ঢাকা, শনিবার, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:
লক্ষ্য ইউরোপের বাজার

জার্মানির চিলভেন্টা আন্তর্জাতিক মেলায় ওয়ালটন

মিলটন আহমেদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১০-২০ ২:৫০:০৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-২১ ৫:৪৭:৫৯ পিএম
চিলভেন্টা ফেয়ারের উদ্বোধনী দিনে ওয়ালটন স্টলে আসেন জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ এবং কমার্শিয়াল কাউন্সিলর ড. মাসুম আহমেদ। তাদের স্বাগত জানান ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার এবং কম্প্রেসরের সিইও আশরাফুল আম্বিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের বাজারে শীর্ষস্থান অর্জনের পর ওয়ালটনের লক্ষ্য বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের ২০টিরও বেশি দেশে পণ্য রপ্তানি করছে ওয়ালটন।

এবার টার্গেট ইউরোপে বাংলাদেশি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ। এ লক্ষ্য অর্জনে নেয়া হয়েছে ব্যাপক পরিকল্পনা। জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে স্থাপন করা হয়েছে ওয়ালটনের অফিস। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বাণিজ্যমেলায় অংশ নিচ্ছে ওয়ালটন। এবার ইউরোপের বাজার টার্গেট করে জার্মানির চিলভেন্টা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় অংশ নিেেয়ছে ওয়ালটন।

গত ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর জার্মানির নূরেমবার্গ এক্সিবিশন সেন্টারে চিলভেন্টা ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় রেফ্রিজারেটর, কম্প্রেসর, এসি অ্যান্ড ভেন্টিলেশন এবং হিট পাম্পস উৎপাদনকারী বিশ্বের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করেছে।

২০০৮ সালে প্রথম চিলভেন্টা ফেয়ার হয়। প্রতি দুই বছর পর পর আন্তর্জাতিক এই মেলা বসে। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ মেলায় অংশ নিয়েছিল বিশ্বের ৯৮১টি প্রতিষ্ঠান। চিলভেন্টার ইতিহাসে এবারই প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে অংশ নিয়েছে ওয়ালটন।

এ মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ৬৩ শতাংশই ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে আসেন। বাকি ইউরোপ থেকে আসেন ১৭ শতাংশ। এছাড়া, ১৫ শতাংশ আসেন অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া এবং আফ্রিকা থেকে। আমেরিকা থেকে আসেন ছয় শতাংশ। মেলায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান নতুন ব্যবসায়িক ক্ষেত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়।

ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানান, চিলভেন্টা ফেয়ারের সাত নম্বর হলে ছিলো ওয়ালটনের স্টল। যেখানে প্রদর্শিত হয় বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর, কম্প্রেসর, এয়ার কন্ডিশনারসহ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সলিউশনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। যার মধ্যে রয়েছে রেফ্রিজারেটরের ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ, ফিন টাইপ ইভাপোরেটর, ওয়্যার টাইপ ইভাপোরেটর, ফিল্টার ড্রায়ার, অ্যাকুমিলেটর, এমএস টিউব, ডোর সুইচ, এলইডি লাইট, পাওয়ার কর্ড, প্যাকেজিং আইটেম, কম্প্রেসরের কাস্টিং কমপোনেন্টস, এসির পিসিবি বোর্ড, ব্লোয়ার, ফ্যান ব্লেড, রিমোর্ট এবং স্ক্রু ইত্যাদি।

চিলভেন্টা ফেয়ারে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা ওয়ালটন স্টল পরিদর্শন করেন। উদ্বোধনী দিনে ওয়ালটন স্টলে আসেন জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ এবং কমার্শিয়াল কাউন্সিলর ড. সৈয়দ মাসুম আহমেদ চৌধুরী। তারা উচ্চমানের প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে ওয়ালটনের সাহসী উদ্যেগের প্রশংসা করেন। তারা ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের ওয়ালটনকে স্বাগত জানান।
 

চিলভেন্টা ফেয়ারে ওয়ালটন স্টলে বাংলাদেশে তৈরি রেফ্রিজারেটর, কম্প্রেসর এবং এসির যন্ত্রাংশ দেখছেন ব্যবসায়ীরা


ওয়ালটন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের প্রধান (উন্নত দেশ) আবদুর রউফ জানান, ইউরোপের বাজারে রেফ্রিজারেশন ও এয়ারকন্ডিশনারের যন্ত্রাংশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কারণ ইউরোপের বেশিরভাগ কোম্পানি নিজেরা কোনো যন্ত্রাংশ তৈরি করে না; বিভিন্ন দেশ থেকে যন্ত্রাংশ কিনে সংযোজন করে। যার ফলে ইউরোপে রেফ্রিজারেটর এবং এসির যন্ত্রাংশের বড় বাজার উন্মুক্ত রয়েছে। আর এই বাজার ধরতেই চিলভেন্টা ফেয়ারে অংশ নেয় ওয়ালটন।

তিনি আরো জানান, ওয়ালটন এখন বিভিন্ন পণ্যের কাঁচামাল এবং কেমিক্যাল তৈরি করছে। গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটনের রয়েছে নিজস্ব কম্প্রেসর কারখানা। সেখানে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব কম্প্রেসর। দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কম্প্রেসরের কাস্টিং পার্টস এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ তৈরির যন্ত্রাংশ রপ্তানি করছে ওয়ালটন।

ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার এবং কম্প্রেসরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আম্বিয়া জানান, ওয়ালটনের তৈরি কম্প্রেসরের যন্ত্রাংশ শতভাগ ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি। কারখানায় ইউরোপীয় প্রযুক্তি ও মেশিনারিজ ব্যবহৃত হচ্ছে। যার ফলে ইউরোপে ওয়ালটনের তৈরি কম্প্রেসর এবং এর যন্ত্রাংশের ব্যাপক সম্ভাবনাময় বাজার রয়েছে। ওই বাজার টার্গেট করে ব্যাপক বিপণন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে স্থাপন করা হয়েছে ওয়ালটনের নিজস্ব অফিস। যেখানে বাংলাদেশ থেকে তরুণ মেধাবী প্রকৌশলী এবং বিপণন কর্মীসহ ইউরোপীয় নাগরিকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক বিপণন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে যুক্তরাজ্য, চীন এবং থাইল্যান্ডেও অফিস স্থাপন করেছে বাংলাদেশি এই প্রতিষ্ঠান।

ওয়ালটনের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম বলেন, ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও যন্ত্রাংশে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ একটি স্বপ্ন ছিল। ওয়ালটন সেই স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি ওয়ালটন পণ্য ও এর যন্ত্রাংশ। যার ফলে ব্র্যান্ডিং হচ্ছে বাংলাদেশের। আসছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। এখন লক্ষ্য আমেরিকা, ইউরোপের মতো উন্নত বিশ্বে বাংলাদেশে তৈরি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ। চিলভেন্টা ফেয়ারে ওয়ালটনের অংশগ্রহণ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদী। তার মতে, বিশ্বের ইলেকট্রনিক্স পণ্যের হাব বা কেন্দ্র হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২০ অক্টোবর ২০১৮/মিলটন আহমেদ/এনএ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC