ঢাকা, শুক্রবার, ৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ জুন ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

শিশুসাহিত্যে শওকত আলী || মোজাফ্‌ফর হোসেন

মোজাফ্‌ফর হোসেন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০১-২৯ ৫:৫৩:৩৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-২৯ ৬:০২:৩৬ পিএম

শওকত আলী বাংলাদেশের প্রধানতম কথাসাহিত্যিক। তিনি ‘পিঙ্গল আকাশ’ ‘ওয়ারিশ’ ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ ‘উত্তরের খেপ’ ‘দলিল’-এর মতো উপন্যাস লিখেছেন। সিরিয়াস সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি শিশুদের জন্যেও লিখেছেন বেশ কিছু কিশোর উপন্যাস ও শিশু-কিশোর উপযোগী ছোটগল্প। তাঁর ‘কিশোর সমগ্র’ প্রকাশ করেছে দিব্যপ্রকাশ, ২০০৩ সালে। এই সংকলনে ‘নীল পাহাড়ের গান’ ‘তিন বন্ধু ও প্রাচীন রাজবাড়ি’ ‘ভিতরগড়ের তিন মূর্তি’ ও ‘টুনকো নামে হাতি’ শীর্ষক ক্ষীণদেহী চারটি কিশোর উপন্যাস আছে।

‘শওকত আলীর শিশু-কিশোর গল্প’ প্রকাশ করেছে বিশ্বসাহিত্য ভবন, প্রকাশকাল ২০০২। ১১২ পৃষ্ঠার বইয়ে গল্প আছে ১৬টি। এই বইয়ের ‘লেখকের কথা’ অংশে নিজের শিশুসাহিত্য লেখা নিয়ে শওকত আলী বলেছেন: ‘...আমার মনেও জমা হয়ে থাকতো আমার কিশোর বয়সী জগৎটির কথা- কারণ সেই কথা প্রকাশের ভাষা আমার আয়ত্তে ছিল না। তাই মনে মনে সেই মানুষটিকে খুঁজতাম যে আমার মনের কথা বলবে। আর খুঁজতাম সেই বই যার পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় আমার মনের ভেতরকার জমানো কথাগুলো ছাপার অক্ষরে পাওয়া যাবে।’

লেখক এই কৈফিয়তমূলক গদ্যের শেষ অংশে বলছেন: ‘...আমার মনে হয়েছে শিশু কিশোরদের জন্য লেখাটা লেখক হিসেবে আমার কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। সফল হতে পেরেছি কিনা কিংবা এখনো পারছি কিনা সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু শিশু কিশোরদের জন্য লেখা আমার লেখক অস্তিত্বকে বাঁচিয়ে রাখারই যে একটা চেষ্টা, সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ নেই।’

লেখকের কথা থেকে পরিষ্কার, তিনি দুটি কারণে শিশুসাহিত্য লিখেছেন বা লিখছেন। এক. নিজের ভেতর জমাট বেঁধে থাকা শৈশব ও কৈশোরকাল নতুন করে উপভোগ করতে। অর্থাৎ লেখকের আত্মগত তৃপ্তি ও পূর্ণতার জন্যে লেখা। দুই. একজন লেখক হিসেবে লেখনির মাধ্যমে শিশুদের সমৃদ্ধ করার দায়িত্ব থেকে লেখা। সেটি যে তিনি একবিন্দুও বাড়িয়ে কিংবা কমিয়ে বলেননি তা তাঁর শিশুসাহিত্য পাঠ থেকে বোঝা যায়। শওকত আলী মূলত কড়া মেজাজের কথাসাহিত্যিক। তিনি সমাজের নিপীড়িত-উপেক্ষিত জনতার জন্যে লিখেছেন। বড়দের জন্য যখন কলম ধরেছেন, তখন তাঁর গদ্য কাটকাট, প্রকাশভঙ্গী নির্মোহ। হাস্যরস খুবই চাপা। তবে ছোটদের জন্য যখন কলম ধরেন, তখন আমরা ভিন্ন এক শওকত আলীকে পাই। এখানে তিনি আর তাঁর গদ্যের কট্টর ভাবটা রাখেননি। শিশুদের মতোই সরল ও সহাস্য হওয়ার চেষ্টা করেছেন। সবসময় যে সফল হয়েছেন, সে কথা বলা যাবে না।

শওকত আলীর শিশুসাহিত্য যতটা না বিনোদন-প্রধান তার চেয়ে বেশি বক্তব্যপ্রধান। তিনি নিছক শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য না লিখে, লিখেছেন শিক্ষাদানের উদ্দেশ্য নিয়ে। তবে এই শিক্ষাদানটা মানসিক শাসনে পরিণত হয়নি। তিনি মানবিক সত্যনিষ্ঠ সংগ্রামী গল্প শিশুকিশোর উপযোগী করে তুলে ধরার চেষ্ঠা করেছেন। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে শওকত আলীর যে লেখনী-চরিত্র, সেটি শিশুসাহিত্যে এসেও অটুট রয়েছে।

শওকত আলীর কিশোর উপন্যাস ‘নীল পাহাড়ের গান’ ও ‘টুনকো নামে হাতি’ প্যারাবল বা কথারূপক কৌশলে লেখা। এই কৌশলটি শিশু-কিশোরদের অতি পছন্দের। এখানে একটু উল্লেখ করা প্রয়োজন- ফেবল ও প্যারাবল লোকজসংস্কৃতি বা ওরাল ট্রাডিশন থেকে এসেছে। ফেবল হলো সংক্ষিপ্ত ও সরলগদ্যে কোনো গল্প উপস্থাপন করা, যার শেষমেশ অবশ্যই একটা নৈতিক শিক্ষা থাকবে। এবং ফেবলের চরিত্র হবে পশুপাখি, জীবজন্তু, গাছপালা বা প্রাণহীন কোনো বস্তু। তাদের বিভিন্নভাবে পারসনিফাইড বা মানবিক গুণসম্পন্ন করে উপস্থাপন করা হবে। ঈশপের গল্পগুলো ফেবলের উপযুক্ত উদাহরণ। অন্যদিকে প্যারাবল হলো, অনুরূপ সংক্ষিপ্ত সরল ফিকশন; এখানেও নৈতিক শিক্ষা থাকবে। এখানে ফেবলের সঙ্গে প্যারাবলের পার্থক্য হলো, ফেবলে কোনো হিউম্যান বা মানবচরিত্র থাকে না কিন্তু প্যারাবলে থাকে। প্যারাবলের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো, জর্জ ওরওয়েলের ‘এনিমাল ফার্ম’। এখানে জীবজন্তুর পাশাপাশি মানুষও গল্পের চরিত্র হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। কাফকা ও বোর্হেসও বেশ কিছু প্যারাবল লিখেছেন। মহাভারত ও বাইবেল হলো প্যারাবলের আদি-উৎস। শওকত আলী গল্পের এই ঐতিহ্যগত কাঠামো স্বার্থকভাবে ব্যবহার করেছেন তার এই দুই কিশোর উপন্যাসে। কয়েকটি ছোটগল্পেও তিনি এই টেকনিক ব্যবহার করেছেন।

‘নীল পাহাড়ের গান’ উপন্যাসে জঙ্গলের প্রতিটি চরিত্রকে কথাকার মানুষের মতো স্বতন্ত্র নাম দিয়েছেন। যেমন বনের বাঘের নাম কিঙ্করী ও সংহার। বনে একজাতীয় হরিণ আছে, তাদের দলগতভাবে ‘নীল গাই’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। তাদেরও স্বতন্ত্র নাম আছে; যেমন-হিমেল, কপিল বুড়ো, পিথন, অনিক। মানুষ-চরিত্রের মধ্যে আছে চঞ্চল, মহেগব আলী ও আর্জান খানসহ আরো কয়েকজন। মানুষ এবং প্রাণীদের এই নামকরণে বিশেষ পার্থক্য নেই। যে কারণে গল্পের শুরুতেই কিঙ্করী যে মানুষ নয়, বাঘ-সেটি বুঝে নিতে একটু সময় লেগে যায়। শওকত আলী ইচ্ছে করেই এই হেয়ালিটা করেছেন। উপন্যাসের শুরুটা হয়েছে চমৎকার এক বর্ণনার ভেতর দিয়ে।

‘তখনও বনের পাতা পুরোপুরি ঝরতে আরম্ভ করেনি। সবে আয়োজন চলছে। আকাশে পেঁজা তুলোর মতো হাল্কা মেঘ ভেসে যায় পূব থেকে পশ্চিমে, উত্তরের পাহাড় থেকে শির শির শির শির করে হিমেল হাওয়া বয় মধ্যরাতে।’ খানিকবাদে- ‘কোনোদিকে কারও শব্দ নেই। কোথায় যেন বনপায়রা ডানা ঝটপট করে উঠলো একবার। একটুখানি হাওয়ায় দুললো শাল গাছের ডালপালা। চুপচাপের মাঝখানে এমনি মাঝে মাঝে একটুখানি শব্দ হলে মন্দ লাগে না। মনে হয়, চাপপাশের দুনিয়া বেঁচে আছে, নড়া-চড়া করছে…’

এভাবে বন ও প্রকৃতির যে ডিটেইল বর্ণনা দিয়েছেন কথাকার, সেখানে তিনি ছোটদের এবং বড়দের জন্য আলাদা করে ভাবেননি। সকলের জন্য সমান উপযোগী এবং সুখপাঠ্য সেই বর্ণনা। পুরো উপন্যাসজুড়েই এই ভাষাটা তিনি ব্যবহার করেছেন।

গল্পটা খুব চমকপ্রদ কিছু না। বনের মোটামুটি সাধারণ একটি গল্প। এখানে ত্রিমুখী সম্পর্ক এবং সংঘর্ষ পাই। একদিকে বাঘ, অন্যদিকে নীল গাই আর শিকারী মানুষ। বাঘ শিকার করে হরিণ, সুযোগ পেলে আত্মরক্ষার জন্যে হোক আর ক্ষুধায় হোক, ঝাঁপিয়ে পড়ে মানুষের ওপর। মানুষ শখ থেকে শিকার করে বাঘ ও হরিণ। মাঝে মাঝে বাড়ির পোষা প্রাণী শিকার করার জন্যে গাশুদ্ধ মানুষ তাড়া করে হত্যা করে বাঘকে। অন্যদিকে নীল গাই রাতের আঁধারে কৃষকের ফসল খেয়ে সাবাড় করে পালিয়ে যায়। এই হলো ত্রিমুখী সম্পর্কের সংঘর্ষের জায়গাটা। গল্পের এক পর্যায়ে হিমেল, কপিল বুড়ো, পিথন ও অনিকদের পিছু নেয় কিঙ্করী ও সংহাররা। নীল গাইয়ের রক্ত পানের নেশা তাদের পেয়ে বশে। অন্যদিক থেকে নীলগাই শিকারে বের হন আর্জান খান, জয় ও চঞ্চলের দল। জয় এবং চঞ্চল নীল গাই ধরে দেয়ার জন্যে অনুরোধ করেন পাকা শিকারি আর্জান খানের কাছে। আর্জান খানের আপত্তি তারা কানে তোলে না। বাধ্য হয়ে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে নীল গাই ধরার প্লট তৈরি করেন আর্জান খান। চরম মুহূর্তে হিমেলকে আক্রমণ করে বসে একটা বাঘ। আর্জান খান গুলি করে সেই বাঘ নিধন করে, ধরা পড়ে যায় আহত হিমেল। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা পড়ে বনের রাজা সংহার। নীল গাই হিমেলকে বাড়ি এনে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলল জয় আর চঞ্চল। কিন্তু বুনো জীব সে। তাকে আটকে রাখে কার সাধ্য! শরীরটা শক্তির জোরে বেঁধে রাখলেও মনটা বশে আনা কারো সাধ্যের মধ্যে নেই। আর্জান খান আগেই বলেছিল, নীল গাই পোষ মানা প্রাণী নয়। তার কথাই সত্যি হলো। হিমেল বন্দিঘরে মুক্তির চেষ্টায় মাথা খুটে খুটে প্রাণ দিল। হিমেলের মৃত্যুর মুহূর্তে একটা কাব্যিক আবহ তৈরি করেছেন লেখক: ‘সেদিন ছিলো জ্যোৎস্নারাত। বেড়ার ফাঁক দিয়ে বাইরেটা দেখা যাচ্ছিলো। বাইরে নজর দিতেই দেখলো, জ্যোৎস্না ডাকছে- আয়। প্রান্তর ডাকছে- আয়। দিগন্ত ডাকছে- আয়। হিমেল পাগল হয়ে উঠলো।’

মানুষকে আমরা এখানে যেমন শিকারি ও অত্যাচারী হিসেবে পাই, তেমনি দয়ালু ও সেবাপরায়ণ হিসেবেও দেখি। সবচেয়ে যেটি চোখে পড়ে সেটি হলো, মানুষের দ্বিচারি বা স্ববিরোধী স্বভাব, যেটি বনের পশুপাখির মধ্যে নেই। যেমন, আর্জান খান নামকরা শিকারী। তিনি পশুশিকারীদের সাহায্য করেন। তার হাতের নিশানা দেশখ্যাত। পশুহত্যা তার কাছে বিনোদনের বিষয়। কিন্তু পশু ধরে নিয়ে পোষ মানিয়ে রাখা তার পছন্দ না। কারণ তিনি পশুর কষ্ট সহ্য করতে পারেন না। একইভাবে, নীলগাই শিকার করে বাসায় বন্দি করে রাখে জয় ও চঞ্চল। নীল গাই যখন বন্দিজীবনে মুক্তির জন্যে মাথা খুটে চলে তখন ব্যথিত হয় তারা। একবার ভাবে ছেড়ে দেবে। আবার মৃত্যুর পর ফের নীল গাই ধরে পোষ মানানোর জন্যে জেদ করে। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় আর্জান খানকে। সামনের বছর তারা ফের ধরতে আসবে নীল গাই। গল্পটা এখানেই শেষ। পূর্বেই বলেছি, গল্পটা মোটামুটি একরৈখিক। শিশু-কিশোরদের টানতেও পারে, নাও পারে। কোথাও কোথাও পড়তে পড়তে একটু ক্লান্তি চলে আসতে পারে। সবমিলে এই গল্পে ভাষার গাঁথুনিটা ছাড়া চমকপ্রদ কিছু নেই। তবে গল্পের একটা নৈতিক অবস্থান আছে- সেটি হলো পশুশিকার বা বনের পশুকে শিকার করে বাড়িতে বন্দি করে রাখাটা যে ঠিক নয়, সেটি এই গল্পের ম্যোরাল বা নীতিকথা হিসেবে ফুটে উঠেছে।

একই ধরনের নৈতিকশিক্ষা আমরা পাই ‘টুনকো নামে হাতি’ শীর্ষক কিশোর উপন্যাসে। এখানে টুনকো নামের এক হাতিকে চিড়িয়াখানায় বন্দি করে আনা হয়। টুনকো আসবার পথে ঢাকা শহরের বড় বড় ভবন, যানবাহন দেখে বেশ বিরক্ত হলেও চিড়িয়াখানার ভেতরটা মানিয়ে নেয়। এখানে অন্তত খোলা আকাশ আর সবুজটা পায় সে। চিড়িয়াখানায় তার সবচেয়ে ভালো লাগে শিশুদের সঙ্গে খেলতে। মানিয়ে নিলেও চিড়িয়াখানাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে টুনকো তার সরল বোধ দিয়ে: ‘...ঝামেলা এই মানুষদের নিয়ে। কি যে মজা ওদের। জানোয়ার দেখার জন্যে একেবারে হত্যা দিয়ে পড়ে। লাইন ধরে আসছে তো এসেই যাচ্ছে। সারাদিন গেটের মুখে ভীড়। সে কিছুতেই বুঝতে পারে না। দেখার কি আছে বাপু, তোরা যেমন প্রাণী, আমরাও তেমনই প্রাণী। এরমধ্যে আবার দেখাদেখির আদিখ্যেতা কেন।’

চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা একটি পরিবারের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে যায় টুনকোর। বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে আসা শিশু শুভর সঙ্গে। শুভর মায়ের হাতে চিনাবাদাম খায় সে। টুনকো শুভর হাতে একটি ফুলের ডাল ধরিয়ে দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। সে শুভর বাবার পকেট থেকে রুমাল বের করে সেটি নিয়ে খেলে আবার যথাস্থানে রেখে দেয়। গাছ থেকে একটা আম ছিঁড়ে শুভর মাকে উপহার দেয়। এভাবেই এই পরিবারের সঙ্গে টুনকোর সম্পর্ক জমে ওঠে। আরেকদিন শুভ তার বন্ধুসহ বাবা-মায়ের সঙ্গে আসে। সেদিন শুভর বাবা কলা নিয়ে আসে তার জন্যে। এদিন সে চিড়িয়াখানার আমগাছটির আমসমেত ডাল ভেঙে শুভকে উপহার দেয়। এতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বেজায় নাখোশ হয় শুভর পরিবার এবং টুনকোর প্রতি। চিড়িয়াখানার বড়কর্তা শুভর বাবাকে চিড়িয়াখানায় আসতে বারণ করে দেন। তাদের প্রশ্রয়ে টুনকো বিগড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলে সে। সেইদিনের পর টুনকোকে কড়া নজরে রাখা হয়। তাকে যেদিকে রাখা হয়েছে সেদিকে শিশুদের আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়। টুনকো দর্শনার্থীদের ভেতর শুভদের খোঁজে, কিন্তু প্রতিদিনই না পেয়ে হতাশ হয়।

একদিন ঝুম বৃষ্টি হলো। বৃষ্টিদিনে টুনকো তার ফেলে আসা শৈশব, বাবা-মায়ের কথা মনে করে বিষণ্ন হয়ে পড়লো। এই জগতে তার ভীষণ একা মনে হলো নিজেকে। তার হঠাৎ মনে হলো, চিড়িয়াখানার বাইরে থেকে কে যেন ডাকছে তাকে- আয় আয়, আয় আয়!

কী যেন মনে করে সে তার ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লো। চিড়িয়াখানার সাদামাটা ঘেরা ভেঙে বাইরে চলে আসে। এবার সে কোথায় যায়? খানিক ভাবার পর শুভর কথা মনে হলো টুনকোর। শুভকে ধারে কাছে না পেয়ে সেদিন সে আবার চিড়িয়াখানায় ফিরে আসে। এভাবে প্রতিরাতে মহল্লার মহল্লায় ঘোরা শুরু করে সে। কেউ হাতি দেখেছে, কেউ ভূত দেখেছে, কেউ আজব প্রাণী দেখেছে বলে রব ওঠে বাড়ি বাড়ি। সারাদেশ হয় ঘটনাটা। খবরের কাগজে বের হয়: ‘অদ্ভুত জন্তুর আবির্ভাব। গত কদিন ধরিয়া মীরপুর অঞ্চলে এক প্রকাণ্ড প্রাণীর আবির্ভাব ঘটিয়াছে। প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, প্রাণীটি রাত্রিকালেই বিচরণ করে- রঙ অতিশয় কালো। নিমেষে আবির্ভূত হয় আবার নিমেষেই অন্ধকারে মিলাইয়া যায়। কেহ কেহ ব্যাপারটা ভৌতিক বলিয়া সন্দেহ প্রকাশ করিয়াছেন। পুলিশ এ ব্যাপারে কিছুই জানাইতে সক্ষম হয় নাই। গোটা এলাকায় ইতিমধ্যে ত্রাসের সঞ্চার হইয়াছে।’

কারো ধারণা হলো, এটা ভূতের কাণ্ড। কেউ মনে করল, ভিনগ্রহের জীব চলে এসেছে এদেশে। এক লেখক এই ঘটনা নিয়ে দুটো কল্পকাহিনি লিখে ফেললেন। এভাবে মাঝরাতে হাতির চলাফেরা নিয়ে যে কাণ্ডকারখানা হতে লাগল তার মধ্যে একটা গূঢ় বক্তব্য লুকিয়ে আছে। কথাসাহিত্যিক শওকত আলী এ পর্যায়ে এসে আর কেবল শিশুদের জন্য ভাবেননি, তিনি সমাজের প্রচলিত অসঙ্গতির দিকে অঙুলি দেখিয়েছেন তার স্বভাবজাত সিরিয়াসনেস দিয়ে।

এই গল্পে শিশুদের ভালো লাগার বিষয় হলো, হাতির মতো প্রকাণ্ড প্রাণীর সঙ্গে শিশুর বন্ধুত্ব। হাতি টুনকো তার হারানো বন্ধু শুভকে ফিরে পেতে যে আকুলতা প্রকাশ করেছে, তা সত্যিই শিশুদের ভেতর আনন্দ ও প্রাণিপ্রীতির সঞ্চার করবে। শেষদিকে এসে টুনকো তার বন্ধু শুভর দেখা পায়। একটা সুখকর সমাপ্তির দিকে গল্পটা এগোয়। লেখক টীকা আকারে বলে দেন, টুনকো তখনো চিড়িয়াখানাতে আছে। সবচেয়ে ছোট গড়নের হাতিটাই সে। এ থেকে শিশু-কিশোর পাঠকরা চিড়িয়াখানায় গেলে নিশ্চয় একটা হাতিকে টুনকো ভেবে তার সঙ্গে ভাব করতে চাইবে। এভাবেই শিশুদের মাঝে প্রাণিভীতি কমিয়ে সেটিকে ভালোবাসায় দাঁড় করান লেখক।

‘তিন বন্ধু ও প্রাচীন রাজবাড়ি’ শীর্ষক গোয়েন্দা উপন্যাসটি সাসপেন্স আর থ্রিলে ভরা। তিনবন্ধু মিলে সম্পত্তি পুণরূদ্ধারের অভিযানে নামে। উপন্যাসে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হওয়ার দশা হয়। এই উপন্যাসে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনামলে ফকির বিদ্রোহ, জমিদার সংস্কৃতি ও সর্বোপরি সেই সময়ের ইতিহাসের এক আলোকচ্ছটা উঠে এসেছে। শওকত আলী গল্পের প্লটবিন্যাসে মুন্সিয়ানার স্বাক্ষর রেখেছেন। তবে কাহিনি ও ধারাবর্ণনা কোথাও কোথাও এতটা জটিল রূপ নিয়েছে যে, সেটি আর শিশু-কিশোর উপযোগী থাকেনি। গল্পে প্রায়শই মনোযোগ হারিয়ে যায়। এই গল্প পড়তে হলে একটু সমঝদার পাঠক হওয়া চাই।

‘ডাক’ ছোটগল্পের চরিত্র এক বিলের পানকৌড়িরা। পানকৌড়িদের বড় ছেলের নাম প্রবাল। ভীষণ ডানপিটে স্বভাবের প্রবাল হঠাৎ করেই যেন দমে যায়, নীভে যায় তার সকল উচ্ছ্বাসভরা কর্মকাণ্ড। সে কারো জন্যে যেন অপেক্ষা করে। এরই মধ্যে সে একদিন বুড়নকে নিয়ে চলে যায় গ্রামের পুকুরে চাষের মাছ খেতে। রোজ রোজ একমাছ খেতে তার ভালো লাগে না। বুড়োন এমন খাওয়া খায় যে আর উড়তে পারে না। ফিরে এলে পানকৌড়িদের সর্দার কালকেতু খুব করে বকে দেয় প্রবালকে, ওভাবে বিল ছেড়ে উড়ে যাওয়ার জন্যে। পানকৌড়িরা বাইরের দুনিয়া সম্পর্কে জানতে চায় না। তারা একবিলেই কাটিয়ে দিতে চাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম। দলের ভবিতব্য সর্দার প্রবালের এই জীবন ভালো লাগে না। সে নতুন জীবনের সন্ধানে যেতে চায়। তার স্বপ্ন দুনিয়ে ঘুরে দেখার। সেই স্বপ্নের সারথি হতে চায় ছোট্ট পানকৌড়ি মেয়ে হিমানী। প্রবাল সর্দার হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে বিল থেকে দূর দেশের সমুদ্রের স্বপ্ন দেখে। সে অপেক্ষা করে শীতকালীন পরিযায়ী পাখিদের। তারা এলেই তাদের পেছন পেছন উড়ে যাবে সে। একদিন সখা আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা আক্রমণ করে বসে প্রবাল আর হিমানীর ওপর। সখা প্রবালকে খুন করে ভবিষ্যতের সর্দার হতে চায়। মুখোমুখি যুদ্ধে মারা পড়ে ছোট্ট মেয়ে হিমানী। প্রবালের হাতে প্রাণ হারায় সখাও। পরদিন সকালে যাযাবর পাখিদের উড়ে যেতে দেখে- ‘প্রবালের ডানার মধ্যে কী যেন কেঁপে গেলো সেই মুহূর্তে। ডানা ঝাপটে উঠলো সজোরে। তার বিশাল কালো ডানা দুটোর ঘায়ে বিলের পানি ঝিকমিক করে উঠলো সকালের রোদ লেগে। ডানা দুটো মেলে পায়ে পানি কেটে লাফিয়ে উঠলো শূন্যে। তারপর আপনা থেকেই যেন ভোরের ঠান্ডা হাওয়ার মুখে সে ভেসে যেতে লাগলো। ডানায় শব্দ হতে লাগলো সাঁই-সাঁই, সাঁই-সাঁই।

প্রবাল কোথায় যাস? প্রবাল যাস না।-মা বললো।

প্রবাল, ফিরে আয়, যাস না।-বললো বন্ধুজনেরা।

প্রবাল, যাস না, একাকী জীবনে বাঁচা যায় না। তুই আমাদের ছেড়ে যাস না।

সবাই বললো; কিন্তু প্রবাল ফিরে তাকালো না। দূরে ক্রমশই মিলিয়ে যেতে লাগলো।’

এভাবেই এক কাব্যিক ব্যঞ্জনার ভেতর দিয়ে গল্পটি শেষ হয়। প্রবালের মধ্যে দিয়ে স্বপ্নবিলাসী, নতুন পথের সন্ধানী, আবিষ্কার-মনা, সৃজনশীল শিশুদের মনে অনুপ্রেরণা দিতে চেয়েছেন কথাকার। জীবন কত বৈচিত্র্যময়, সম্ভাবনাময়, সেটি জানার মধ্যে যে সুখ, সে সুখ তো আর কোথাও নেই। প্রবাল এই সত্য বুঝতে পেরেছিল বলেই তাকে আটকে রাখা যায়নি। প্রবালদের আটকে রাখা যায় না বলেই পৃথিবী এখনো গতিশীল।

‘তিন পাহাড়ের হরিণ’ গল্পে প্রবালের মতোই এক কিশোর নায়ককে আমরা পাই। নাম চিত্রল। বনজুড়ে তখন খরা। জল ও বৃষ্টির ছিটেফোটাও নেই। এক পাথুরে স্থানে আটকে পড়েছে হরিণের ছোট্ট দলটি। এখানে থাকলেই পানির অভাবে মৃত্যু। আবার বের হলেই ঘাড় মটকে ধরবে বনের রাজা কালরাজ। তার ছোবল থেকে রক্ষা পেলে আছে দুপেয়েদের দল। ফলে এখান থেকে বের হওয়ার সাহস হয় না কারো। একমাত্র চিত্রল ও তার দুজন তরুণসঙ্গী ভয়কে জয় করে সকলের বারণ সত্বেও জলের সন্ধানে বের হয়। তাদের ফিরতে দেরি হলে হরিণসর্দার চিত্রলের ওপর রাগ দেখায়। কালরাজের হাতে মারা পড়েছে ভেবে মা শিউরে ওঠে। শিশুরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে- ‘তাদের তীর বেগে ছোটার কায়দা কে শেখাবে?... আর কে বলবে, জ্যোৎস্নালোকিত হ্রদের গল্প? পাঁচ-পাহাড়ের চূড়োয় যেখানে রূপোর মতো বরফ ঝলমল করে সেখান থেকে কেমন করে ঝর্ণাধারা বয়ে আসে, কোথায় যেন সমুদ্র আছে, শুধু নীল পানি আর তার বুকে পাহাড়ের মতো ঢেউ অনবরত দুলছে। কে শোনাবে তাদের এসব কথা?’ শেষপর্যন্ত সব শঙ্কা দূর করে চিত্রল ও তার সঙ্গীরা ফিরে আসে। তারা খবর নিয়ে আসে দূর দেশের, যেখানে পানি আর সবুজ ঘাসে খেলা করছে প্রকৃতি। সবুজ আর সবুজ। অনেক দূরে সে দেশ। সকালে রওনা হলে সন্ধ্যে হয়ে যাবে পৌঁছাতে পৌঁছাতে। কালরাজের ভয়ে বুড়োরা বেরোনের সাহস পায় না। চিত্রল বলে, ‘আসলে ভয়টা আমাদের নিজেদের ভেতরে। আজ আমরা তিনজন একসঙ্গে ছিলাম। গায়ে গায়ে লেগে ছিলাম সর্বক্ষণ, কালরাজ হামলা করতে এসেও পারেনি। ... আমরা যদি একসঙ্গে থাকি, একজোট হয়ে মুখোমুখি দাঁড়াই, তাহলে কেউ আমাদের ওপর হামলা করতে সাহস পাবে না।’

চিত্রল যর্থাথই বলে। কালরাজ দেখে তাকে দেখামাত্র কয়েকটি হরিণ না পালিয়ে পাশাপাশি শিং খাড়া করে দাঁড়িয়ে পড়েছে। কোনোদিন এমনটি হয়নি। কালরাজ দমে যায়। আর আক্রমণের সাহস পায় না। তবে বনের রাজা কালরাজ একেবারে দমে যাওয়ার পাত্র না। সে তার রাগ আর ক্ষুধাকে আরও দ্বিগুণ করে চিত্রলদের ওপর হামলা করে বসে। চিত্রলও সেয়ানা বুদ্ধির। সে পাথরের ফাঁদে ফেলে কালরাজকে। একটা হরিণছানাকে বাঁচাতে নিজের জীবন ঝুঁকি নিয়ে চিত্রল কালরাজকে ধাক্বা দিয়ে পাহাড় থেকে ফেলে দিতে যায়- চিত্রক-কালরাজ দুজনেই পড়ে যায় খাদে, যে খাদ থেকে কোনোদিন কেউ ফিরে আসেনি। চিত্রলের দুই বন্ধু পথ চিনিয়ে সবুজের দেশে নিয়ে যায় হরিণদের। গল্পের নায়ক চিত্রলের ট্র্যাজিক পরিণতি তার প্রতি ভালোবাসাকে আরো বাড়িয়ে তোলে। শিশুদের ভালোবাসার নায়কে পরিণত হয় চিত্রল। পরিণত হয় আদর্শে।   

‘সার্কাসের জনি সাহেব’ গল্পটি বেদনার। গল্পে মফস্বল শহরে সার্কাস দল আসা এবং একদল তরুণের সেটি দেখতে যাওয়া নিয়ে যে বর্ণনা, তা আমাদের নস্টালজিক করে তোলে। সার্কাসের ঐতিহ্য গ্রামবাংলা থেকে উঠে গেছে প্রায়। গল্পটি পাঠ থেকে এখনকার শিশুরা সার্কাস-সংস্কৃতি সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানতে পারবে। গল্পটি মূলত জনি সাহেবকে নিয়ে। জনি সাহেব সার্কাসের পুরনো লোক। ট্রেইনার হিসেবে নিযুক্ত আছেন। বয়সের ভার বেড়েছে, ধার কমেছে তার খেলা দেখানোর পারদর্শীতায়। সার্কাসে এখন তরুণীদের কদর বেশি। গল্পকথক কিশোর ও তার সঙ্গীদের সঙ্গে জনি সাহেবের ভাব জমে ওঠে। তাদের অনুরোধে জনি সাহেব ফের সার্কাসের মঞ্চে ওঠেন। কিন্তু দর্শকরা জনি সাহেবকে গ্রহণ করে না, সার্কাসের সিংহ ব্রিজ বাহাদুরও জনি সাহেবের নির্দেশনা পালন করলো না। অপমানে মাথা নিচু করে মঞ্চ ছাড়লেন তিনি। এই দিনের পর থেকে গল্পকথক আর তার বন্ধুরা জনি সাহেবের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস পায়নি। শেষ পর্যন্ত জনি সাহেবের জন্যে আমাদের মনটা বিষিয়ে ওঠে।

‘মরহুম ভাইয়ের কাহিনী’ও ‘বিশ্বখ্যাত মামা’ শিরোনামের গল্প দুটি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি মজার। প্রথম গল্পে মহরম ভাই গ্রামে আসে গাঁয়ের জঙ্গলে বাঘ শিকার করতে। সে নিজের নাম বদলে রেখেছে মরহুম। গ্রাম ও গ্রামের মানুষকে সে কথায় কথায় কটাক্ষ করে। জঙ্গলে ছাগলের বাচ্চাকে ভেট হিসেবে ব্যবহার করে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে গাছের আড়ালে অপেক্ষা করতে থাকে মহরম ওরফে মরহুম ভাই। সঙ্গের লোকজনদের সাহস নিয়ে প্রশ্ন তোলে বারবার। আর নিজে শেয়াল দেখে ভয়ে গাছে উঠে কাঁপতে থাকে। গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার সময় উল্টো ঝাড়ি দিয়ে গল্পকথককে বলে যায়: ‘তোদের কোনো উন্নতি নেই, সত্যি। বাঘ নেই তোদের জঙ্গলে শুধু শেয়াল, ছোঃ- আগে জানলে কে আসতো?’ দ্বিতীয় গল্পে গোপালের মামা মোটামুটি সবজান্তা। কেবলই কি সবজান্তা? বিশাল ব্যক্তিত্ব তিনি- দেশে বিদেশে রাজা বাদশাদের সঙ্গে তার খাতির। দেশে দেশে কাটিয়ে দেন বছরের পর বছর। বন্ধুরা কোনো কিছু বললেই, গোপাল বলে যে সে আগে থেকেই সব জানে, মামা বলেছেন। কোনো ঘটনা সদ্য ঘটলেও ওত আগে গোপালের মামা গোপালকে কিভাবে বলল, সেটি নিয়ে আর কেউ ভাবে না। বন্ধুরা অপেক্ষা করে গোপালের পণ্ডিত বিশ্বখ্যাত মামা কবে গাঁয়ে আসে সেই দিনটির। একদিন ঠিকই আসে। স্টেশনে নেমেই বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ডিনার করার গালগল্প করে তিনি হাত ঘড়ি কানে ধরে হ্যালো হ্যালো করতে থাকলেন। মামার আচরণে গোপাল থ মেরে গেলো। ‘মামা পাগল হয়ে গেছে গো’ বলে চেঁচিয়ে উঠলো সে।

এভাবেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক শওকত আলী তাঁর সমগ্র শিশুসাহিত্যে শিশুদের সৃজনশীলতা ও শিশুদের চিন্তাভাবনার একটা স্পেস দিয়েছেন। তিনি মোটা দাগে কোনোকিছু চিহ্নিত করে ছেড়ে দেননি। এটা সকলেরই জানা যে, শিশুরা উপদেশ পেতে পছন্দ করে না। যে শিশুসাহিত্য উপদেশ-প্রধান, শিশুরা তা এড়িয়ে যেতে চায়। শিশুরা চায় পড়তে পড়তে গল্পের চরিত্র বনে যেতে। সেটি সম্ভব হলে তারা পাঠের মজাটা পায়। শওকত আলীর সব গল্পে না হলেও বেশিরভাগ গল্পে শিশুদের জন্য সেই সুযোগটা আছে। গল্পটাকে তিনি বিনোদন এবং শিক্ষামূলক বার্তার মাঝামাঝি একটা স্থানে ছেড়ে দেন। ফলে শিশুরা পড়তে পড়তে যেমন পুলকিত ও উচ্ছ্বসিত হবে, তেমন শিক্ষা ও মানবিকতায় উজ্জীবিত ও সমৃদ্ধ হবে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ জানুয়ারি ২০১৮/তারা

Walton Laptop
 
   
Walton AC