ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৫ মে ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-১৮ ৩:১৮:১০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-০৮ ৯:০৮:৫৬ এএম

রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস বন্ধ হলেও বন্ধ হয়নি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়। চলাচলকারী বেশির ভাগ বাস আসনের অতিরিক্ত দাঁড়ানো যাত্রী নিলেও বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়া নেয়নি। লোকাল হিসেবে চলাচল করলেও বাসগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ফলে সিটিং সার্ভিস বন্ধ করা হলেও তাতে যাত্রী সাধারণের উপকার হচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, সিটিং সার্ভিস নামে চলাচলকারী প্রায় সব বাস-মিনিবাসই লোকাল বাসের মতো যাত্রী তুলছে যত্রতত্র। তবে ভাড়া আদায় করেছে আগের মতোই। এ নিয়ে বাসচালক, কন্ডাক্টর, হেলপারের সঙ্গে যাত্রীদের বচসা, হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। পরিবহণ শ্রমিকদের হাতে মারধরেরও শিকার হয়েছেন কেউ কেউ। আর বাসে অতিরিক্ত যাত্রী তোলায় সৃষ্ট ভিড়ের কারণে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন নারী, শিশুসহ অন্যান্য যাত্রী।

ঢাকা মহানগরীতে গণপরিবহনে সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ অবস্থায় গত ৪ এপ্রিল সভা শেষে ১৬ এপ্রিল রোববার থেকে বাস-মিনিবাসের সিটিং, গেটলক ও স্পেশাল সার্ভিস ব্যবস্থা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় বাস-মিনিবাস মালিকদের সংগঠন ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি। বিআরটিএর সঙ্গেও বৈঠক করেছে সমিতি। তাদের যুক্তি ছিল, মোটরযান আইনে সিটিং সার্ভিস বলে কিছু নেই। আর সিটিং সার্ভিস হওয়াতে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয় না, থামেও সীমিত কয়েকটি স্থানে। এর ফলে চাইলেও অনেকে বাসে উঠতে পারেন না। লোকজনের চলাচলের সুবিধার্থেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাসমালিকেরা সরকার নির্ধারিত ভাড়া নেবেন বলেও সিদ্ধান্ত নেন। অথচ বাস্তবে ঘটছে তার উল্টো। বলা হয়েছিল সিটিং বা গেটলক সার্ভিসের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আর আদায় করা যাবে না। কিন্তু দেখা প্রায় প্রতিটি বাসে মুড়ির টিনের মতো যাত্রী ভর্তি করে সিটিং সার্ভিসের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

সিটিং সার্ভিস বন্ধ হয়েছে কি না এবং সরকার নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসায়। কিন্তু এতে কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। বেশি ভাড়া আদায় যেমন বন্ধ হয়নি তেমনি আদালতের অভিযান এড়াতে অনেক বাস এখন চলাচল করছে না। ফলে গত দুই দিনে নগরবাসীর দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।

বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। আমরা আশা করব যাত্রীস্বার্থ বিবেচনা করে নগরীর বাস সার্ভিস যাতে যাত্রীবান্ধব হয় সে ব্যাপারে সরকার যথাযথ উদ্যোগ নেবে। সিটিং সার্ভিসের নামে যাত্রী হয়রানি বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু সিটিং সার্ভিস বন্ধ করা নয়, ফিটনেস সনদবিহীন সব ধরনের যান চলাচলে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করতে হবে।

পাশাপাশি যেমন ইচ্ছা ভাড়া আদায় বন্ধ করাই শুধু নয়, যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধেও পদক্ষেপ নিতে হবে। দেখা গেছে রাজধানীতে যানজটের জন্য অনেকাংশে দায়ী ব্যস্ত সড়কে বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা ও নামানো। । এ ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশকে আরো তৎপর হতে হবে।  আমরা চাই পরিবহন খাতের নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা বন্ধ এবং যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন হোক।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ এপ্রিল ২০১৭/আলী নওশের

Walton Laptop
 
   
Walton AC