ঢাকা, রবিবার, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

কেসিসি নির্বাচন : ভাঙচুর, জালভোট, ২ কেন্দ্র স্থগিত

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১৫ ৪:৩৩:৩৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-১৫ ৫:৪০:১৩ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা : জালভোট দেওয়ার পর খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩০নং ওয়ার্ডে দুটি ভোটকেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এগুলো হলো- রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র।

এর আগে একই ঘটনায় ২৪নং ওয়ার্ডের সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং ২২নং ওয়ার্ডের ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি বুথে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী জানান, কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বেলা ১২টার দিকে ওই কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করে দিয়েছেন।

জালভোট দেওয়ার অভিযোগে নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতেমা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বন্ধ ঘোষণা করেন প্রিজাইডিং অফিসার জিয়াউল হক।

আরও অন্তত ৫টি কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙচুর ও গোলযোগের খবর পাওয়া গেছে।

খুলনার ২৪নং ওয়ার্ডের ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পোলিং এজেন্টদের বের করে ভোট দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সকাল ৮টায় ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে এ সিটি করপোরেশনের ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোট শুরু হয়। এর ঘণ্টাখানেক পর ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের ব্যালট পেপার সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

লাইনে অপেক্ষায় থাকা এক ভোটার বলেন, আমাদের বলা হচ্ছে ব্যালট পেপার নেই। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। দেখি কতক্ষণ লাগে!

ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষের লোকজন ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা।

এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ভোটগ্রহণ বন্ধ কেন জানতে চাইলে প্রিজাইডিং অফিসার খলিলুর রহমান বলেন, ব্যালট পেপার দিতে দেরি হচ্ছে। এখন দিচ্ছি।

তিন ঘণ্টায় ২০ শতাংশ ভোট বাক্সে পড়েছে বলে ধারণা দিলেও তখন পর্যন্ত ব্যালটের কয়টি মুড়ি শেষ হয়েছে- সে প্রশ্নে স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি প্রিজাইডিং অফিসার।

কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে ব্যালট নেই। প্রিজাইডিং অফিসার সরবরাহ করলে দেব।

ভেতরে যখন এই পরিস্থিতি, কেন্দ্রের বাইরে তখন বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙচুরও করা হয়।

এ ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী শমসের আলী মিন্টু বলেন, যুবলীগ নেতা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে, আওয়ামী লীগ নেতা এস এম কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে এই ভাঙচুর হয়। পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে। বিজিবিও দেখা গেছে, তারা কিছু করেনি।

এ বিষয়ে খুলনার সহকারী পুলিশ কমিশনার আল বেরুনী বলেন, ‘আমরা খোঁজ করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

জালভোটের অভিযোগ ওঠার ঘণ্টাখানেক পর প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষ বন্ধ পাওয়ায় সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের বাকবিতণ্ডা হয়।

পুলিশের উপস্থিতিতে কেন্দ্রের ভেতরে বিএনপির কর্মীরা হট্টগোল করে। কাছেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা যায়।

১১টার দিকে সোনাপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে বিএনপির নির্বচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়।

স্থানীয় যুবদল নেতা আবুল বাশার ও বিএনপিপন্থি আইনজীবী নেতা অ্যাডেভোকেট আক্তার জাহান রুকু অভিযোগ করেন, স্থানীয় যুবলীগ নেতা জাকিরের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন এসে কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পে চেয়ার ভাঙচুর করে এবং কর্মীদের গালাগাল করে।

দরুল উলুম মাদ্রাসার সামনে, আবদুল গণি বিদ্যালয় কেন্দ্রের কাছে এবং নিরালা আবাসিক এলাকায় আরও কয়েকটি কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি প্রার্থীর ক্যাম্পে ক্ষমতাসীনরা ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাশার।

খুলনা সিটি নির্বাচনে ইসির পর্যবেক্ষক  দলের প্রধান সমন্বয়কারী ইসির যুগ্ম সচিব আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আমি অন্তত ২০টি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। সেখানে কেউ অভিযোগ স্বীকার করছে না। কিন্তু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার তথ্য গণমাধ্যম ও নানা সোর্সে পাচ্ছি। যেখানেই অভিযোগ পাচ্ছি, ছুটে যাচ্ছি।’

 



ভোটের তিন ঘণ্টার পরিস্থিতি জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, ভোটার উপস্থিতি রয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট দিতে অনুরোধ করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা উল্লেখযোগ্য কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ এখনও দেখেননি।

দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে বলে মন্তব্য করে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী বলেন, ‘৫/৬টি কেন্দ্রের অভিযোগ এসেছে আমাদের কাছে। আমরা এ বিষয়ে কথা বলেছি। ১১২, ১১৩, ১১৫ নম্বর কেন্দ্রে এবং অন্য কেন্দ্রেও লোক পাঠিয়েছি। ইতোমধ্যে সে সমস্যাগুলোর সমাধান হয়েছে।’

২৬ ওয়ার্ডের বানিয়াখামার কেন্দ্রে ভোটারদের ভোট দিতে না দেওয়া অভিযোগ পাওয়া গেছে।

৩০নং ওয়ার্ডের রূপসা স্কুল কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট সেলিম কাজীকে মারধর করা হয়। এছাড়া নগরীর বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভাঙচুর করা হয়েছে ৩১নং ওয়ার্ডের হাজী আব্দুল মালেক ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সামনের নির্বাচনী ক্যাম্পও ভাঙচুর করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে মহানগরীর জিলা স্কুল কেন্দ্রে আলী আকবরকে মারধর করে আ’লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বিকুর সমর্থকরা। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কাউন্সিলর প্রার্থী মাহবুব কায়সার বলেন, আমার এজেন্ড আলী আকবর সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে জিলা স্কুল কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে আ’লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বিকুর লোকজন তাকে মারধর করে। কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি। তাকে উদ্ধার করে খুলনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে, ২২নং ওয়ার্ডের আ’লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বিকুর ছোট ভাই কাজী বেলায়েত হোসেন নতুন বাজার হাজী আবু হানিফ কেরাতুল কুরআন নূরানী মাদরাসা কেন্দ্রে ধানের শীষের কোনো এজেন্ট ঢুকতে দেননি। খুলনা জিলা স্কুল কেন্দ্রের ৮টি বুথেও ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ধানের শীষের কোনো এজেন্ট ঢুকতে দেননি। তবে, এ কেন্দ্রের ৬নং বুথে ধানের শীষের এজেন্ট সিরাজুল ইসলাম লিটন মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর উপস্থিতিতে সকাল ১০টায় কেন্দ্রে ঢুকতে সক্ষম হন।

লিটন অভিযোগ করেন, তিনি সকাল সাড়ে ৭টায় কেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করলে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন তাকে বাধা দেয়। এ কারণে তিনি ঢুকতে পারেননি।

অপরদিকে, খালিশপুর ১১নং ওয়ার্ডের জামিয়াহ ত্বৈয়্যেবাহ নূরানী তালিমুল কোরআন মাদরাসা কেন্দ্র থেকে সহোদর সিরাজকে কুপিয়ে এবং আলমকে মারধর করা হয়। তাদের খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া এ ওয়ার্ডে জামিয়া ইসলামিয়া আশরাফুল উলুম বয়স্ক মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী জামান মোল্লা জেলিনের এজেন্ট আসাদ ও হাবিবকে সকালেই কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এদিকে, জালভোট দেওয়ার অভিযোগে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বন্ধ ঘোষণা করেন প্রিজাইডিং অফিসার জিয়াউল হক। এছাড়া দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ৩১নং ওয়ার্ড কার্যালয় কেন্দ্রেও জাল ভোটের অভিযোগে ভোট গ্রহণ বন্ধ করেন প্রিসাইডিং অফিসার আলী হোসেন।

এর আগে সকাল ৮টা থেকে ২৮৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নিজ নিজ কেন্দ্রে শুরুতেই ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা)  ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ)।কেসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টি মনোনীত শফিকুর রহমান মুশফিক (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাত পাখা) ও সিপিবি মনোনীত মো. মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)।



রাইজিংবিডি/খুলনা/১৫ মে ২০১৮/মুহাম্মদ নূরুজ্জামান/মুশফিক

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC