ঢাকা, রবিবার, ১২ চৈত্র ১৪২৩, ২৬ মার্চ ২০১৭
Risingbd
মার্চ
সর্বশেষ:

আলু রপ্তানির নগদ সহায়তা বাড়ানোর সুপারিশ

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০২-১৬ ৭:০০:৫৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০২-১৬ ৭:০০:৫৭ পিএম

কেএমএ হাসনাত : আলু রপ্তানির ওপর নগদ সহায়তা ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ না কমিয়ে বরং তা ২৫ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

এর আগে আলু রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ পটেটো এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিইএ) আলু রপ্তানির ওপর নগদ সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আলু রপ্তানির ওপর সরকারের দেওয়া নগদ সহায়তা অব্যাহত রাখতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে দাবি জানিয়েছিল বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে সরকার আলু রপ্তানিতে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দিয়ে আসছে। এর ফলে আলু রপ্তানিও বাড়তে থাকে। কিন্তু গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নগদ সহায়তার পরিমাণ ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। এর ফলে রপ্তানিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে রপ্তানিকারকরা দাবি করেছে। নগদ সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার ফলে এরই মধ্যে অনেক রপ্তানিকারক এ খাত থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করেছেন।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সর্বশেষ ২০১৪-১৫ সালে বাংলাদেশ ১ লাখ ১৬ হাজার টন আলু রপ্তানি করে। ২০১৩ সাল থেকে আলু রপ্তানির বড় বাজার ছিল রাশিয়া। কিন্তু ২০১৫ সাল থেকে দেশটিতে আলু রপ্তানি স্থগিত রয়েছে। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা ল্যাবরেটরির নিবন্ধনের অভাবে চলতি বছর থেকে রপ্তানির অন্য বাজার ইন্দোনেশিয়ায়ও রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আলু রপ্তানি আয় কমে এক কোটি মার্কিন ডলারে নেমে আসে। যেখানে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ২২ লাখ ডলারেরও বেশি।

সম্প্রতি আলু রপ্তানির নগদ সহায়তা বাড়ানোর জন্য আলু রপ্তানিসংক্রান্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে উৎপাদিত আলু সংরক্ষণে বর্তমানে পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। এছাড়া হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করে যে মূল্য পাওয়া যায় তাতে কৃষক বা ব্যবসায়ীরা তেমন লাভবান হতে পারেন না। ফলে তারা আলু হিমাগারে সংরক্ষণে তেমন উৎসাহ বোধ করেন না। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে দেশীয় প্রযুক্তিতে আলু সংরক্ষণের জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলু একটি পচনশীল ফসল। আলু রপ্তানির ওপর দেওয়া নগদ সহায়তা কমানোর ফলে বেশ কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নগদ সহায়তা কমানোর ফলে দেশের বাজারে আলুর মূল্য কমে যাবে। এতে কৃষক আলুর ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবে। কৃষকের আয় কমে যাবে। ফলে কৃষক কৃষি উপরকরণ ক্রয়ে সক্ষমতা হারাবে। আলু চাষ/উৎপাদন ক্রমশ কমে যাবে। চালের ওপর চাপ বাড়বে, যার ফলে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া গ্রামীণ কর্মসংস্থান সংকুচিত হতে পারে। যা গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। আলু চাষের কিছু জমি পতিত/সাময়িক পতিত থাকতে পারে। আলু রপ্তানি থেকে তথা আয় কমে যাবে তথা বৈদেশিক মুদ্রার হার কমে যাবে। কৃষিপণ্য থেকে রপ্তানি আয়ের ২০২১ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে। বিদেশে আলু রপ্তানির বাজার সংকুচিত হতে পারে।

এর আগে আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে নগদ সহায়তা দেওয়া প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আলু রপ্তানি উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে আলু রপ্তানিকে উৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে রাশিয়ায় আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ প্রণোদনার পরিবর্তে তা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৪ নং প্রজ্ঞাপনে আলু রপ্তানির নগদ সহায়তা ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে। ফলে আলু রপ্তানিকারকরা আলু রপ্তানিতে উৎসাহ হারাবেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পটেটো এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিইএ) থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ে গত বছর ১৬ অক্টোবর আলু রপ্তানির ওপর নগদ সহায়তা বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং কৃষকরা যাতে আলুর ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত না হন সে পেরিপ্রেক্ষিতে আলুর নগদ সহায়তা ১০ থেকে ২৫ শতাংশ করার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিপিইএ সভাপতি শেখ আব্দুল কাদের বলেন, বর্তমান মৌসুমে আলু সংগ্রহের কাল সমাগত প্রায়। কিন্তু নগদ সহায়তার হার চলতি বছর ১ জুলাই থেকে অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে এর আগে আমরা আবেদন করেছিলাম। কিন্তু সে আবেদনের কোনো সাড়া এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে দেশের আলু রপ্তানিকারকরা বৈদেশিক ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং আলু রপ্তানি চুক্তি করতে অগ্রসর হতে পারছেন না। কারণ নগদ সহায়তা হার কমিয়ে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না। বাংলাদেশের আলুর বাজার থেকে বিদেশি ক্রেতাদের চলে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে আলুর বিদেশি ক্রেতারা অন্যদেশে চলে যাবে।

এ অবস্থায় আলু রপ্তানির ওপর ২০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি জনিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে তারা রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় আলু রপ্তানিতে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো দূর করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/হাসনাত/মুশফিক

Walton Laptop