ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ ফাল্গুন ১৪২৪, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
Risingbd
অমর একুশে
সর্বশেষ:

‘১৪ কার্যদিবসে এমন রায় ইতিহাসে বিরল’

শাহরিয়ার সিফাত : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০২-১২ ৪:৪৩:৪২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০২-১৯ ৩:৩৭:৩১ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল : হত্যাকাণ্ডের পর ১৭৩ আর মামলার পর ১৭১ দিন। এর মধ্যে মাত্র ১৪ কার্যদিবস শুনানির পর চাঞ্চল্যকর কোনো মামলার রায় এবারই প্রথম। এমন রায় ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে।

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ঢাকার আইডিয়াল ল’ কলেজের শেষবর্ষের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ের পর এমনই দাবি করেন মামলা-সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

রাইজিংবিডিকে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান খান আজাদ বলেন, দেশের আইনের ইতিহাসে এত স্বল্পসময়ে মাত্র ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে এই মামলার রায় ঘোষণা হলো। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে এই মামলা স্থানান্তর হওয়ার পর সাক্ষীপর্যায়ে সাত কার্যদিবসে এই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলো। এর আগে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এত দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্য কোনো মামলার রায় ঘোষণা হয়নি। আমাদের জানা মতে, দেশের বিচার ব্যবস্থাতেও চাঞ্চল্যকর কোনো মামলার রায় এত দ্রুততম সময়ে হয়নি। আমরা আশা করি, এই রায়ের মধ্যে দিয়ে দেশে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা অনেক কমে আসবে।



তবে রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি আসামি পক্ষ। তাদের আইনজীরীরা বলছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।

মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল রাইজিংবিডিকে বলেন, নিম্ন আদালতের এই রায়ে আমরা আসামি পক্ষ খুব ক্ষুব্ধ। রাষ্ট্রপক্ষ যেসব সাক্ষ্যপ্রমাণ আদালতে উত্থাপিত করেছে, সেই জায়গায় মামলাটি প্রমাণিত হয়নি। আমরা দ্রুত উচ্চ আদালতে যাব। আশা করি উচ্চ আদালতে আমরা ন্যায়বিচার পাব। রূপা হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ যে আলামতগুলো আদালতে জমা দিয়েছে, তাতে রূপা ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এই আসামিরা বিজ্ঞ আদালত থেকে ন্যায়বিচার বঞ্চিত হয়েছে। আমরা আশা করি উচ্চ আদালতে অবশ্যই আসামিপক্ষ ন্যায়বিচার পাবে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নাছিমুল আক্তার নাসিম। তার সহায়তায় রয়েছেন মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবী এস আকবর খান, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এমএ করিম মিয়া।



এদিকে আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল ও ঢাকা থেকে আসেন অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পরে ২৬ আগস্ট টাঙ্গাইলের মধুপুর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে ২৯ নভেম্বর মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। গত ৩ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৯ কার্যদিবসে আদালতে চলে সাক্ষ্যগ্রহণ। পরে গত ২৮ জানুয়ারি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। এরপর ৩১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি মোট তিন কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর আজ ১২ ফেব্রুয়ারি আদালতের বিচারক ৭৩ পৃষ্ঠার এই রায় পড়ে শোনান।



রাইজিংবিডি/টাঙ্গাইল/১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/শাহরিয়ার সিফাত/মুশফিক

Walton
 
   
Marcel