ঢাকা, সোমবার, ৬ ভাদ্র ১৪২৪, ২১ আগস্ট ২০১৭
Risingbd
শোকাবহ অগাস্ট
সর্বশেষ:

রংপুরে বন্যায় ৮০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

নজরুল মৃধা : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-১৩ ৪:৫৯:২১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৮-১৩ ৪:৫৯:২১ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর : রংপুরে তিন দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তিন উপজেলার ১০০টি চরে বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলা তিনটি হলো- কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া ও পীরগাছা। বন্যায় প্রায় ৮০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ভেঙে গেছে রাস্তাঘাট, তলিয়ে গেছে আমন ধান ও মাছের খামার। তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। যেকোনো সময় অতিক্রম করতে পারে।

এদিকে জেলা ত্রাণ অফিস জানিয়েছে, তাদের ত্রাণ ভাণ্ডার শূন্য। নগদ ২০ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিন টন চাল চেয়ে ফ্যাক্সবার্তা পাঠানো হয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কাউনিয়া উপজেলার চর চতুরা, চর নাজিরদহ, পল্লীমারী, চর গদাই, পাঞ্জরভাঙ্গা, গুপিডাঙ্গা, আরাজি হরিশ্বর, প্রাননাথচর, চর ঢুসমারা, হয়বত খাঁ, চর গনাই, টাপুর চর, বিশ্বনাথ চর, আজম খাঁ, হরিচরন শর্মা, রাজিব অংশ ৪, নিজপাড়া ও তালুকশাহবাজ গ্রামে তিস্তা নদীর পানি ঢুকে বন্যা কবলিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।



সেই সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের রাস্তা ঘাট ভেঙে গেছে, তলিয়ে গেছে আমন ধান, বীজতলা, সবজিখেত, নার্সারি, মাছের খামার ও পুকুর। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। সেই সঙ্গে গোখাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বন্যা কবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো ত্রাণ সামগ্রি পৌঁছায়নি।

উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমুর রহমান জানান, উপজেলায় এই পর্যন্ত ৪০ হাজার হেক্টর আমন ধান ও ১০ হেক্টর বীজতলা তলিয়ে গেছে।সেই সঙ্গে কিছু কিছু নার্সারি ও সবজিখেত তলিয়ে গেছে। যে হারে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে আরো ২০ হাজার হেক্টর ধানখেত তলিয়ে যেতে পারে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহাবুব উল আলম জানান, টানাবৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জলবদ্ধতায় উপজেলার শতাধিক ছোট বড় মাছের খামার ও দুই শতাধিক পুকুর তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে খামারের মাছ।

টেপামধুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ইতিমধ্যে চরাঞ্চলসহ বেশ কিছু গ্রামে বন্যা দেখা দিয়েছে এবং ৫০০০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অল্প কিছু শুকনা খাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ থেকে কোনো বরাদ্দ হয়নি।

বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, ইউনিয়নের আটটি গ্রামে বন্যা দেখা দিয়েছে। ঢুসমারা চরে সবকটি পরিবার পানির নিচে এবং ইউনিয়নের প্রায় ৩০০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

রংপুর জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ত্রাণ দেওয়ার মত ভাণ্ডারে কিছু নেই।  নগদ ২০ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চালের চাহিদা দিয়ে ফ্যাক্সবার্তা পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। এখনো তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।



রাইজিংবিডি/রংপুর/১৩ আগস্ট ২০১৭/নজরুল মৃধা/রুহুল

Walton Laptop