ঢাকা, সোমবার, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৯ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

বীজতলা তৈরির নতুন পদ্ধতি কমিউনিটি

বিএম ফারুক : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৭-১২-২৬ ১০:৫৪:৫৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-২৬ ১১:২৩:০৯ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর : কৃষি ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে বীজতলা তৈরির নতুন পদ্ধতি কমিউনিটি। এ পদ্ধতিতে খরচ কম। অন্যদিকে সুস্থ চারা উৎপাদনের নিশ্চয়তা আছে,  কোল্ড ইনজুরির ঝুঁকিও তেমন নেই- বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

কমিউনিটি পদ্ধতিকে বিশেষজ্ঞরা বীজতলা তৈরির আদর্শ পদ্ধতি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

জানা গেছে এই বীজতলা তৈরি ও চাষে কৃষকের মাঝে ব্যাপক সাড়া মিলছে। এবার যশোর জেলায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। এরমধ্যেই ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।

ঝিকরগাছার মাগুরা গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, আগের পদ্ধতির চেয়ে কমিউনিটি পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করলে বীজ, শ্রম, সার, জায়গা, সেচ খরচ অনেকাংশে কম লাগে কিন্তু চারা ভালো পাওয়া যায়।

আরেক কৃষক আব্দুল হাই বলেন, ‘সনাতন পদ্ধতিতে যে জায়গায় ৫০ কেজি বীজ প্রয়োজন হতো সেখানে কমিউনিটি পদ্ধতিতে ৩৫ কেজি বীজ লাগে। ফলে বীজতলা তৈরিতে অন্তত ১২০০ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।’

ঝিকরগাছার মাগুরা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার শ্যামল কুমার নাথ জানান, উপজেলায় কমিউনিটি বীজতলা তৈরিতে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। দিনদিন এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কমিউনিটি (আদর্শ) বীজতলা তৈরিতে কৃষকের ধান উৎপাদন খরচ ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ কম লাগছে। সনাতনভাবে সমস্ত জমি জুড়ে চাষ দিয়ে বীজতলায় বীজ বপন করলে দূর থেকে ছেটানোর ফলে সমান দূরত্বে বীজ পড়েনা। এতে চারা ভাল হয় না, বীজও বেশি লাগে। কমিউনিটি বীজতলায় সুস্থ চারা উৎপাদন হয়, আবার কোল্ড ইনজুরিরও ঝুঁকি কম।

ঝিকরগাছা পৌরসভা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার শ্যামল কুমার দাশ জানান, কমিউনিটি (আদর্শ) পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করতে কৃষককে হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। বীজতলা তৈরির মৌসুমে মাঠে ঘুরে কৃষকদের পরামর্শ দেন তারা।



ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার দীপঙ্কর দাশ জানান, আগে ৫০ কেজি বীজের চারা দিয়ে ২ একর ৫ শতক জমি রোপণ করা যেতো। আর কমিউনিটি বীজতলার ৩৫ কেজি বীজের চারা দিয়েও একই পরিমান জমি রোপন করা সম্ভব। তাছাড়া আগের চেয়ে ফলন ভালো হয়। সেবা যত্ন নেওয়া সহজ হয়।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা চন্ডী দাস কুন্ডু জানান, চলতি বোরো মৌসুমে যশোর জেলায় ১৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।

কৃষি বিভাগের মতে আদর্শ বীজতলা তৈরির পদ্ধতি :

(ক) চারিদিকে খোলা, রৌদ্র ও সেচসুবিধাযুক্ত জমিতে বীজতলা তৈরি করা উচিৎ। কারণ ছায়াযুক্ত বীজতলায় ধানের চারা লম্বা ও লিকলিকে হয়ে যায় এবং চারা রোগাক্রান্ত হতে পারে।

(খ) প্রযোজন মত সার দিয়ে ভালোমতো চাষ-মই দিয়ে, জমি থকথকে কাদাময় তৈরি করে, তাতে ১.০-১.৫ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট প্রয়োজন মত লম্বা একাধিক বীজতলা তৈরি করা যেতে পারে।

(গ) প্রতি দুই বীজতলার মাঝে ৩০ সে.মি. নালা/ ড্রেন করতে হবে। যাতে চারা গজানোর পর বীজতলার মাঝখান দিয়ে হাঁটাচলা করা, চারায় পানি সেচ ও অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা করা সহজতর হয়।

(ঘ) প্রতি বর্গমিটার বীজতলায় ৮০-১০০ গ্রাম হারে সমান দূরত্বে বীজ বপন করা উচিৎ। এরূপ এক বর্গ মিটার বীজতলার চারা দিয়ে ২৫-৩০ বর্গমিটার জমিতে রোপণ করা যাবে।

(ঙ) বীজতলা থেকে চারা তোলার ৭ (সাত) দিন পূর্বে প্রতি বর্গ মিটার বীজতলার জন্য ৭ (সাত) গ্রাম হারে ইউরিয়া সার ছিটিয়ে তাতে হালকা করে পানি সেচ দেওয়া যেতে পারে। মনে রাখতে হবে চারা পাঁচ পাতা হলে তা রোপনের উপযুক্ত।



রাইজিংবিডি/যশোর/২৬ ডিসেম্বর ২০১৭/বিএম ফারুক/টিপু

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC