ঢাকা, শুক্রবার, ১ পৌষ ১৪২৪, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

বন্ধ করতে হবে পাহাড় কাটা আর বৃক্ষ নিধন

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-১৭ ১২:০৯:০৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৭-৩০ ৭:৫৩:০৫ পিএম

পাহাড়ে আবারো ধস, আবারো কান্নার রোল। গত ১৩ জুন ভয়াবহ পাহাড়ধসে তিন পার্বত্য জেলা এবং  চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণ ঝরে গেল। নিহতদের মধ্যে দুই কর্মকর্তাসহ চার সেনাসদস্যও রয়েছেন, যারা উদ্ধার তৎপরতা চালাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। পাহাড়ের মাটির নিচে বিলীন হয়ে গেছে অনেক বাড়িঘর, গাছপালা।  আমরা এ ঘটনায় গভীর শোক এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাই।

এর আগে ২০০৭ সালে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধ্বসে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। প্রশ্ন হচ্ছে এটি কি শুধু প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা, না কি মানুষেরও দায় আছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, অতি বৃষ্টি ও সে সঙ্গে পাহাড়ে অপরিকল্পিত বসতির কারণেই মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে। তবে পাহাড় ধসের অন্যতম কারণ হলো অবৈধভাবে পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ের গাছপালা কেটে ফেলা। দুর্বৃত্ত ঠিকাদাররা অবৈধভাবে পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যায় বিপুল পরিমাণে। পাশাপাশি পাহাড়ের বন কেটে উজাড় করা হচ্ছে দেদারসে।

গত ৩৫ থেকে ৪০ বছরে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে জনসংখ্যা দ্বিগুণে পরিণত হয়েছে। বাঙালি বসতি গড়ে উঠেছে। আর সেটি করতে তারা পাহাড় ও গাছ দুই-ই ধ্বংস করেছে। ফলে পাহাড়ের গায়ে যে সবুজের সমারোহ ছিল তা হারিয়ে গেছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়েছে। গাছ তার শেকড়ের সাহায্যে মাটি ধরে রাখে। মাটিকে জমাটবদ্ধ থাকতে সাহায্য করে। আসবাবপত্র তৈরির জন্য কাঠ, জ্বালানি কাঠ , খুঁটি তৈরির কাঠ -এ সবের জন্য উজাড় করে দেওয়া হচ্ছে পাহাড়ের বৃক্ষসম্পদ। ফলে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে পাহাড়। যে কারণে পাহাড় ধসে পড়ছে। বৃষ্টি হলে এ ধস আরো বেড়ে যায়।

লাখ লাখ বছরের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে। আর সে পাহাড় কেটে আমরা নিজেদের সর্বনাশ নিজেরাই ডেকে আনছি। অধিক মাত্রায় কার্বন নিঃসরণের জন্য যেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ (বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়) ইত্যাদি হচ্ছে- সেসবে আমাদের দায় কম। তবে পাহাড়ধসের দায় পুরোপুরি আমাদের নিজেদের। এ দায় অন্য কারও ঘাড়ে চাপানোর সুযোগ নেই। সুতরাং পাহাড় রক্ষার জন্য আমাদের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। গাছ কাটা, পাহাড় কাটা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। একই সঙ্গে পার্বত্য এলাকায় অবৈধ স্থাপনার প্রক্রিয়ার লাগাম টেনে ধরতে হবে।

বন্ধ করতে হবে পাহাড় কাটা আর বৃক্ষ নিধন।  যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে । যদিও জীবনের সঠিক কোন ক্ষতিপূরণ হয় না। তবু দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া দরিদ্র মানুষদের যদি অর্থ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে তাদের দুর্বিষহ অবস্থা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। আমরা নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানাই।

যেহেতু বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসের আশংকা থাকে তাই ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় বসবাসকারী মানুষজনকে আগেই সরিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে অধিবাসীদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেলে প্রাণহানি ঘটবে না। তবে একাজ করতে হবে শুকনো মৌসুমে।

বাংলাদেশ এমনিতেই ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে। পাহাড় কেটে ফেলে ভূমিধস তো বটেই, ভূমিকম্পকেও আহ্বান জানানো হচ্ছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যে জলাবদ্ধতা সাম্প্রতিককালে প্রকট হয়ে উঠছে, তার কারণও পাহাড়বিনাশী তৎপরতা। এখনই সতর্ক না হলে আমাদের আরও বিপর্যয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে যে কোনো মূল্যে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাহাড় কাটার সঙ্গে যারা জড়িত তারা যেই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ জুন ২০১৭/আলী নওশের

Walton
 
   
Marcel