ঢাকা, বুধবার, ১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ জুলাই ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগ

শাহেদ হোসেন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-১২-০৯ ৭:০২:৩৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১২-০৯ ৭:০২:৩৩ পিএম
মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগ
Voice Control HD Smart LED

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিদেশি শ্রমিক নির্যাতনকারী মালয়েশীয় কারখানার তৈরি হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করছে ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এনএইচএস। এই কারখানাগুলোতে কর্মরত অধিকাংশ শ্রমিক বাংলাদেশ ও নেপালের। শ্রমিকদের কারখানাতে জোরপূর্বক শ্রমদান, বাধ্যতামূলক ওভারটাইম, ঋণের জালে আটকানো, বেতন বকেয়া রাখা এবং পাসপোর্ট জব্দ করে রাখার মতো কাজ করা হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান রোববার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়ে অন্তত পক্ষে দুটি মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠান এনএইচএসে রাবার গ্লাভস সরবরাহ করে। টপ গ্লাভ ও ডব্লিউআরপি নামের ওই দুই প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার বাংলাদেশি ও নেপালি শ্রমিক কাজ করে যাদেরকে শোষনমূলক পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাবার গ্লাভস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টপ গ্লাভ মালয়েশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। আর ৪০টি কারখানা ও সহযোগী উৎপাদনকারী নিয়ে কাজ করা ডব্লিউআরপি বিভিন্ন ব্রান্ডের জন্য গ্লাভস উৎপাদন করে এবং এনএইচএসে গ্লাভস সরবরাহ করে। এনএইচএসের হাসপাতাল ও যুক্তরাজ্যের ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা সামগ্রী বিক্রির ৪০ শতাংশ শেয়ার আছে প্রতিষ্ঠানটির।

গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে টপ গ্লাভের ১৬ শ্রমিক এবং ডব্লিউআরপির তিন শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশের ও আটজন নেপালের।

শ্রমিকরা জানিয়েছে, কারখানাতে তারা মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তাদেরকে সপ্তাহ সাতদিনই কমপক্ষে ১২ ঘন্টা করে কাজ করতে হয়। পুরো মাসে কেবল একদিন তারা ছুটি হিসেবে পান। তাদের পরিহিত শার্টে টপ গ্লাভের লোগো রয়েছে যেখানে লেখা-‘সৎ থাকুন  এবং কোনো প্রতারণা নয়।’

১৬ শ্রমিকের প্রত্যেকেই অভিযোগ করেছেন, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান তাদের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে এবং অনুরোধ সত্ত্বেও তারা পাসপোর্ট ফেরত পাননি।

টপ গ্লাভে শ্রমিকদের বেতন রশিদে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে শ্রমিকদের মূল বেতন এক হাজার রিঙ্গিত (মালয়েশীয় মুদ্র)। অথচ মালয়েশিয়ায় মধ্যম মানের মজুরি দুই হাজার ১৬০ রিঙ্গিত। চুক্তিতে উল্লেখ থাকার পরও কেবল রোববার কাজ করায় তাদের দ্বিগুন ওভারটাইম দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও অনেক বেশি। কিছু শ্রমিক অভিযোগ করেছে তাদেরকে প্রতিদিন ১৫ হাজার গ্লাভস মোড়কজাত করতে হয়। আরেক শ্রমিক অভিযোগ করেছে, বিগত বছরের তুলনায় তার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪০০ শতাংশ বেড়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না করতে পারলে বেতন কাটা হয় বলেও অভিযোগ করেছে শ্রমিকরা।

শ্রমিক নির্যাতনের একই চিত্র দেখা গেছে, ডব্লিউআরপিতে। অতিরিক্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠাটিতে বেতন আটকে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদেরকে কারখানার ভেতরে আটকে রাখা হয়। কেবল রোববার তারা বাইরে যাওয়ার সুযোগ পায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেপালি শ্রমিক বলেছেন, ‘তিন মাস হয়ে গেছে আমাদের বেতন দেওয়া হয়নি; এটা বেশ কঠিন। আমার পরিবারের অর্থের প্রয়োজন কিন্তু আমি তাদের কাছে অর্থ পাঠাতে পারছি না। আমার কারখানা কোথায় তারা জানতে চাইছে।’

এক সম্ভাব্য ক্রেতা ডব্লিউআরপির কারখানা ঘুরে আসার পর বলেছেন, কারখানার ভেতরে প্রবেশের পর সেখানকার পরিবেশ দেখে তিনি মর্মাহত হয়েছেন।  এতো বাজে কর্মপরিবেশ তিনি কোথাও দেখেননি। কারখানার ভেতরে তাপমাত্র ৭০ সেন্টিগ্রেড এবং এক হাজার ৮০০ শ্রমিক ধারণক্ষম হোস্টেলে রাখা হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি শ্রমিককে।

টপ গ্লাভ ও ডব্লিউআরপি উভয় প্রতিষ্ঠানই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অতিরিক্ত কর্মঘন্টার কথা স্বীকার করলেও অন্যান্য অভিগোগের প্রসঙ্গে টপ গ্লাভ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে,‘আমরা আপনাদের নিশ্চিত করছে সমস্ত অভিযোগের কোনো অস্তিত্বই নেই এবং আমাদের সুনাম নষ্ট করতে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।’

ডব্লিউআরপির প্রধান নির্বাহী লি সন হং এক বিবৃতিতে সব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। তার দাবি, ‘সপ্তাহে একদিন বিশ্রাম ব্যতীত কোনো শ্রমিককে কখনোই ১২ ঘন্টা কাজ করতে বাধ্য করা হয়নি।’

বেতন বকেয়া রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘মজুরি আটকে রাখা এবং তিন মাসে একবার মজুরি দেওয়ার অভিযোগে আমরা হতভম্ভ, যেখানে মালয়েশিয়ান চাকরি বিধি অনুযায়ী আমরা প্রতি মাসে বেতন দিচ্ছি।’



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ ডিসেম্বর ২০১৮/শাহেদ

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge