ঢাকা, বুধবার, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

অনূঢ়ান্ন: রূপকের অন্তুরালে ক্ষুধার্ত বাংলাদেশ

পলিয়ার ওয়াহিদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১২-০৩ ১:৫১:৪৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-০৩ ২:০০:৪৩ পিএম

পলিয়ার ওয়াহিদ : অনূঢ়ান্ন- শিরোনাম দেখেইে চোখ আটকে যায়! কবিতার শিরোনাম এ রকম হতে পারে? বেশ, অনূঢ়া শব্দের অর্থ জানলেও অনূঢ়ান্ন শব্দের অর্থ জানতাম না। নজর বুলালাম কবিতার শরীরে। বুঝতে পারি অনূঢ়া+অন্ন মিলেই অনূঢ়ান্ন হয়েছে। পড়ছিলাম ‘ক্ষুধার্ত ধানের নামতা’। গিরীশ গৈরিকের প্রথম কাব্যধান। গ্রন্থ পড়া এবং এটা নিেেয় দুকলম লেখার অভ্যাস আগেই গড়ে ওঠেছিল। কিন্তু অসুস্থতা আমাকে কয়েমমাস কুরে কুরে খায়। তবে আমি ‘ক্ষুধার্ত ধানের নামতা’ নিয়ে লিখতে বসিনি। শুধুমাত্র অনূঢ়ান্ন কবিতাটি নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা আর কি...

কবিতা আসলে পাঠের আকর। শব্দের শবে কবি যখন প্রাণ (আবেগ, অনুভূতি, বেদনা, ক্লেশ) ইত্যাদি জাতীয় প্রাণ ভোমরা ঢুকিয়ে দেন তখন পাঠক আকৃষ্ট হন। কবিতা ব্যবচ্ছেদের কোনো বস্তু নয়। কারণ ব্যবচ্ছেদ করতে গেলে অপ্রকৃত আয়ু নিয়ে সে মৃত্যুর দুয়ারে চেয়ার পেতে বসে। সে কারণে যতটা পারা যায় পাঠ ছাড়া কবিতার অনুরণন বোঝানো আসলে কঠিন। কবিতার যেমন নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। ঠিক তেমনি কবিতার সমালোচনা বা আলোচনার কোনো সিষ্টেম নেই। তাই-তো সমালোচনার টেবিলে নয়, কবিতা বেঁচে থাকে পাঠকের হৃদয়ে।

‘ঘুম থেকে জেগে দেখি আমি একটা উভয় লিঙ্গের সক্রিয় মানুষ’

অনূঢ়ান্ন কবিতার প্রথম পঙ্ক্তি পাঠককে কুরে কুরে খেতে শুরু করে। কবি কেন প্রত্যেক প্রাণীর ভিতরে স্ববিরোধী একটা স্বভাবজাত চরিত্র দেখতে পান। চিন্তার বহুরৈখিক চেতনা আমাদের এদিক ওদিক তাড়িয়ে বেড়ায়। একজন কবি কখন এমন একটা লাইন লিখে ফেলতে পারেন? এখন তার ব্যবচ্ছেদ করতে পাঠকের চলে যেতে হয় সেই সময়ে! কারণ সময়ের শরীর থেকে যে লতাপাতার জন্ম সেই লতাপাতার রস-রঙ-বর্ণ দিয়ে মাতালের মতো পান করে। সেই খাঁটি কথাটাই কেবল বলে ফেলে নিজের অজান্তে। কোন পাতাটি টক, কোনটি তিতা। এ রকমভাবে আমাদের চিন্তার রেণুগলো ক্রমে একটি থেকে আরেকটিতে সংক্রমিত হতে থাকে। পাঠক তখন দ্বিধায় পড়ে যান। কীভাবে উভয় লিঙ্গের সক্রিয় মানুষ? এইসব ভাবতে ভাবতে যখন একটা রিঙের ভেতরে আমরা ঢুকে পড়ি তখন প্রত্যেক পাঠকও উভয় লিঙ্গ হতে শুরু করে। আর এমনই মুহূর্তের কবি বলে-

‘এখন হয়তো তোমাকে আর প্রয়োজন হবে না’

তখন চমকে উঠতে হয়! কবিতা হলো কি হলো না সেটা বিচার করার ভার পাঠক নেবেন কেন? শুধু প্রেক্ষাপট আলোচ্য হতে পারে। দৃশ্যবরণ ও ধারণের সাথে পাঠককে একত্রে করতে পারি। মগজ ধোলাই আমার কম্ম নয়। পরের লাইন পড়ে নিশ্চয় আমরা আগের ভাবনা থেকে ছিটকে পড়ি। কোনো মানবীর প্রতি কবির নিজস্ব তিক্ততার অভিজ্ঞতার ফসল হয়তো তিনি প্রকাশ করেছেন। যখন আর তাকে লাগবে না বলে ঘোষণা দিচ্ছে তখন সুষ্পষ্ট হয়। এবং রহস্যময়তার ঘোর থেকে পাঠক ফট করে মুখ ফিরিয়ে নেয়। কারণ কবিতার আরেক নাম তো রহস্য।

সম্ভবত আরো দুই-একটা লাইন এগিয়ে গেলে মোটামুটি একটা পরিষ্কার ধারণা পাঠকের বদ্ধমূলে শিকড় গাড়তে শুরু করে।

‘আমি বুঝেছি- তোমার দাঁতের পাটি- পাটিগণিতের সরল অঙ্ক

 

যা কিনা গরলের চেয়ে মধুময় বিষের অন্তর্ঘাত’

‘আমি বুঝেছি’ শব্দটা কবিতার ক্ষেত্রে আপত্তিকর কিনা ভাবা যেতে পারে। আপনি বুঝেছেন বিধায় তো লিখেছেন। এটা বলার আর প্রয়োজন আছে কি? অংশটুকু বাদ দিলে কবিতার তেমন ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে হয় না। এবং দাঁতের পাটির সাথে পাটিগণিতের সরল অঙ্ক বিষয়টা বেশ উপভোগ্য এবং চমকপ্রদ। পাঠক নতুন কোনো ইঙ্গিতে পুলকিত হয়ে নড়েচড়ে বসে। বাংলা কবিতা তো অনেক লেখা হলো। সিকদার আমিনুল হকের ভাষায়- নারীর ঋতুস্রাবের মতো! বিষয় হলো নতুন কোনো চিন্তা, দৃশ্য আদৌ নতুনরা দেখতে পারলো কিনা সেঠাই মূখ্য। তা ছাড়া কবিতা টিকে থাকার কোনো মসলা তো খুঁজে পাই না। সময়ের টানে হয়তো পোশাকী পরিবর্তন মেনে নেয়া যাবে কিন্তু প্রকৃত মগজী বা হৃদয়িক কোনো গোলমরিচ যদি না পাওয়া যায় তাহলে কবিতা কেন পড়বে? নতুন স্বাদই শুধু মূখ্য নয়, স্বাদের সাথে বরং আস্বাদনও খুব প্রয়োজন।

র´গরম কবিরা দাবি করছেন- স্বাদই শেষ কথা! নতুন শর্টড্রেসেই যদি আর্কষণীয় লাগে তাহলে ঢিলেঢালা জামার প্রয়োজন কি? আসলে কি তাই? ঋতুর জ্ঞান মাথায় না থাকায় এখন শীতের কবিতার গায়ে গরমের পোশাক চড়িয়ে দিয়ে আমরা যতই কবিতা কবিতা বলে চিৎকার করি না কেন তা কিন্তু বিরক্ত হয়ে এক সময় ন্যাংটা হয়ে পড়বে। হাস্যকর হলেও সেটাই সত্য বলে প্রমাণিত হচ্ছে দিন কে দিন। কেন জানি মনে হয়- এভাবে আরো বিশ-ত্রিশ-চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর বাংলা কবিতার অরাজক কাল বলে চিহ্নিত হবে। তারপর হয়তো ভাঙা-গড়ার মাধ্যমে আবর্জনার উপর নতুন ঘরের পুতা গাঁথবে কোনো কবিবংশ। ততদিনে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আর এখন যে হচ্ছে না এর ফল হলো আগামীতে হবে এমন তিক্ত লবণাক্ত একটা আশা জমিয়ে রাখা ছাড়া গত্যান্তর দেখি না।

ঠিক যেন সেই মানবীর মতো। ‘যা কিনা গরলের চেয়ে মধুময় বিষের অন্তর্ঘাত’। কিন্তু ঠিক বুঝে ওঠা যায় না কেন কবি মধুময় বিষেভরা লিঙ্গ ধারণ করলেন। একজন মানবীর প্রতি এই ক্ষোভ কবিতাটিকে মহৎ করে না বরং দূর্বল করে দেয়। কারণ এর আগেই তিনি ঘোষণা করে তোমাকে আর প্রয়োজন হবে না। যাক তবু আমরা একজন কবির মন অনুবাদে একজন মানবীর রূপ মনন চিনতে পারি। সাথে সাথে এই সময়ের পুরুষ ও নারীর মনস্তত্ব আবিষ্কার করতে সচেষ্ট হই। প্রেম আর বিরহে হাবুডুবু খায়। আর নারী মাত্রই বিষমধুময় নাকি মধুময় বিষ তা তো চিরকাল সবারই জানা। এখন তাই সরল অঙ্ক থেকে আমরা মধুর সন্ধানে বের হয়ে পড়ি!

‘হ্যাঙ্গারে টাঙানো তোমার পোশাকের কঙ্কাল

 

যদি তোমাকে ভাবায়- তাহলে আমি ভেবে নিবো

আজ থেকে আমি কোনো পাল বংশের সন্তান নই’

খটকা লাগলো! পোশাকের কঙ্কাল তারপর তোমাকে ভাবায়- তাহলে কবি ভেবে নেবেন- তিনি কোনো পাল বংশের সন্তান নন। বিষয়টা ঘোলাটে, কুয়াশাময় চাদরে মোড়ানো। শেষের ইতিহাস বোঝা গেল না। প্রত্যেক পাঠক যখন পাল বংশের সন্তান হতে প্রস্তুতি  নিচ্ছে। ইতিহাসের সন্তান হতে কার না ভালো লাগে। বিষয়টা পরিষ্কার হতে আমরা পরের লাইনে ঝুকে পড়ি।

‘এতদিন যতো দেবদেবীর প্রতিমা গড়েছি-

তাদের লিঙ্গ স্তনে চিবুকে হাত রেখে যেসব যৌন সুখ পেয়েছি

ভুলে যাব সেসব কথা

ভুলে যাব- অতশি কাচের তীক্ষ্ণ আলোয়

                                জ্বালাময়ী সংসার’

আবারো কবি ইতিহাসের রাঁজহাসটি ছেড়েছেন। কিন্তু মনে হয় ডানা ভেঙে তখন জ্বালাময়ী সংসারে মুখ থুবড়ে পড়া ছাড়া কোনো পথ খুঁজে পায় না!

আরো পাঠ করি-

‘ভেঙে দেব- গর্ভজীবী দুঃখের গুহামুখ

কেননা এখানে র‌্যাব এসে শীতলক্ষ্যায়

ধর্ষণ করে র‌্যাবোঁর কাব্যবাগান

এখানে অনূঢ়া মমতা দিদি বন্ধ্যা করে রাখে

                              তিস্তা নদীর গর্ভ’

এখানে এসে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু প্রতিবাদ ও বাস্তবতার মিশেল চোখে পড়ে। র‌্যাবোঁর মতো অবাধ্য কবি নিজেকে প্রতিস্থাপন করেন। কবি ভেঙে দিতে চেয়েছেন গুহামুখ। তেজী কবিকে পাঠক লুফে নিতে ভুল করে না। আবার অনূঢ়া মমতা দিদি বন্ধ্যা করে তিস্তানদীর গর্ভ বিষয়টা পাঠককে সিংহের কেশরের মতো ফুলিয়ে তোলে। দেশীয় প্রেম ও আবেগের খচখচানি ধরলে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। পাঠকও তখন মমতাকে গালমন্দ দিতে ভুল করে না। এখানে কবি কতটুকু সার্থক পাঠক তা ভাবেন কি?

‘এখানে ক্ষুধার্ত ধানগাছের মলিন মুখ দেখে

                          কেউ কাঁদে না

এখানে নাড়ী কাটা ব্লেডের রক্তাক্ত মৃতদেহের

শবযাত্রা থম্কে থাকে চিরকাল

তবুও আমি প্রতি বিহানবেলায় বেহুলার বেহালা

           বাজিয়ে তোমাদের মুগ্ধ করি’

বাংলাদেশকে অনূঢ়ান্ন বলে কবি যে উপমা দাঁড় করেন। তার বাস্তবতার ভেতর ও বাহিরের অস্থির আদ্যপান্ত, রাজনীতির নোংরা ন্যাকড়া, ইতিহাসের চরম সত্যপাঠ নিংড়ে বেহুলার বেহালা বাজিয়ে মুগ্ধ করার প্রবণতা সত্যিই বিমোহিত করে। উত্তেজিক করে স্নায়ুর কলকব্জা। সব ব্যর্থতার জ্বালানি যেন সফলতার উৎসমুখে ধুপ করে জ্বলে ওঠে কারণ ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে প্রতিবাদী মানুষের জন্ম হয়। কবিও তার মাতৃভূমির ব্যর্থতাকে আর সহ্য করতে পারেন না। এখন তিনি কখনো ইতিহাসে মুখ ডুবিয়ে শ্বাস নেই। কখনো তিক্ত হয়ে প্রতিবেশি দেশকে বিষময় প্রেমিকার রূপকে প্রকাশ করে প্রতারক প্রেমিকার প্রতিমায়। তখন পাঠকের মুখ জ্বলজ্বল করে।

পাঠক প্রতারক প্রেমিকার মুখে থুথু দিতে কার্পণ্য করে না। কারণ মুখোশধারী মমতা বিমাতাসূলভ আচারণ করে তা রাজনীতিকরা ভুলে গেলেও কবি ভোলেন নি। তখন বুঝা যায় ক্ষুধার্ত ধান থেকে সবাই মলিন হয়। হতে বাধ্য হয়। কিন্তু আমাদের প্রতারক প্রেমিকারা ঠিকই ছলনার মুখে লাগাম পড়িয়ে ঠকিয়ে যায় একের পর এক।

এখানেই কবি শেষ করেন না। বলেন স্বপ্নের কথা, আর ভরসার পঙ্ক্তি।

দুঃসাহসিক কবি চৈতালী সূর্যের শরীরে কাদামাটি লেপ্টে দিতে প্রস্তুত। কারণ দেশপ্রেমের কাছে তিনি নতজানু। কারো কাছেই মাথানত করতে রাজি নয় কবি।

‘অনূঢ়ান্ন’ এই বাংলাদেশ! আমাদের মাতৃভূমি। আমাদের জন্মভূমি। আমাদের মা। কথাগুলো বুকের হাড়গুলো একত্রে জড়ো করে ফেলে। বুকের ভেতরে নিঃশ্বাসের দরজা বড় করে দেয়। বুক ভরে দম নিতে ইচ্ছে থাকে। অর্থাৎ গায়ে হলুদের পরেও বিবাহের পূর্বে পিতৃগৃহে কনেকে অন্নদানের সংস্কারকে কবি মাতৃভূমিকে যে একটা দুঃসাহসিক উপমায় দাঁড় করান সেখানে তিনি শভভাগ সফল। তিস্তা নদীর গর্ভ, ক্ষুধার্ত ধান, এসব আখ্যানের জ্বালাময়ী প্রতিবাদ। তারা বারবার আমাদের প্রতিহত করতে চায়, কিন্তু পারে না। পারে না বলে হিংসায় জ্বলে। কবি আরো বলেনÑ তারা কখনো তা পারবে না। কারণ আমরা বেহুলার বেহালা বাজাতে জানি। বেদনায় আমরা কাতর না হয়ে বারবার শোককে শক্তিতে, সাহসে রূপান্তর করেছি এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য এবং প্রমাণিত। জন্মগত কারণে বা স্বভাবজাত তাই, কোনো বিজীত শক্তির কাছে মাথানত করিনি।

কবিতার ভেতরে গণিত, সমীকরণ, ইতিহাস, উপমা, রূপকের কারিশমা দেখালো তাতে তার হাতেই যে বাংলা সাহিত্যের সেরা কবিতা রচনা হতে পারে এমন আশা পুষে রাখতে পারেন পাঠক। প্রত্যাশার এই প্রহর যেন পূর্ণিমায় পর্যবসিত হয় সেই প্রত্যাশায় বুদ হয়ে আছে বাংলা কবিতার সমগ্র ক্ষুধার্ত পাঠক। তাদের নতুন কবিতা চাই। নতুন উপকরণ চাই। নতুন চিন্তা চাই।

পাঠকদের পাঠের উদ্দেশ্যে পুরা কবিতাটি নিচে দেওয়া হলো :

অনূঢ়ান্ন

ঘুম থেকে জেগে দেখি আমি উভয় লিঙ্গের সক্রিয় মানুষ

এখন হয়তো তোমাকে আর প্রয়োজন হবে না

আমি বুঝেছি- তোমার দাঁতের পাটি- পাটীগণিতের সরল অঙ্ক

যা কিনা গরলের চেয়ে মধুময় বিষের অন্তর্ঘাত


হ্যাঙ্গারে টাঙানো তোমার পোশাকের কঙ্কাল

যদি তোমাকে ভাবায়- তাহলে আমি ভেবে নিবো

আজ থেকে আমি কোনো পাল বংশের সন্তান নই

এতদিন যতো দেবদেবীর প্রতিমা গড়েছি-

তাদের লিঙ্গ স্তনে চিবুকে হাত রেখে যেসব যৌন সুখ পেয়েছি

ভুলে যাব সেসব কথা

ভুলে যাব- অতশি কাচের তীক্ষ্ণ আলোয়

                                জ্বালাময়ী সংসার

ভেঙে দেব- গর্ভজীবী দুঃখের গুহামুখ

কেননা এখানে র‌্যাব এসে শীতলক্ষ্যায়

ধর্ষণ করে র‌্যাবোঁর কাব্যবাগান

এখানে অনূঢ়া মমতা দিদি বন্ধ্যা করে রাখে

                              তিস্তা নদীর গর্ভ

এখানে ক্ষুধার্ত ধানগাছের মলিন মুখ দেখে

                          কেউ কাঁদে না

এখানে নাড়ী কাটা ব্লেডের রক্তাক্ত মৃতদেহের

শবযাত্রা থম্কে থাকে চিরকাল

তবুও আমি প্রতি বিহানবেলায় বেহুলার বেহালা

           বাজিয়ে তোমাদের মুগ্ধ করি

চৈতালি হাওয়ায় সূর্যের ফাটা শরীরে লাগাই কাদামাটি

তোমাদের ছায়ার আঙুল ছুঁয়ে হাঁটি তেজকাটাল জোছনায়



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ ডিসেম্বর ২০১৭/তারা

Walton
 
   
Marcel