ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ কার্তিক ১৪২৪, ২৪ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

খুলনার ১১৬ চালকলে ধান সংকট

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-২৪ ৫:৫১:২৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-২৪ ৭:১৯:০৫ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা : খুলনা জেলার ১১৬টি চালকলে গত এক সপ্তাহ ধরে গড়ে ৭৫ শতাংশ ধান সংকট দেখা দিয়েছে।

জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মুহা. মোস্তফা কামাল এ প্রতিবেদককে জানান, চাহিদা অনুযায়ী রূপসা, ফুলতলা, বটিয়াঘাটা ও লবণচরার চালকলগুলোতে ধানের সরবরাহ তুলনামূলক কম। তার মালিকানাধীন আরাফাত অটো রাইস মিলে প্রতিদিন ২০০০ মণ ধানের চাহিদা থাকলেও ৫০০ মণের বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। এ অঞ্চলের গৃহস্থের ঘরে উল্লেখযোগ্য মজুদ নেই। তারপরও সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে চালের দাম কেজিপ্রতি দুই টাকা করে কমানো হয়েছে।

তিনি বলেন, হীরা জাতের ধান এক সপ্তাহ আগে মণপ্রতি ১ হাজার ৯০ টাকা হলেও শুক্রবার ১ হাজার ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ অঞ্চলে আতপ চালের চাহিদা বেশি। সেই কারণে স্বল্প সময়ের মধ্যে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। স্থানীয় বাজারের সংকট মেটাতে আমদানিকারকরা বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি করছেন।

বটিয়াঘাটা উপজেলার কৈয়া বাজারের ফড়িয়া শেখ রওশন আলী জানান, রাণি সেলুট জাতের ধান গত সপ্তাহে মণপ্রতি ১৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বুধবারের হাটে ১৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ইরি-২৮ জাতের ধান মণপ্রতি ১২৫০ টাকার স্থলে ১২২০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

একই উপজেলার জয়খালী গ্রামের চাষি কালিদাস মল্লিক জানান, পূজার কেনাকাটার কারণে শনিবার যোগান একটু বেশি ছিল। কৃষকের ঘরে চাহিদা অনুযায়ী ধানের মজুদ নেই। আগামী সপ্তাহ নাগাদ এ অঞ্চলের হাটে ধানের সংকট দেখা দেবে।

বটিয়াঘাটা উপজেলার বিরাট, বারোআড়িয়া, সুকদাড়া, ঝালবাড়ি, কাতিয়ানাংলা হাটে চালের পর্যান্ত যোগান নেই। গাওঘরা এলাকার অটো রাইস মিলে প্রতিদিন ৫০০ বস্তা ধান ভাঙানো হচ্ছে। এখানে ইরি চাল ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আগস্টের প্রথম দিকে প্রতি কেজির মূল্য ছিল ৪৭ টাকা।

স্থানীয় সূত্র জানান, ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে ২৯টি রাইস মিলে প্রতিদিন গড়ে ২০০ মণ করে ধান ভাঙানো হচ্ছে। চাহিদা অনেক বেশি। স্থানীয় বাজারে চালের সংকট নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না। খুচরা ব্যবসায়ী দেবাস চন্দ্র রায় জানান, শনিবার প্রতিকেজি মোটা চাল ৪৩ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।  

এ বছর জেলায় ৫০ হাজার ৬০০ হেক্টর বোরো ধানের আবাদে ২ লাখ ২০ হাজার ১৮৬ মেট্টিকটন ধান উৎপাদন হয়। ২০১৫ সালে ৫১ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয় ২ লাখ ১৬ হাজার মেট্টিকটন ধান।



রাইজিংবিডি/খুলনা/২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭/মুহাম্মদ নূরুজ্জামান/বকুল

Walton