ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ কার্তিক ১৪২৪, ২৪ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

৪ শর্তে এবার উৎসে করমুক্ত রোহিঙ্গাদের ত্রাণ

এম এ রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১০-০৭ ৮:২৮:৪৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-০৮ ৯:২১:৫৯ এএম

এম এ রহমান : রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তায় যেকোনো দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থার দেওয়া ত্রাণসামগ্রীতে এবার উৎসে আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সই করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। আর ওই আদেশ ৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া ও আজারবাইজান থেকে আসা ত্রাণসামগ্রীর ওপর শুল্ক ও কর মওকুফ করে পৃথক আদেশ জারি করার কথা রাইজিংবিডিকে জানিয়েছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান। ওই আদেশে চাল, খেজুর, গুঁড়া দুধ, বিস্কুট, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, কম্বল, পুরনো কাপড়, সাবান, লিকুইড হ্যান্ড সোপ ও শ্যাম্পু ইত্যাদি পণ্যে ওই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।

উৎসে আয়কর অব্যাহতি দেওয়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৯৮৪ সালের আয়কর আইনের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুরবস্থা নিরসন ও মানবিক সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের সম্মতিক্রমে বিশ্বের যেকোনো দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রদত্ত খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রীর ওপর আরোপযোগ্য উৎসে আয়কর থেকে নিম্নবর্ণিত শর্তে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।শর্তগুলো হলো- উক্ত খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বাংলাদেশে সাম্প্রতিক আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে মানবিক সহায়তা হিসেবে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

উক্ত খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী কোনোভাবেই বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার বা বিক্রয় বা হস্তান্তর বা স্থানান্তর করা যাবে না।

উক্ত খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের প্রমাণপত্র থাকতে হবে। এবং উক্ত খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ সম্পর্কিত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মাধ্যমে এনবিআরে দাখিল করতে হবে।

এর আগে সম্প্রতি বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে পাঠানো ত্রাণসামগ্রীর ওপর অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ছাড়া আরোপযোগ্য শুল্ক-করাদি কেস-টু-কেস ভিত্তিতে এনবিআর কর্তৃক মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

ওই সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল, অতি সম্প্রতি প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রবেশ করছে। তাদের অধিকাংশই সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় বাংলাদেশে এসেছে। ওই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুরবস্থা নিরসনে বিভিন্ন দেশ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে ত্রাণবাহী এয়ারক্রাফট চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণসামগ্রী যাতে নির্বিঘ্নে দেশে আসতে পারে এবং সেগুলো শরণার্থীদের হাতে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছানো যায় সেজন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হলো। যেখানে উপরে বর্ণিত শর্তগুলো জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। দেশটির সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় তারা। গত ছয় সপ্তাহে ৫ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। জাতিসংঘের দৃষ্টিতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর এ অভিযান ‘জাতিগত নিধন’। তবে মিয়ানমারের দাবি, তারা সন্ত্রাসীবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৭ অক্টোবর ২০১৭/এম এ রহমান/মুশফিক

Walton
 
   
Marcel