ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

আজ ‘নোয়াখালী মুক্ত দিবস’

মাওলা সুজন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১২-০৭ ১০:২৭:৪৯ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-০৭ ১০:২৭:৪৯ এএম

নোয়াখালী প্রতিনিধি : আজ সাত ডিসেম্বর ‘নোয়াখালী মুক্ত দিবস’। ১৯৭১’র ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছিল অবিভক্ত নোয়াখালী।

এদিন প্রত্যুষে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা বিএলএফ প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত, ডেপুটি কমান্ডার মমিন উল্যাহ্ এবং সি জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোশারেফ হোসেনের নেতৃত্বে জেলা শহর মাইজদী আক্রমণ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। একযোগে তারা তিনটি রাজাকার ক্যাম্প দখল করেন। আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানিদের এদেশীয় দালাল রাজাকারেরা। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধের মুখে অবস্থা বেগতিক দেখে নোয়াখালী পিটিআইয়ের ট্রেনিং সেন্টার থেকে তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যায় পাকিস্তানি সেনারা।

নতুন প্রজন্মের কাছে ৭ ডিসেম্বরের স্মৃতিকে পরিচয় করিয়ে দিতে ১৯৯৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর তৎকালীন পাকবাহিনীর ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী পিটিআইয়ের সম্মুখে স্থাপন করা হয় স্মরণিক স্তম্ভ “মুক্ত নোয়াখালী”। পরবর্তীতে একই স্থানে বর্ধিত পরিসরে নোয়াখালী মুক্তমঞ্চ স্থাপন করা হয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাত্রিতে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর পুলিশ ও ইপিআর ফেরৎ জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মুক্তিকামী ছাত্রজনতা। ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত নোয়াখালী ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে। পরবর্তীতে পাকবাহিনীর হামলার মুখে মুক্তিযোদ্ধারা টিকতে না পেরে পিছু হটলে নোয়াখালীর নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্তানি সেনারা। নোয়াখালী পিটিআই ও বেগমগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি গড়ে তোলে তারা। তাদের সঙ্গে এদেশীয় রাজাকারেরা মিলে শুরু করে লুটপাট।

এরই মধ্যে নোয়াখালীর অসংখ্য ছাত্রজনতা প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারত থেকে এসে যুদ্ধে যোগ দেন। কোম্পানীগঞ্জের বামনীর যুদ্ধ, বেগমগঞ্জের বগাদিয়াসহ অসংখ্য যুদ্ধ হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে। শহীদ হন শত শত মুক্তিযোদ্ধা। শুধুমাত্র নোয়াখালী পৌরসভার সোনাপুরের শ্রীপুরে পাকবাহিনীরা হত্যা করেছিল শতাধিক দেশপ্রেমিক মুক্তিকামী জনতাকে।

এ ছাড়া বেগমগঞ্জের চৌরাস্তায়, একই উপজেলার গোপালপুর ও সেনবাগেও গণহত্যায় লিপ্ত ছিল পাকিস্তানিরা। এখনো এসব স্থানে গণকবরগুলো রয়েছে। ডিসেম্বরের শুরুতেই নোয়াখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলের দখল নিতে থাকেন মুক্তিযোদ্ধারা। ৬ ডিসেম্বর দেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা বেগমগঞ্জ মুক্ত করেন মুক্তিযোদ্ধারা। আর ৭ ডিসেম্বর মুক্ত হয় নোয়াখালী জেলা।

মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বাদল জানান, দিবসটি উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার মুক্তমঞ্চ থেকে দুপুর ২টায় বিজয় শোভাযাত্রা, একই স্থানে পরবর্তী জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নোয়াখালী মুক্ত দিবস উদযাপন পরিষদ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নোয়াখালী-৪ (সদর-সূবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক মাহবুবুল আলম তালুকদার, পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র সহিদ উল্যাহ্ খাঁন সোহেল।




রাইজিংবিডি/নোয়াখালী/৭ ডিসেম্বর ২০১৭/মাওলা সুজন/এসএন

Walton
 
   
Marcel