ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬, ২৭ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ইবিতে ৩ দিনের বৈশাখী মেলা শুরু

শাহাব উদ্দীন ওয়াসিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৪-১৪ ৯:২৮:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৪-১৪ ৯:২৮:২৭ পিএম
Walton AC 10% Discount

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা : নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। নববর্ষের দিন রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পহেলা বৈশাখ-১৪২৬ উদযাপন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারীর নেতৃত্বে সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়। এ সময় প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. সেলিম তোহা, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নাসিম বানু, সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

শোভাযাত্রায় প্লাকার্ড, বেলুন, ফেস্টুন, নব দম্পতি, ঘোড়ার গাড়ি, গরু-মহিষের গাড়ি, স্বাধীনতা যুদ্ধের সাহসী সৈনিক, কৃষক, শ্রমিক, জেলে, জমিদার, জল্লাদ, ঘটক, বাউল, ফকিরসহ নানা পেশাজীবী মানুষের সাজে শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। 

মঙ্গল শোভাযাত্রা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মেলা প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানস্থল বাংলামঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় মেলা প্রাঙ্গনে ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী তিন দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন।

বাংলামঞ্চে বৈশাখী মেলা-১৪২৬ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. রেজওয়ানুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈশাখী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে ভিসি ড. রাশিদ আসকারী উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. সেলিম তোহা বলেন, ‘‘বাঙালি সব সময় সংস্কৃতির শিকড়ের সন্ধান করে। যেমন আমি ছোটবেলায় নানীর কোলে উঠে তার নতুন শাড়ির ঘ্রাণ পেতাম। যা আজও আমি খুজে ফিরি। আমরা অসাম্প্রদায়িক ও গ্রাম বাংলার ধান মাড়াই চেতনায় বিশ্বাসী। আমরা বাস করি সুন্দরকে ঘিরে। সকল অসুন্দরকে ভেদ করে এগিয়ে যেতে হবে- এই হোক পহেলা বৈশাখের অঙ্গীকার।’’ 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান বলেন, পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান সব ধর্ম, বর্ণ ও পেশার মানুষকে এক সেতুবন্ধনে আবদ্ধ করেছে। এটা বাঙালিয়ানার বন্ধন, প্রেমের বন্ধন। নিজেকে নতুন করে সাজাবার বন্ধন। বৈশাখী উৎসব উদযাপনে শহর বা গ্রাম বলে কিছু নেই। সকলেই যার যার অবস্থান হতে প্রাণের উৎসবে, প্রাণের মেলায় মিলিত হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিসি ড. রাশিদ আসকারী বলেন, সংস্কৃতি হচ্ছে বেগবান, যা চর্চার বিষয়। এই চর্চা হয় পহেলা বৈশাখের সার্বজনীন উৎসব বর্ষবরণের মধ্যে দিয়ে। পহেলা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণের উৎসব, যেখানে ভেদাভেদ ও বিভাজন নেই। সকল ধর্ম, বর্ণ, পেশার মানুষ এই দিনে সম্প্রীতির বন্ধনে মেতে উঠে। 

তিনি আরো বলেন, ‘‘সমাজ ও সভ্যতার বিনাশ সৃষ্টিকারী অপ-সংস্কৃতির কারণে যেন দেশীয় সংস্কৃতির ক্ষতি সাধন না হয়, সেই দিকে সকলকে খেয়াল রাখতে হবে। কোনো অপশক্তি, সাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসীরা যেন মাথা তুলতে না পারে। তাদের আমরা অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক চেতনায় রুখে দেবো।’’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও বিভাগ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে তিন দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দুপুর ৩টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।



রাইজিংবিডি/কুষ্টিয়া/১৪ এপ্রিল ২০১৯/শাহাব উদ্দীন ওয়াসিম/বকুল

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge