ঢাকা, শনিবার, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

এবার হাঁড়িভাঙা আমের বিক্রি ২০০ কোটি টাকা ছাড়াবে

নজরুল মৃধা : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২৪ ১২:২৭:০২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-২৪ ১:৫২:০৩ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:  রংপুরের মিঠাপুকুর পীরগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলার আম চাষিদের উৎপাদিত হাঁড়িভাঙা আমের বিক্রি এবার ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে  যাবে।

'হাঁড়িভাঙ্গা' আমটির আকার-আকৃতি-ধরন একেবারেই আলাদা। এ আমটি শুধুমাত্রই রংপুরের। রংপুরের বাইরে কোথাও এই আমের চাষাবাদ-ফলন খুব একটা লক্ষ্য করা যায়না এখন পর্যন্ত। রংপুরের এই আম অবশ্য ধীরে ধীরে দেশব্যাপী পরিচিত হয়ে উঠছে। 'হাঁড়ি ভাঙ্গা' আম রংপুরের ঐতিহ্য, রংপুরের অহংকার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, রংপুরের তিন উপজেলায় এবার প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে আম চাষ হয়েছে, যার বাজার মূল্য ২০০ কোটি টাকার ওপর।

‘ভাঙ্গা হাঁড়িতে’ পত্তন হয়েছিল বলেই নাম হয়েছে ‘হাঁড়িভাঙা’। এই হাঁড়িভাঙা আমের প্রাণ জুড়ানো ঘ্রাণ এখন রংপুরের বাজারে। সুমিষ্ট হাঁড়িভাঙা আম কিনতে প্রতিদিনই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সৌখিন মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন রংপুরের বাজারে বাজারে।

হাঁড়িভাঙা আম জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত পাওয়া যায়। হাঁড়িভাঙা আম দেখতে সাধারণত কিছুটা লম্বাটেসহ গোলাকৃতির এবং কালচে সবুজ রংয়ের। পাকলে কিছুটা লালচে রং ধারণ করে। প্রতিটি আমের ওজন দুইশ’ থেকে চারশ’ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। পুষ্ট ও পাকা হাঁড়িভাঙার শাঁস থেকে টক-মিষ্টি ঘ্রাণ পাওয়া যায়। পাকা আম মাঝারি মাত্রার তীব্র সুগন্ধ ছড়ায়। গোলাকার আমটি বেশ মিষ্টি। নিচের দিকের তুলনায় বোঁটার দিকে কিছুটা মোটা। নিচের দিকে যেখানে ভাঁজ থাকে, সে স্থানটি অন্য আমের তুলনায় একটু উঁচু। এ জায়গাটিই হাঁড়িভাঙা আমকে অন্য আম থেকে পৃথক করেছে। কাঁচা অবস্থায় এ আমের রং সবুজ, পুষ্ট হলে কিছুটা সাদাটে হয়। পাকা অবস্থায় বোঁটার কাছাকাছি জায়গাটা বেশ হলুদ হয়। ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে হালকা হলুদ হতে থাকে। শাঁস আঁশবিহীন, পুরু এবং আঁটি বেশ পাতলা।

বলা যায়, এই আম বাজারে আসার সাথে সাথে পাল্টে গেছে এই এলাকার অর্থনীতি। এই আমের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বেশ কিছু কৃষি ভিত্তিক শিল্পপতি এসব এলাকায় উচ্চমূল্যে জমি কিনে ‘হাড়িভাঙ্গা’ আমের বাগান করছেন।

রাজশাহী অঞ্চলের আম বাগানিরা রংপুর থেকে ‘হাড়িভাঙ্গা’ আমের চারা নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ওই এলাকায় চাষের চেষ্টা চালাচ্ছেন। রাজশাহীর দু’এক জায়গায় হাড়িভাঙ্গার ফলন হলেও রংপুরের সেই হাড়িভাঙ্গার মতো স্বাদ ও গন্ধ নেই।

রংপুর জেলার পদাগঞ্জ ও বদরগঞ্জের স্টেশন বাজার এ অঞ্চলের সবচাইতে হাঁড়িভাঙা আমের বড় পাইকারী হাট। এই হাট থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাক ভরে নিয়ে যাচ্ছে হাঁড়িভাঙা আম। রংপুরের ফলের আড়ত ছাড়াও টার্মিনালের পশ্চিম কোনে পদাগঞ্জের আম ফড়িয়াদের নিজস্ব উদ্যোগে বসেছে হাঁড়িভাঙার মিনি হাট, সেখান থেকেও পাইকাররা আম নিয়ে যাচ্ছেন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে।

পদাগঞ্জে গেলে চেখে পড়বে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শুধু হাঁড়িভাঙা আমের বাগান।  যেদিকে দু’চোখ যায়, শুধু বাগান আর বাগান। এমন কোন  বাড়ির আঙিনা, উঠান কিংবা ফসলি জমি নেই যেখানে আমের গাছ রোপণ করেননি। এ অঞ্চলের কুতুবপুর, খোড়াগাছ পাইকারের হাট,পদাগঞ্জ, কদমতলী, পীরের হাট, তালপুকুর, মাঠের হাট, আখড়ের হাট ছাড়াও সমস্ত এলাকা জুড়ে হচ্ছে আমের চাষ। একানকার মাটি আম চাষের সম্পূর্ণ উপযোগী হওয়ায় ওই এলাকার চাষিরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে আমবাগানে সবচেয়ে মনোযোগী হয়ে উঠছেন।

পদাগঞ্জের আনসার বকশী জানান, তিনি আমের বাগান করেছেন ৮একর জমিতে। গতবছর তিনি বাজারে প্রথম আম বিক্রি করেন। ওই বছর তার বাগানের আম বিক্রি হয়েছে দু লাখ টাকায়। এবারে তিনি আড়াই লাখ টাকায় বাগানের আম বিক্রি করেছেন।

জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত বাগান মালিক সালাম সরকার  কয়েকটি বাগানের আম বিক্রি করেছেন  কয়েক লাখ টাকায়। বড় আমবাগানের মালিকদের মধ্যে  খোড়াগাছ পাইকার হাটের নওশাদ হাজি তার ভাই শওকত হাজি, বাবুল মিয়া ও আনছার হাজি অন্যতম। তাদের প্রত্যেকের আমবাগানের বিক্রি লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। মৌসুমে আম বিক্রি করে এখানকার হাজার হাজার আম চাষি তাদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ মেজবাহুল ইসলাম জানান, সারাদেশে হাঁড়িভাঙা আমের বিস্তার ঘটেছে। হাঁড়িভাঙা আমে রোগবালাই কম হয়। চারা লাগানোর বছর পরই গাছে মুকুল আসে। আর ৫/৬বছর বয়সে গাছে পুরোদমে আম আসতে শুরু করে। এছাড়া বোঁটা শক্ত হওয়ায় গাছ থেকে তা অকালে ঝরে যায়না।




রাইজিংবিডি/রংপুর/২৪ জুন ২০১৮/নজরুল মৃধা/টিপু

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC