ঢাকা, সোমবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৬, ২৪ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সৌম্য এখন আরো পরিণত, অনেক ভয়ংকর

আবু হোসেন পরাগ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-২৪ ৯:০৩:৫৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-২৪ ৩:৩৫:১১ পিএম
Walton AC 10% Discount

ওদের হাতে বিশ্বকাপ মশাল। ওদের কাছে ১৬ কোটির প্রত্যাশা। ওরাই স্বপ্নের ধারক। ওরা বাংলার টাইগার। ওরা বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্নসারথি। ওদেরই একজন সৌম্য সরকার।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ খেলোয়াড়কে নিয়ে প্রতিদিন লেখা প্রকাশ করছে রাইজিংবিডি’র ক্রীড়া বিভাগ। আজ পড়ুন সৌম্য সরকারের গল্প, লিখেছেন আবু হোসেন পরাগ।

৪ জানুয়ারি ২০১৫। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগের শেষ দিনে মুখোমুখি আবাহনী লিমিটেড ও প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। আবাহনীকে ১৬০ রানে গুটিয়ে দিয়ে প্রাইম ব্যাংক ম্যাচ জিতল ৯ উইকেট আর ১৩৫ বল হাতে রেখে। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে সমান ৭টি করে চার-ছক্কায় সৌম্য সরকার খেললেন ৯১ বলে ৯৭ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। প্রাইম ব্যাংক জিতল লিগ শিরোপা। সৌম্য জিতলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। মিরপুরের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে সৌম্যর জন্য অপেক্ষা করছিল আরো একটি পুরস্কার। সেদিনই যে বাঁহাতি ওপেনারকে রেখে ঘোষণা করা হয় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল!
 


সৌম্যর বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে বড় ভূমিকা ছিল সেই প্রিমিয়ার লিগের পারফরম্যান্স। প্রাইম ব্যাংককে শিরোপা জেতাতে ১৫ ম্যাচে চার ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরিতে করেছিলেন দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬১৫ রান। তাতে খুলে যায় বিশ্বকাপের দরজা।

মাত্র একটি ওয়ানডের অভিজ্ঞতা নিয়ে খেলতে গিয়েছিলেন বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে। ৬ ম্যাচে ২৯.১৬ গড়ে একটি ফিফটিতে করেছিলেন ১৭৫ রান। অসাধারণ কোনো পারফরম্যান্স নয় মোটেই। তবে ২০১৫ বিশ্বকাপে সৌম্য ভালোভাবেই জানান দিতে পেরেছিলেন নিজের আগমনী বার্তা।

বড় ইনিংসের জন্য বেশিদিন অবশ্য অপেক্ষাও করতে হয়নি তাকে। বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের প্রথম সিরিজেই পেয়ে যান তার প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। মিরপুরে তার ১১০ বলে খেলা অপরাজিত ১২৭ রানের ইনিংসের দিনে পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ।
 


সৌম্য ফর্মটা টেনে নেন ঘরের মাঠে পরের দুই সিরিজেও। প্রথমে ভারতকে সিরিজ হারাতে তিন ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ১২৮ রান। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে তার ৮৮ ও ৯০ রানের দারুণ দুটি ইনিংস। প্রোটিয়াদের কাছে প্রথম ম্যাচ হারের পরও বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের নায়ক তো সৌম্যই।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতেও সৌম্যর সময় লাগেনি খুব বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজটার পরই তার নিজেকে হারিয়ে খোঁজা শুরু। এরপর শুরু হয় দলে আসা-যাওয়ার মিছিল। ইংল্যান্ডে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেন মাত্র একটিতে। ফলাফল, ২০১৮ সালের শুরুতে ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজ, এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও দলে জায়গা হয়নি।

সৌম্যর ওয়ানডে ক্যারিয়ার
 

ইনিংস

রান

গড়

স্ট্রাইক রেট

সর্বোচ্চ

১০০

৫০

৪৩

১৪৬৭

৩৬.৬৭

৯৯.৯৩

১২৭*

১০


এশিয়া কাপের মাঝপথে ইমরুল কায়েসের সঙ্গে তাকে যখন আরব আমিরাতে উড়িয়ে নেওয়া হলো, তখন ঘরোয়া ক্রিকেটেও সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। এশিয়া কাপে দুই ম্যাচ খেলে বলার মতো কিছু করতে পারেননি। পরে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে সুযোগ পেয়ে করেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। এরপর আবার ভাটার টান সৌম্যর ব্যাটে।
 


এ বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ড সফরে ভালো শুরুর পরও তিন ম্যাচের কোনোটাতেই ইনিংস বড় করতে পারেননি। নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরেই প্রিমিয়ার লিগে খেলা শুরু করেছিলেন। কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারছিলেন না এখানেও। প্রথম ১১ ম্যাচে সেঞ্চুরি দূরে থাক, ছিল না কোনো ফিফটিও। তবে শেষ দুই ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি ও একটি ডাবল সেঞ্চুরি করে ইঙ্গিত দেন রানে ফেরার। সেই ডাবল সেঞ্চুরি আবার লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম!

এরপর আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা তিন ফিফটি করে সৌম্য জানিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপের জন্য তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত। তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে টানা তিন ফিফটি এটিই প্রথম। প্রতিটা ম্যাচেই নিজের সহজাত পুল আর কাট শটে সৌম্য ছিলেন সাবলীল। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বাংলাদেশ যে প্রথম কোনো ফাইনাল জিতল, তাতে বড় অবদান তো সৌম্যরই। ফাইনালে ২৪ ওভারে ২১০ রানের লক্ষ্যে সৌম্যর ২৭ বলের ফিফটিই গড়ে দিয়েছিল জয়ের ভিত।
 


একটা আক্ষেপ অবশ্য সৌম্যর থাকার কথা। ত্রিদেশীয় সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন ওপেনার মিলে সেঞ্চুরি করেছেন চারটি। দুটি সেঞ্চুরি এসেছে আগেই ছিটকে পড়া আইরিশ ব্যাটসম্যানদের থেকেও। সেখানে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের সেঞ্চুরি নেই একটিও। তিন ফিফটির অন্তত একটিকেও সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করতে না পারায় সৌম্যর নিজেরই হয়তো আক্ষেপ হচ্ছে বেশি। কে জানে, আক্ষেপটা হয়তো বিশ্বকাপেই দূর করবেন!

এই বিশ্বকাপে তামিম ইকবালের উদ্বোধনী সঙ্গী হওয়ার লড়াইয়ে থাকবেন লিটন দাস ও সৌম্য। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় সৌম্যর পাল্লাই ভারী থাকবে বেশি। চার বছর আগে বিশ্বকাপ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন নিজের আগমনী বার্তা। সেই সৌম্য এখন আরো পরিণত। এবারের বিশ্বকাপটা তার জন্য বড় কিছু করে দেখানোর সবচেয়ে ভালো উপলক্ষ!




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ মে ২০১৯/পরাগ/ইয়াসিন

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge