ঢাকা, শনিবার, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৮ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফেরাতে হচ্ছে শাস্তি ও পুরস্কার

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১১-১৪ ৯:৩০:৪৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১১-১৭ ৭:৫৮:১৩ পিএম

কেএমএ হাসনাত : ‘ভালো কাজে পুরস্কার এবং মন্দ কাজে শাস্তি’ এ বিধান প্রবর্তনসহ রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দেওয়ার সুপারিশ করতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে খেলাপী ঋণের মূল কারণ ‘লোন অ্যাগেইনস্ট ট্রাস্ট রিসিপট (এলটিআর)’ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে আরো সতর্ক হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার সকালে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে ‘রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের অবস্থা পর্যালোচনা : চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায়’ শীর্ষক বৈঠক হবে।

বৈঠকে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ, ঋণ আদায় এবং নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও পদায়ন বিষয়ক মোট ২২টি সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ঋণ খেলাপী, দুর্নীতি এবং অন্যান্য কারণে সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে করণীয় নির্ধারণে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বৈঠক করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে অবস্থার উন্নয়নে বেশকিছু সুপারিশ উঠে এসেছে। বর্তমানে এসব সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছে।

বৈঠকের কার্যপত্রে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণবিষয়ক সুপারিশে বলা হয়েছে, ঋণ প্রক্রিয়াকরণ ও ঋণ অনুমোদনের বিদ্যমান পলিসি/পদ্ধতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে নিয়মিত রিভিউ করতে হবে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বোর্ড কর্তৃক অনুমোদনযোগ্য ঋণের ক্ষেত্রে শাখা থেকে প্রধান কার্যালয় পর্যন্ত স্তরগুলোর দু-একটি ধাপ কমানো যেতে পারে।

জমি বা ভূ-সম্পত্তিকে জামানত বা সহায়ক জামানত হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য জালিয়াতি প্রতিরোধে জামানত বা সহায়ক জামানতের বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নসহ একটি কেন্দ্রীয় তথ্য কোষ গঠন করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী ঋণগ্রহীতাকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল নেওয়ার জন্য ১৫০ শতাংশ জামানত দিতে হয়। রেট পরিবর্তন/সংশোধন করার বিষয়টি পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

জামানত হিসেবে জমির মূল্য নির্ধারণে অনুসরণীয় নীতিমালা/গাইডলাইন প্রণয়নের মাধ্যমে ঋণ কেসের জামানত যাচাই প্রক্রিয়া আরো উন্নত করতে হবে।

ঋণ প্রস্তাব মূল্যমানের ক্ষেত্রে জামানতের পাশাপাশি প্রকল্পের ক্যাশ ফ্লো, ক্রেডিট রিক্স গ্রেডিং ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বিষয়টি মনিটর করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

নো ইওর কাস্টমার (কেওয়াইসি) ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য বিবেচনা করা হয়। ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্বাবধানে সি-কেওয়াইসি  (সেন্ট্রাল কেওয়াইসি) এবং ই-বিএএম (ইলেক্ট্রনিক ব্যাংক এ/সি ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত তালিকভূক্ত সার্ভেয়ার/কোম্পানির মাধ্যমে ঋণ প্রস্তাবের ফিজিবিলিটি স্টাডি করার প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। ঋণ অনুমোদনের আগে অবশ্যই গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট রেটিং করার ব্যবস্থা করতে হবে।

কার্যপত্রে ঋণ আদায়বিষয়ক সুপারিশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

ঋণ বিতরণ ও আদায়ের কাজে সংশ্লিষ্টদের ভালো ঋণ বিতরণ ও মন্দ ঋণ আদায়ের জন্য প্রণোদনা প্রদান এবং মন্দ ঋণ বিতরণ ও ঋণ আদায়ে ব্যর্থতার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে বড় বড় খেলাপীদের তালিকা পত্রিকায় প্রকাশ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

ব্যাংকগুলোর ১০০ কোটি টাকার ওপরে বৃহৎ খেলাপী ঋণগ্রহীতাদের আলাদা ডেট মনিটরিংয়ের আওতায় এনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ডেট রিকভারি ম্যানজমেন্টের ব্যবস্থা করা। মামলার সংখ্যা কমানোর জন্য ঋণগ্রহীতা বা তার পক্ষে মামলা করার ক্ষেত্রে ব্যাংকের পাওনা অর্থের ৫০ শতাংশ অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে জমা প্রদানের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।

স্ব স্ব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ওই ব্যাংকের জন্য বিভিন্ন সূচকের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবেন। প্রতি তিন মাস পর পর উক্ত সূচকসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মূল্যায়ন করার ব্যবস্থা করতে হবে। উচ্চ আদালতে ব্যাংকের ঋণ সংশ্লিষ্ট মামলাসমূহ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক বেঞ্চ গঠন করার ব্যবস্থা করতে হবে। ঋণ আদায়ের জন্য ব্যাংকগুলোতে পৃথক তদারকি বিভাগ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি পরীক্ষা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়াও ব্যাংকগুলোতে নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি ও পদায়ন বিষয়ে পাঁচটি সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যবস্থাপন পরিচালক এবং সিইওদের টার্গেট দেওয়া, মূল্যায়ন করা এবং সে অনুযায়ী বোনাস, ইনসেনটিভ ইত্যাদি প্রদানসহ তাদের নিয়োগ বহাল রাখা বা নিয়োগের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করার ব্যবস্থা প্রবর্তন।

ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত পরিচালকদের দায়িত্ব-কর্তব্য বিষয়ে নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে পারে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এবং পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবেচ্য সিআইবির তথ্য যথেষ্ট নয়। বিস্তারিত তথ্য ভাণ্ডার তৈরির চলমান কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। পর্ষদ সদস্যদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন ও মনিটর করার ব্যবস্থা করা হবে। ব্যাংকগুলোর নিয়োগ পরীক্ষা (এমসিকিউ বা লিখিত পরীক্ষা) বিকেন্দ্রীকরণ কার যেতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভাগীয় অফিসের তত্ত্বাবধানে বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়েছে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ নভেম্বর ২০১৭/হাসনাত/রফিক

Walton
 
   
Marcel