায়। তারা আগে ছবি দেখে ও আঁকে। তারপর গল্প বোঝার চেষ্টা করে। সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্না জোহরা বেগমে পরিকল্পনা ও লেখায় এটাই প্রথম বই।

 

সেলিম আনোয়ার : হৃদয়মালতী

ফুল ও ভ্রমর যেন প্রেমের স্বাভাবিক নিদর্শন। কবিতাও ঘোরপাক খাচ্ছে এর মধ্যে। আজকের দিনে কবিতা প্রেমের এই ত্যাগ না-করলেই নয়। সেলিম আনোয়ার প্রেমের কথাই লিখেছেন শিল্পীত ও সাবলীল ভাষায়। পেশায় ভূ-তাত্ত্বিক আনোয়ার মানব-মানবির সম্পর্কের ভূ-তত্ত্বই অন্বেষা করেছেন তার কাব্যে। নিয়মিত গল্প, কবিতা প্রকাশ করলেও এবারই প্রথম তিনি বই আকারে প্রকাশ করলেন। ‘হৃদয়মালতী’ প্রকাশ হয়েছে প্রতিকথা প্রকাশনী থেকে। প্রচ্ছদ মোস্তাফিজ কারিগর। কবিতায় কবির যে হৃদয়ানুভূতি প্রকাশিত হয়েছে তা তার একান্তই নিজের। কিন্তু এই অনুভূতির খতিয়ান এতটাই সাবলীল যে তা অন্য কারো হয়ে ওঠতে বাধা থাকে না। কবিতাগুলো ছন্দময় ও সুপাঠ্য। বইটি পাঠক হৃদয় ছুঁয়ে যাবে হবে বলে কবির বিশ্বাস।

 

আজিম হিয়া : অন্ধ আতরের ঘ্রাণ

রাজনৈতিক নোংরামোকে নিন্দা করে যেমন প্রশ্ন আছে, তেমনি আছে প্রিয়ার সান্নিধ্যে সম্মোহিত হওয়ার প্রয়াস। ফলে বাস্তবতা আর পরাবাস্তবের দেখা মেলে আজিম হিয়ার কবিতায়। কবিতা মাদকময়তায় আবিষ্ট করে। তিনি অক্ষরে সাজিয়েছেন মানুষ ও প্রকৃতির বিমূর্তের কথামালা। পাগলামির রেখায় ঝংকার তুলেছেন, খুলতে চেয়েছেন নিরন্ন অসহায় মানুষের মুক্তির বাতায়ন। জীবন এক প্রেম বহমান নদী। প্রেয়সীর মুখ কবির কাছে রহস্যের জলতরঙ্গ। চেতনার মন্দিরে ফুলেল সমর্পনে প্রার্থনা করেন প্রিয়তমার মন। উর্বর কবিতার মোহনা কবির স্বাতন্ত্র ঢং। পাঠক আলিঙ্গন করে স্বপ্নময় এক পৃথিবীর। বইটি প্রকাশ করেছে চৈতন্য প্রকাশন। প্রচ্ছদ করেছেন সারাজাত সৌম। মূল্য ১০০ টাকা।

 

বজলুর রহমান : সভ্যতার আলো

জীবন থেকে থেকে চলে গেছে অর্ধশত বছর। এ সময়ের সঙ্গে হয়তো বজলুর রহমানের বইয়ের সংখ্যা মেলে না। কিন্তু লেখনির ঝাঁঝ বোঝায় তার প্রাজ্ঞতা। বঞ্চিত মানুষদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যুক্ত আছেন চার দশকেরও বেশি সময় ধরে। ফলে মানুষ বোঝার দৃষ্টিভঙ্গি গভীর ও সংবেদনশীল। সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী বইয়ের ফ্ল্যাপে লিখেছেন- বজলুর রহমান একজন দার্শনিক। না, বস্তা বস্তা ইংরেজি কিতাব পাঠ করে তিনি দার্শনিক হননি; তিনি দার্শনিক হয়েছেন মানুষকে পাঠ করে; প্রকৃতি পাঠক করে। এ কারণে তার লেখা নতুন। তার দেখাও মৌলিক।’ প্ল্যাটফর্ম প্রকাশনী প্রকাশ করেছে বজলুর রহমানের প্রথম গ্রন্থ ‘সভ্যতার আলো’। প্রচ্ছদ এঁকেছেন রাজীব দত্ত। বইটির মূল্য ১০০টাকা।

 

হানযালা হান : জোছনার সাইরেন

জ্যোৎস্না যেখানে সবার কাছে মায়াময়, কবি হানযালা হান সেখানে শোনেন সাইরেন। এখানেই কবির সঙ্গে অনেকেরই দেখা আলাদা হয়ে যায়। হয়ে ওঠে অবশ্য শ্রবণীয় শব্দমালা। অনন্যা প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে হানযালা হানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জোছনার সাইরেন’। প্রচ্ছদ করেছেন দেওয়ান আতিক। মূল্য ১০০ টাকা। আসলে জোছনার সাইরেন দিয়ে পাঠককে যেন জাগিয়ে তুলতে চান কবি। তার কবিতায় শব্দ, ভাষা, উপমা লক্ষ্যনীয়। ‘যে মাটি থেকে আমার মুখ তৈরি/ সেই মাটির বিরুদ্ধে মুখ সাক্ষ্য দেয়/ যে বায়ু থেকে আমার আত্মা তৈরি/ সেই বায়ুকে আত্মা দূষিত করে/ যে জলকণা থেকে আমার জন্ম/ সেই জলে আমি বিষ ছড়াই।’

 

শামশাম তাজিল : আদম পাহাড়

রাষ্ট্রীয় ও পেশাগত সংকটে মানুষ যখন বিপন্ন, তখন শামশাম তানজিল তার প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম রাখেন ‘আদম পাহাড়’। সমস্ত বিপন্নতার ভেতরে মানুষ নিজেই এক অজানাকে দেখতে পান। তার আত্মসন্ধানের ভেতরের দিয়ে পূর্ণ হয়ে ওঠে কাব্যমাঠ। এই অন্তযাত্রা অনেকটা আধ্যাত্মিক, অনেকটা প্রেমের।  ছন্দ ও মুক্তছন্দ উভয়পথে পারঙ্গম এই কবি। চৈতন্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটির প্রচ্ছদ করেন রাজীব দত্ত।

 

গিরীশ গৈরিক : ক্ষুধার্ত ধানের নামতা

ক্ষুধা-ধান ও নামতা তিনটা শব্দের দ্যোতনায় গিরীশ গৈরিকে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ক্ষুধার্ত ধানের নামতা’। বইটি প্রকাশ করেছে বেহুলাবাংলা প্রকাশনী। পথ শিশুরা যেমন ক্ষুধার্ত, তেমনি ধানের মতো অগণিত হয়ে ওঠছে ক্রমেই। রাষ্ট্রের নামতা গণনার মাধ্যদিয়ে তার পরিসংখ্যান শেষ হয় না। মানুষের প্রতি মমতা, নিবেদন ও তাদের মর্যাদা আদায়ের স্বরে উচ্চকিত দায়বদ্ধ কবি গিরীশ গৈরিক। বইটির পাঠ উন্মোচনও করেছে একঝাঁক পথশিশু। এমনকি এই বইয়ের ৫০ শতাংশ রয়ালটি পথশিশুদের আহারের জন্য ব্যয় করা হবে। ৫৩টি কবিতায় ৬৪ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ১৩৫ টাকা। বইটি উৎসর্গ করেছেন অগ্রজ কবি ওবায়েদ আকাশকে। প্রচ্ছদ এঁকেছেন মোস্তাফিজ কারিগর।

 

অমিত চক্রবর্তী : আন্তোনিয়োর মেঘ

শুধু শিরোনাম নয়, গ্রন্থের ভেতরে যে জগত, যে বাস্তবতাকে স্পর্শ করে তাকে কেন্দ্র করেই কাব্যগ্রন্থ ‘আন্তোনিয়োর মেঘ’। অমিত চক্রবর্তীর এটি প্রথম বই। বেরিয়েছে চৈতন্য প্রকাশনী থেকে। প্রচ্ছদ করেছেন নির্ঝর নৈঃশব্দ্য। গত ছয় বছরে লেখা ১৪০টি কবিতা নিয়ে এই বই।

 

সাম্য রাইয়ান : বিগত রাইফেলের প্রতি সমবেদনা

সময় এতটা বিক্ষুদ্ধ ও আগ্রাসী যে, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার যত্রতত্র। ফলে আত্মরক্ষা ও আগ্রাসন দুই-ই এখন আগ্নেয়াস্ত্রের প্রতি নির্ভরশীল। কিন্তু এটা তো সত্য, অস্ত্র নিয়ে এক আগ্রাসী চরিত্রের বাহক। এর প্রতি খানিক ব্যঙ্গ আর বিজ্ঞতার মধ্যদিয়েই সাম্য রাইয়ানের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ‘বিগত রাইফেলের প্রতি সমবেদনা’। এটা যেমন নস্টালজিক, তেমনি দ্রোহী। প্রতিবছর বইমেলায় অনেক সাহিত্যিককে পরিচয় করে দিলেও, সাম্য রাইয়ান পরিচিত অনেক আগে থেকেই। বাক্সময় প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন রাজিব দত্ত।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬/সাইফ

Walton
 
   
Marcel