ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ কার্তিক ১৪২৪, ২৪ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

শৃঙ্খলায় রোহিঙ্গারা, অনুপ্রবেশেও ভাটা

সুজাউদ্দিন রুবেল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-১৯ ৩:১৭:০২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-১৮ ৩:৫০:৪৭ পিএম

সুজাউদ্দিন রুবেল, কক্সবাজার : রাস্তার পাশে, বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সরকার নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিবন্ধনের প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ক্রমাগত শৃঙ্খলার আওতায় নিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। একই সঙ্গে ত্রাণ তৎপরতা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট স্থাপনসহ অন্যান্য শৃঙ্খলাও রক্ষা করা হচ্ছে।

এদিকে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশেও ভাটা পড়েছে। রোহিঙ্গাস্রোত আগের মতো নেই। এ ভাটা পড়ার কারণ হিসেবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরের কোনো কৌশল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানিয়েছেন, আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একত্র করতে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং থেকে বালুখালী এলাকা পর্যন্ত দু’ হাজার একর পাহাড়ি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব রোহিঙ্গাকে ওখানে একত্রে রাখার কাজ শুরু হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের সূত্র মতে, রোহিঙ্গাদের একত্র করতে ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ কাজ করছে। সোমবার রাস্তার পাশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের নির্ধারিত স্থানে চলে যেতে মাইকিং করার পাশাপাশি শরণার্থীদের নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যেতেও দেখা যায়। সোমবার প্রথম দিনে কুতুপালং ক্যাম্পের রাস্তার পূর্ব পাশের রোহিঙ্গা বস্তি সরিয়ে নেওয়াও সম্ভব হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের রোহিঙ্গা সেলের প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) খালেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, নতুন রোহিঙ্গাদের জন্য শেড নির্ধারণ, রাস্তা তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। সেনাবাহিনী, বিজিবির সহায়তায় এসব কাজ করা হচ্ছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সব রোহিঙ্গাকে নির্ধারিত স্থানে কয়েকদিনের মধ্যে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

খালেদ মাহমুদ আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার জরিপ অনযায়ী এরই মধ্যে সীমান্তের এপারে আশ্রয় নিয়েছে অন্তত ৪ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে জরুরিভিত্তিতে মানবিক সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে সরকার। চাহিদার চেয়ে অপ্রতুল হলেও মানবিক সংকট ও বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের কাজও নিয়মের মধ্যে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানান উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈন উদ্দিন। তিনি জানান, ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে ত্রাণ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করার পাশাপাশি সাতটি বিতরণ কেন্দ্র করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের বাইরে কেউ আর ত্রাণ বিতরণ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরেজমিনে ত্রাণ তৎপরতায় কিছু শৃঙ্খলাও লক্ষ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট স্থাপনের কাজও দেখা গেছে।

এ দিকে ২৫ আগস্ট থেকে যে হারে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ হয়েছে তাতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। সীমান্তের টেকনাফ, উখিয়া এবং নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্ত দিয়ে ব্যাপকহারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ হলেও তা আগের চেয়ে কমে এসেছে। এর কারণ হিসেবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কিছু তৎপরতার কথা বলেছেন রোহিঙ্গারা।

আলাপকালে মিয়ানমারের মংডু শহরের সোজাপাড়া, ঢলিয়া পাড়া, ডেইল পাড়া ও ঘোনার পাড়ার কয়েকজন জানান, সেনাবাহিনীর লোকজন রোহিঙ্গা গ্রামসমূহ ঘিরে রেখেছে। তাদের কোথাও বের হতে দিচ্ছে না। আবার কোনো প্রকার নির্যাতনও করছে না। তাদের বলা হচ্ছে, তাদের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী কাজ করছে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। দেশ ছেড়ে যেন কোথাও পালিয়ে না যায়।

এটাকে একটি কৌশল বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মী মো. নুর খান। তিনি জানান, মিয়ানমার সম্ভবত বিদেশি পর্যবেক্ষক  প্রবেশ করতে দেবে। তাদের এসব গ্রাম দেখিয়ে বলবে সেখানে রোহিঙ্গা মুসলিমরা নিরাপদে আছে। তারপর এসব গ্রামেও নির্যাতন-হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারে মিয়ানমার। তখন আবারো নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করছেন তিনি।

 

 

রাইজিংবিডি/কক্সবাজার/১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭/সুজাউদ্দিন রুবেল/টিপু

Walton