ঢাকা, সোমবার, ১১ আষাঢ় ১৪২৫, ২৫ জুন ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক : অর্থমন্ত্রী

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১০-১২ ৫:৪৩:২৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-১৩ ৯:১৫:২৯ এএম

বিশেষ প্রতিবেদক : বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন মেটাতে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (আইডিএ) ‘রিফিউজি ফান্ড’ নামে একটি তহবিল গঠন করেছে। এ তহবিল থেকেই অর্থ যোগান দেওয়া হবে।

বুধবার বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সম্মেলনের প্রথমদিন ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সনের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সিনিয়র তথ্য সচিব শাহেদুর রহমান জানিয়েছেন।

বিশ্ব আর্থিক খাতের এই দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ছয় দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলন শেষ হবে ১৬ অক্টোবর। সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নেতৃত্বে  প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূঁইঞা।

অর্থমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বিশ্বব্যাংকের দুই কর্মকর্তা বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। বিশ্বব্যাংকও রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা নিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে কী পরিমাণ সহায়তা তারা দেবে, তার কতটা অনুদান হবে; কতটা ঋণ হবে, না পুরোটাই ঋণ হবে তা দু’পক্ষ বসে নির্ধারণ করা হবে।

তথ্য কর্মকর্তা জানান, সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করতে খুব শিগগির বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসবেন। তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নেবেন।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের শরণার্থীদের জন্য গঠিত তহবিলের পরিমাণ ২০০ কোটি ডলার। বিশ্বব্যাংকের সদস্য যে কোনো দেশের প্রয়োজন হলে এ তহবিল থেকে তিন বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি ডলার ঋণ নিতে পারে।

বুধবার বিশ্বব্যাংকের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের সহায়তার ব্যাপারে তারা খুবই আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ এই তহবিলের কী পরিমাণ পাবে, শর্ত কী হবে সেসব বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত হবে।

বৈঠক শেষে বিশ্বব্যাংক সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়ে বাংলাদেশ যে ভূমিকা রেখেছে তার জন্য আমরা সম্মান জানাই এবং প্রশংসা করি। আমরা বাংলাদেশের সহায়তার জন্য যা করা সম্ভব তার পুরোটাই করব। আমাদের একটি রিফিউজি সহায়তা খাত আছে; সেখান থেকে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারলে আমরা সম্মানিত বোধ করব।

স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেউ যাতে সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে যৌক্তিক বিবেচনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বৈঠক শেষে বিশ্বব্যাংকের এক বিবৃতিতে বলা হয়, লাখ লাখ রোহিঙ্গার ভার সামাল দিতে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে এবং বিশ্বব্যাংক এই সংকটে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত আছে।

ওই সহায়তার পরিমাণ কী হবে তা এখনও নির্ধারণ করা না হলেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন এবং সড়ক অবকাঠামোর মতো বিষয় এর আওতায় আসতে পারে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

অ্যানেট ডিক্সনকে উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আশা করব, রোহিঙ্গারা শিগগিরই তাদের দেশে ফিরে যেতে পারবে। কিন্তু তার আগে তাদের জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশে থাকতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। এজন্য যা করা সম্ভব তার সবই আমরা করব।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ অক্টোবর ২০১৭/হাসনাত/সাইফ

Walton Laptop
 
   
Walton AC